শিরোনাম
জাগ্রত তারুণ্যের ব্রান্ড অ্যাম্বাসিডর হলো মিস ওয়ার্ল্ডের চমক কলারোয়ার কেড়াগাছি ইউনিয়নকে উন্নয়নের স্বার্থে মারুফ হোসেনের কোন বিকল্প নেই ত্রিশালে তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের কমিটি গঠন ঘাটাইলে লেবু চাষিদের সমবায় সমিতির উদ্বোধন কাপাসিয়া ঈদগাহ্ উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ শুরু নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী মামুনের লিফলেট বিতরণ কাপাসিয়া পাইলটিয়ান বন্ধু-’৮৬ সাইফুল ইসলাম স্মরণে আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত কাপাসিয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে নদীতে ডুবে শিক্ষকের মৃত্যু নান্দাইলে কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার কৃষি সামগ্রী বিতরণ ময়মনসিংহে শহীদ ফিরোজ ও জাহাঙ্গির স্মরণে আলোচনা অনুষ্ঠিত।।শহীদ ফিরোজ ও জাহাঙ্গীরের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা
রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন

অজান্তে ভাই-বোনের বিবাহ হবে কি? ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’ সম্পর্কে কী বলছেন আলেমরা?

রিপোটারের নাম / ১৩১৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

দেশে ব্লাডব্যাংকের মত করে যাত্রা শুরু করেছে ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’। যে মায়েদের সন্তান জন্মের পর মারা গেছে বা নিজের সন্তানকে খাওয়ানোর পরও মায়ের বুকে অতিরিক্ত দুধ আছে, সেই মায়েরা হিউম্যান মিল্ক ব্যাংকে দুধ সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন। যে নবজাতকের জন্মের পরই মা মারা গেছেন বা যাদের মা অসুস্থতার জন্য দুধ খাওয়াতে পারছেন না, সেই নবজাতকরা এ দুধ খেতে পারবে। এটি একটি বিনামূল্যের পরিসেবা।

হিউম্যান মিল্ক ব্যাংকের উদ্যোগটি ঢাকা জেলার মাতুয়াইলের শিশু মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইসিএমএইচ) নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্র (স্ক্যানো) এবং নবজাতক আইসিইউর (এনআইসিইউ) নিজস্ব উদ্যোগ। বেসরকারি আর্থিক সহায়তায় ব্যাংকটি স্থাপন করা হয়েছে।

আইসিএমএইচ ক্যাঙারু মাদার কেয়ারে মা ছাড়া খালা, নানি বা অন্যদের সঙ্গে যে নবজাতকদের রাখা হচ্ছে, তারাও এই দুধ খেতে পারবে। স্ক্যানো ও এনআইসিইউতে থাকা অপরিণত বয়সে জন্ম নেয়া ও অসুস্থ নবজাতকদের সংরক্ষণ করে রাখা দুধ খাওয়ানো হবে। এছাড়াও দত্তক নেয়া সন্তানের অভিভাবকরা এখান থেকে দুধ নিয়ে খাওয়াতে পারবেন।

মা হারা কিংবা অসুস্থ মায়েদের সন্তানের জীবন বাঁচানোর জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকে। আবার এ নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠেছে স্যোশাল মিডিয়ায়। জায়েজ নাজায়েজের প্রশ্নও দেখা দিয়েছে মানুষের মনে। এ নিয়ে দেশের বিজ্ঞ আলেমদের মতামত তুলে ধরা হলো-

শরীফ মুহাম্মদ: দুধ ভাই-বোনের সম্পর্ক হলো আপন ভাই-বোনের মতো। আপন ভাই-বোনের মধ্যে যেমন দাম্পত্য সম্পর্ক চলতে পারে না, ঠিক তেমনি দুধ ভাই-বোনের মধ্যেও চলতে পারে না। এ জন্য কোনো এক মায়ের দুধ যখন ভিন্ন কোনো এক/দুই বা ততোধিক মায়ের সন্তান পান করে, তারা পরস্পরে আপন ভাই-বোনের সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে যায়। এ কারণেই এক মায়ের সন্তান যখন অন্য কোনো মায়ের দুধ পান করে সেটা মনে রাখতে হয় এবং এ বিষয়টি সম্পর্কে জানাশোনা থাকতে হয়। যেন দুধ সম্পর্কের বিষয়টি জানা না থাকায় ‘আপন’ ভাই-বোনের ভেতরে বৈবাহিক সম্পর্ক ঘটে যাওয়ার মতো ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা না ঘটে।

হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক বা মায়েদের দুধের সংগ্রহশালা চালু করার মূল সমস্যাটা এখানেই। এতে ‘আপন’ ভাই-বোনের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পথ খুলে যায়। কারণ এই মিল্ক ব্যাংকে একদিকে বহু মায়ের দুধ জমা হয়, অপরদিকে বহু ভিন্ন মায়ের সন্তান এই দুধ পান করে। যাদের পরস্পরের মধ্যে কোনো পরিচিতি থাকার সুযোগ ঘটে না, দরকারও মনে করা হয় না, সম্ভবও হয় না। কার দুধ কে পান করলো, কে কার দুধ ভাই-বোন হলো-এটা থাকে পুরোপুরি অজ্ঞাত।

একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায়, মিল্ক ব্যাংকের এই প্রক্রিয়াটি কত ভয়ঙ্কর রকম বিপদজনক! কী ভয়াবহ বিপর্যয় তৈরি করতে পারে!

এ বিষয়টি নিয়ে তাই মিল্ক ব্যাংক বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের সঙ্গে খোলামেলা, আন্তরিক ও প্রামাণ্য আলোচনা হতে পারে প্রথম পদক্ষেপ। এমনকি এ বিষয়ে কাছাকাছি সহজ বিকল্পের পরামর্শও তাদের সামনে পেশ করা যায়। এতে যদি কাজ না হয় তবে এ বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী ধাপে আরো জোরালো ও শক্ত পদক্ষেপের দিকে যাওয়া যায়। কোনো অবস্থাতেই একটি মুসলিম সমাজে, মুসলিম দেশে এমন ঢালাওভাবে মায়ের দুধের সংগ্রহশালা চলতে দেওয়া উচিত হবে না।

প্রচলিত দুধ ব্যাংকের একটি বিকল্প:হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক ধারণা ও প্রয়োজনীয়তার বেশ কিছু বিকল্প থাকতে পারে। এখানে একটি বিকল্পের কথা তুলে ধরছি।

কোনো একটি হাসপাতালে অথবা ভিন্ন ভিন্ন বহু হাসপাতলে দুধ দানকারী মায়েদের ( যেসব মায়ের দুধ নবজাতকের মৃত্যুসহ অন্য কোনো কারণে জমে যাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে এবং তিনি অন্য কোনো মায়ের সন্তান কে তার দুধ দান করতে চাচ্ছেন) একটি তালিকা- ঠিকানা ও ফোন নাম্বারসহ রক্ষা করা যায়। অপরদিকে যেসব নবজাতক কোনো কারণে নিজের আপন মায়ের দুধ পাচ্ছে না, হাসপাতালে যোগাযোগ করে দুধ দানকারী নির্দিষ্ট কোনো এক বা একাধিক মায়ের দুধ তাকে পান করানো যায়। দুধদানকারী মা এবং দুধ পানকারী অপর মায়ের সন্তান বা তার অভিভাবকের মধ্যে পরস্পর জানাশোনা ও পরিচিতি রক্ষার ব্যবস্থা করা যায়। এতে ঢালাওভাবে অজ্ঞাত অবস্থায় যেকোনো মায়ের দুধ অপর যেকোনো সন্তান পান করার ফলে পরবর্তী সময়ে যে ভয়াবহ সংকট তৈরি হওয়া আশঙ্কা থাকে, তা থেকে মুক্ত থাকা যায়।

এই তালিকার ভিত্তিতে সরাসরি দুধ দানকারী মায়ের কাছে গিয়েও অপর মায়ের সন্তানের দুধ পান করার ব্যবস্থা করা যায়, অথবা কৃত্রিম উপায়ে দুধ দানকারী মায়ের দুধ সংগ্রহ করে ওই সন্তানের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। উভয়টাই সম্ভব। এ প্রক্রিয়ায় একটু বাড়তি শ্রম যাবে, কিন্তু দুধ সম্পর্কজাত পবিত্র বন্ধনের পরিচিতি ও পবিত্রতাটা রক্ষা করা যাবে। এবং এ বিষয়ক ভয়াবহ বিপদজ্জনক সংকট থেকে বাঁচা যাবে।

এখানে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিকল্পের কথা পেশ করা হলো। বিজ্ঞ মুফতি সাহেবগণ এ বিষয়ক বিভিন্ন বিকল্প ও সুরত নিশ্চয়ই জানেন। তারা অবশ্যই আরো বিভিন্ন প্রস্তাব পেশ করতে পারবেন।

‘মানবকল্যাণের’ নামে যেকোনো ভয়াবহ ও বিপদজনক হারাম সমাজে চালু হলে কেউ কেউ বিকল্প কোনো সুরত পেশ করতে না পারলে সতর্ককারীদের চুপ থাকতে বলেন। মুসলমানের জন্য এটা একদমই অসমীচীন। ওইসব হারামের পথে না যাওয়ার বিকল্প পাওয়া গেলে তো ভালো। বিকল্প না পাওয়া গেলেও ওই বিপদজনক হারামের পক্ষে অবস্থান নেওয়াটা মারাত্মক একটা ব্যাপার। খুব শান্তভাবে পুরো বিষয়টি ভেবে চিন্তে দেখার অনুরোধ রইলো।

এ বিষয়ে কথা হয় ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা মাদরাসার মহাপরিচালক, তানজিমুল মাদারিসিল আরাবিয়া বোর্ডের চেয়ারম্যান মুফতি আরশাদ রাহমানীর সঙ্গে।

ইসলামের দৃষ্টিতে ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’-এর বৈধতা আছে কিনা- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু এটা দুধ পানের বিষয়, এ নিয়ে ইসলামে নির্দিষ্ট মাসয়ালা রয়েছে। মৌলিকভাবে এক মায়ের দুধ অন্য মায়ের শিশু খাওয়া জায়েজ। মায়ের দুধ  যে কোনো প্রক্রিয়ায় বের করে অন্য শিশুকে খাওয়ানো জায়েজ।

‘তবে ইসলামে রক্তের সম্পর্ক এবং দুধ ভাই বোনের সম্পর্ক অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপন ভাই বোনের মধ্যে যেমন বিয়ে করা যায় না তেমনি দুধ ভাই বোনের মধ্যেও বিয়ে করা ইসলামে নিষিদ্ধ।’

‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংকের’ দুধ প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাবে। এ ক্ষেত্রে কোন মায়ের দুধ কোন শিশু খাচ্ছে এটা জানা যাবে কিনা তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। যদি জানা না যায় তাহলে একদিকে যেমন ইসলামে দুধ মায়ের যে গুরুত্ব সেটা ক্ষুণ্ন হবে। অন্যদিকে এমন হতে পারে পরবর্তি সময়ে দুধ ভাই বোনের মধ্যে বিয়ে হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

‘কোন মায়ের দুধ কোন শিশু খাচ্ছে এটা যদি জানা যায় এবং দুই পরিবারের মধ্যে এ বিষয়ে সতর্ক থাকেন তাহলে সমস্যা নেই। তবে বাস্তবে সবাই কতটা সতর্ক থাকবে সেটা দেখার বিষয়। এটাকে নাজায়েজ বলেই গণ্য করা হবে।

চট্টগামের ওমর গনি এমইএস কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আ. ফ. ম খালিদ হোসাইন এক বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে কয়েকদিন আগে হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক চালুু হয়েছে। এখানে যেসব মায়েদের বাচ্চা মারা দিয়েছে বা যেসব মায়েদের দুধ বেশি তারা এখানে দুধ জমা দিবে। আর যেসব শিশুর মা নেই তাদের কে এখান থেকে দুধ নিয়ে খাওয়ানো যাবে।

তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে হিউম্যান মিল্ক ব্যাংকের কার্যক্রম ভাল মনে হয়। তবে এটা ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ। কেননা এখানে সব মায়ের দুধ একসাথে রাখা হবে। কোন মায়ের দুধ কোন শিশু খাবে তা জানা যাবে না। হিউম্যান মিল্ক ব্যাংকের দুধ পান করার কারণে দুধ ভাই বোনের মধ্যে বিয়ে হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে দুধ ভাই বোনের মধ্যে বিয়ে হতে পারে না, এটা নাজায়েজ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামিয়া কারীমিয়া আবারিয়া রামপুরার ইফতা বিভাগের প্রধান মুফতি জাবের হোসাইন বলেছেন, বিশ্বের বড় বড় আলেমগন মিল্ক ব্যাংককে নাজায়েজ বলেছেন। তার কারণ, এখানে কার দুধ কে খাচ্ছে এটা জানা যায় না। ইসলামে দুধ ভাইয়ের সম্পর্ক রক্তের সম্পর্কের মতো। কার দুধ কে খাচ্ছে এটা যদি না জানা কারণে দুধ ভাই বোনের মধ্যে বিয়ে হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই উদ্যোগের কারণে দেশের অসংখ্য মুসলিম ভবিষ্যতে হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার সমূহ আশংকা রয়েছে।

তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশে নতুন হলেও বহির্বিশ্বে বেশ পুরানো। সৌদি আরব, দুবাই, মিশরসহ বিশ্বের অনেক দেশে এ বিষয়ে আলেমদের কনফারেন্স হয়েছে। সেসব কনফারেন্সে বর্তমান যুগের বিদগ্ধ আলেম ও গবেষকরা মিল্ক ব্যাংক থেকে দুধ খাওয়ার বিষয়কে নিষেধ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, তাছাড়া এর কারণে ইসলামে দুধ মায়ের মর্যাদা তা ক্ষুণ্ন হয়। কেননা এখানে দুধ দাতা এবং দুধ গ্রহিতার মধ্যে কোন সম্পর্ক বা কোন যোগাযোগ থাকে না। তবে যদি দুধ দাতা এবং দুধ গ্রহিতার মধ্যে কোন সম্পর্ক বা যোগাযোগ থাকে তাহলে সমস্যা নেই। কার দুধ কে খাচ্ছে এটা যদি এর তালিকা সংরক্ষণ করা যায় তাহলে তা জায়েজ। এটা শুধু ব্যক্তিগত ভাবেই সম্ভব, কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এটা করলে তালিকা সংরক্ষন করা সম্ভব হয় না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪