রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০১ পূর্বাহ্ন

আপনার কুরবানি কিভাবে করবেন?

রিপোটারের নাম / ৯৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০

মুফতি ইবরাহীম আনোয়ারী: হযরত আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, কুরবানির দিন পশু কুরবানির চাইতে আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় আর কোন আমল, নেই। কেয়ামতের দিন জবেহ করা পশুকে তার শিং ও খুরসহ হাজির করা হবে। কুরবানির জন্তুর রক্ত জমিনে পড়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে কবুল হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা খোলা মনে এবং সন্তুষ্টি চিত্তে কুরবানি কর। (মিশকাত শরীফ) হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে যে, কুরবানির মাংশ তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজ পরিবারের জন্য এক ভাগ আত্মীয় স্বজনের জন্য এবং এক ভাগ ফকির মিসকিনদের কে দান করা মুস্তাহাব। হ্যাঁ যদি কারো পরিবারে লোক বেশী হয়, তাহলে সম্প‚র্ণ মাংশ নিজেও রাখতে পারবে। আর যদি কয়েকজন শরিকদার মিলে কুরবানি করে, তাহলে মাংশ ওজন করে ভাগ করতে হবে। শুধু অনুমাণ করে ভাগ করা জায়েয হবে না। হেদায়া গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, ঘরের কাজের বুয়া বা চাকর-চাকরানিকে বা মাংশ কাটায় সাহায্যকারীকে তার কাজের বেতন হিসেবে কুরবানির গোস্ত দেওয়া জায়েয নেই। কুরবানির মাংশ দিলেও বেতন অতিরিক্ত দিতে হবে। ফতোয়ায়ে হিন্দিয়াতে এও আছে যে, কুরবানিদাতা যদি শুধু আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে কুরবানি করে, তাহলে কুরবানির মাংশ দিয়ে বিবাহ, জিয়াফত ইত্যাদি খাওয়ানো জায়েয হবে। আর যদি শুধু বিয়েতে খাওয়ানোর উদ্দেশ্যেই কুরবানি করে তাহলে তার কুরবানি সহিহ হবে না এবং অমুসলিমকে কুরবানির মাংশ দেওয়া জায়েয আছে।
ক্বাযা কুরবানি আদায়ের পদ্ধতি হচ্ছে, আপনার উপর কুরবানি ওয়াজিব ছিল কিন্তু আপনি কোনো কারণ বশত কুরবানি করতে পারেননি, এভাবে কুরবানির দিনসম‚হ অতিবাহিত হয়ে গেল। পরে আপনার একটি ছাগল বা একটি ভেড়ার ম‚ল্য সদকা করে দিতে হবে। আর যদি এমন হয় যে, পশু ক্রয় করেছেন কিন্তু জবেহ করতে পারেননি, তখন আপনার করণীয় হল, ক্রয় করা পশু জবেহ করা ব্যতিত সদকা করে দেওয়া। আর যদি একান্ত জবেহ করেও ফেলেন তখন উক্ত পশুর মাংশ ফকির-মিসকিনদের মাঝে বন্টন করে দিবেন। তা কোনো ধনী ব্যক্তিকে খাওয়ানো যাবে না। কুরবানির পশু হারিয়ে গেলে করনীয় হচ্ছে, কুরবানি দাতা যদি ধনী হয় এবং কুরবানির দিনও বাকি থাকে, তাহলে তার করণীয় হলো অন্য একটি জন্তু ক্রয় করে কুরবানি করা। আর যদি কুরবানির দিনসম‚হ অতিক্রম হয়ে যায়, তাহলে তার ওপর উক্ত জন্তুর ম‚ল্য সদকা করা ওয়াজিব।
পশু জবেহ করার সুন্নত পদ্ধতি হচ্ছে, সর্বপ্রথম পশুকে জবেহের প‚র্বে পানি পান করিয়ে জবেহের স্থানে স্বযতেœ নিয়ে যাওয়া। কেবলামুখি করে শোয়ায়ে নিজ হাতে জবেহ করা, যদি নিজে জবেহ করতে না পারে, তখন কাউকে দিয়ে জবেহ করালেও নিজে জবেহের স্থানে উপস্থিত থাকা এবং জবেহ করার সময় জবেহকারী ও উপস্থিত সবাই “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” বলে তাকবির দেওয়া, তবে জবেহকারীর বাধ্যতাম‚লক তাকবির বলতে হবে। জবেহ করার সময় শরিকদারের নাম বলা জরুরি নয় বরং কুরবানি দাতাগণের পক্ষ থেকে জবেহ করার নিয়ত জরুরি, নাম লিখে নেওয়াও আবশ্যক নয়। জবেহতে চারটি রগ কর্তন করা জরুরী। এর যে কোন তিনটি কর্তন হলেও জবেহ শুদ্ধ হয়ে যাবে, রগগুলি হল, শ্বাস নালি, খাদ্য নালি আর দুটি শাহ রগ। (এমদাদুল ফতোয়া)
কুরআন হাদিছ ও ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবাদি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, জবেহতে কিছু কাজ মাকরূহ, অশোভনীয়, যেমন পশুকে জবেহ করার প‚র্বে পিপাসিত অবস্থায় রাখা। পশুকে অযতেœ টেনে হেঁচড়ে জবেহের স্থানে নিয়ে আসা। পশুকে শোয়ানোর পর জবেহ করতে দেরি করা। পশুকে শোয়াতে অধিক টানা হেঁচড়া করা। ধারালোহীন ছুরি দিয়ে জবেহ করা। পশুর সামনে ছুরি ধার করা এবং শোয়ানোর পর ছুরি ধার দেওয়া। এক পশুকে অন্য পশুর সামনে জবেহ করা। জবেহকারী কেবলা মুখি হয়ে না দাঁড়ানো। জবেহের পর পশু নিস্তেজ হওয়ার প‚র্বে পা ইত্যাদি কর্তন শুরু করা। জবেহের সময় ইচ্ছাকৃত ভাবে পশুর মাথা পৃথক করে ফেলা। রাতের বেলায় কুরবানির জন্তু জবেহ করা মাকরুহে তানজীহি। তাড়াতাড়ি জন্তুর প্রাণ বের হওয়ার জন্য জবেহের স্থানে খোচা দেওয়া জায়েয নেই। কুরবানির চামড়া জবেহের প‚বের্ই বিক্রি করা মাকরুহ।
কুরবানির চামড়ার বিষয়ে ফতোয়ায়ে রশিদিয়া ও বাদায়ে ছানায়েতে উল্লেখ আছে যে, কুরবানির চামড়া নিজেও ব্যবহার করতে পারবে। যেমন তা দিয়ে নিজের জন্য বসার গদি, জায়নামাজ, মোজা ও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বানাতে পারবে এবং অন্যকেও ম‚ল্যবিহীন হাদিয়া দিতে পারবে। তবে জেনে রাখা আবশ্যক, যদি চামড়া বিক্রি করা হয় তাহলে তার সম্প‚র্ণ ম‚ল্য গরিব মিসকিনদের মাঝে সদকা করা ওয়াজিব। চামড়া কোথায় দেওয়া উত্তম? এর উত্তর হচ্ছে, কুরবানির চামড়া দ¦ীনি মাদরাসার সদকা ফান্ডে দান করা উত্তম। কেননা, এতে দুই প্রকারের সওয়াব পাওয়া যায়, প্রথমত গরিবকে সাহায্য করার সওয়াব, দ্বিতীয়ত দীনি ইলমের প্রচার-প্রসারের সহযোগিতা করার সওয়াব। ওলামায়ে কেরাম ও মুফতি সাহেবগণ বলেন, দীনি মাদরাসায় চামড়া দেওয়ার কারণে উক্ত চামড়ার টাকা খেয়ে এতিম, মিসকিন ছাত্ররা পড়া-লেখা করে বড় আলেম ও মুফতি, মুহাদ্দিছ হবেন, এতে সে যে সমস্ত ছাত্রকে পড়াবেন অতপর তার ছাত্ররা আলেম হওয়ার পর যাদেরকে পড়াবেন সব ছওয়াবের এক অংশ ঐ প্রথম চামড়া দানকারীও পাবেন। আল্লাহ তায়ালা সকলের কুরবানি কবুল করুন। আমিন

খতিব ও সিনিয়র শিক্ষক- জামিয়া ইসলামিয়া বায়তুল করিম, চট্টগ্রাম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪