আত্মঘাতী পথ থেকে বাঁচতে কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের বিকল্প নেই:

0
78

করোনা সংক্রমিত রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে তাতে নিজেই আক্রান্ত হন ইতালির ৩৪ বছর বয়সী এক নার্স। সংক্রমণ থেকে নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে ড্যানিয়েল তেরেজ্জি নামে ঐ নার্স আত্মহত্যা করেন গত ২৬ মার্চ।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(WHO)-এর মতে প্রতি বছর সারা বিশ্বে যে সব কারণে মানুষের মৃত্যু ঘটে তার মধ্যে আত্মহত্যা ত্রয়োদশতম প্রধান কারণ। এছাড়া প্রতি বছর ১০ লাখ মানুষ মারা যান এই আত্মহত্যায়। দেশে প্রতিদিন ত্রিশজন মানুষ আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে।

মারকাযুদ্দাওয়া আল ইসলামিয়ার ইফতা বিভাগের শিক্ষক মাওলানা আনোয়ার হুসাইন বলছেন, আত্মহত্যায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে সবার কারণ এক হয় না, তবে এই মুত্যুর পেছনে হতাশা আসল কারণ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

আত্মহত্যা কবিরা গুনাহের মধ্যে অন্যতম। অভিশপ্ত শয়তান মানুষকে সব সময় গুণাহের দিকে প্ররোচিত করে, বিশেষত মানুষের একাকিত্বের সময় শয়তান মানুষকে গুনাহে লিপ্ত করতে তার সব ধরণের কৌশল প্রয়োগ করে থাকে। আর আত্মহত্যার মতো কবিরা গুনাহটি মানুষ সাধারণত সবার অগোচোরে গোপনে করে থাকে।

তওবা বনী আদমের পাপ থেকে মুক্তির পথ। তবে তওবা করা সম্ভব হয় মানুষ বেঁচে থাকলে, কিন্তু আত্মহত্যা এমন পাপ যার পরে তওবার আর কোন সুযোগ থাকে না। এছাড়া এ পাপের প্রতি নিরুৎসাহিত করতে ও ঘৃণা জানাতে সমাজের বরেণ্য আলেমদের আত্মহত্যাকারীদের জানাজা না পড়ানোর বিধান দেওয়া হয়েছে।

করো মাঝে এধরণের আত্মঘাতী প্রবণতা দেখা দিলে সে বিশেষজ্ঞ আলেমদের শরণাপন্ন হতে পারে। এছাড়া পরামর্শ নিতে পারে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের, বলছিলেন মাওলানা আনোয়ার হোসাইন।

মৃত্যুর পরেও শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় বিবেচিত হয় এমন আত্মঘাতী পথ থেকে বাঁচতে কঠোর সর্তকতা অবলম্বনের বিকল্প নেই, বলছিলেন মাওলানা আনোয়ার হুসাইন।এছাড়া এমন মৃত্যু থেকে বাঁচতে সকাল সন্ধ্যার মাসনূন দোয়াগুলো আমাদের সহায়তা করতে পারে বলে মত দিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে লকডাউনের সময় হতাশা থেকে অনেকে এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে কথা উঠছে। তাই এই সময় হতাশা ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হতে নিজেকে সময় দিন, পরিবারের সাথে সময় কাটান, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন নিজের কথা,বিশেষত একাকীত্ব ছেড়ে প্রিয়জনদের ভিড়ে থাকুন।

“এবং তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাকো না কেন”; “এবং তিনি সর্বশ্রতা, সর্বদ্রষ্টা”; ” যারা ঈমান এনেছে তাদের অভিভাবক আল্লাহ”; “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সবরকারীদের সাথে আছেন”–যে ব্যক্তি পবিত্র কোরআনের এই সমস্ত দৃঢ় কথা জানে ও বিশ্বাস করে, তার জন্য মনোবল চাঙ্গা রাখা নিঃসন্দেহে সহজ।

কোন দুনিয়াবি লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে আমরা অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ি। কিন্তু আমাদের তাকদিরে ঈমান মজবুত হলে এমনটি হওয়ার কথা নয়। কেননা একজন মুসলিম বিশ্বাস করে, আল্লাহ তাআলা তার ভাগ্যে/তাকদিরে যা লিখেছেন তাই ঘটে; যা তার তাকদিরে নেই তা সে কস্মিনকালেও পেতে পারে না। সুতরাং আল্লাহ তাআলা যা দেন ও যতটুকু দেন তাতে আল্লাহর প্রতি রাজি থাকা আবশ্যক। অমুক জিনিস পেতেই হবে, হাত ছাড়া হলে চলবেই না–এমন মানসিকতা মুসলিমের নয়। বরং লক্ষ্য হবে তার চিরস্থায়ী আখিরাত ও আল্লাহ তাআলার রেজা। দুনিয়ার কোন উপকরণ–যা নিতান্তই ক্ষণস্থায়ী, আখিরাতে জান্নাতের নিয়ামতের তুলনায় বেদামী ও ধোঁকা–এর অবর্তমানে হতাশ হওয়া বোকামি ছাড়া আর কী?

লেখক – মোঃ আবু বকর সিদ্দীক
সহকারী অধ্যাপক,
ইংরেজি বিভাগ
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here