ইতালির হাসপাতালে মৃত রেমিট্যান্স ও করোনা যোদ্ধা নাজমুন নাহারের যথাযথ মূল্যায়ণে খন্দকার পেরা’র আকুতি

0
165

এফ এম কামাল হোসেন, এবি৭১.টিভি :

ইতালির হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে কাপাসিয়ার কৃতি সন্তান নার্স নাজমুন নাহার নিজেই আক্রান্ত হয়ে মারা যান। রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ এবং তার একমাত্র শিশু কন্যাকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা। তিনি নাজমুন নাহারকে জাতীয় বীর রেমিট্যান্স ও করোনা যোদ্ধা ঘোষনার দাবী জানান।
তিনি তাঁর ভেরিফাইড ফেইজবুক আইডিতে (Khandaker Azizur Rahman Pera) গত ২৪ জুন এবিষয়ে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ণ করপোরেশন (বিএডিসি) এর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের প্রাক্তন সফল মহাসচিব, প্রবীণ শ্রমিক নেতা পরোপকারী খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা বলেছেন, গাজীপুরের কাপাসিয়ার তরগাঁও গ্রামের ৪৫ বছর বয়সী নাজমুন নাহার ইতালিতে দীর্ঘদিন ধরে করোনা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে নিজেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৭ জুন মারা গেছেন। তার লাশ এখন পড়ে আছে ইতালির মর্গে। নিহতের একমাত্র শিশু কন্যা একাকি একটি ঘরে বন্দী অবস্থায় দিন কাটছে ইতালিতে। এদিকে স্বামী আটকা পড়ে আছেন ঢাকায়। মহান আল্লাহতালা রেমিট্যান্স ও করোণা যোদ্ধা মরহুমা নাজমুন্নাহার কে জান্নাত বাসী করুন। তার এ আত্মদান ও অবদানকে আপনার দরবারে কবুল করে নিন।
একজন নিবেদিত স্বাস্থ্য কর্মী হিসাবে নিশ্চয়ই তিনি অবগত ছিলেন যে, সর্বনাশা করোনা একটা প্রাণঘাতী সংক্রমণ ব্যাধি। আক্রান্তদের সংস্পর্শে বিস্তার লাভ করে বা সংক্রামিত হয়। যার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ( WHO Pre-cussion) হিসেবে উক্ত মরণব্যাধি থেকে নিজেকে সুরক্ষা করার জন্য অবশ্যই সামাজিকভাবে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে জনসাধারণকে চলাফেরা ও জীবন যাপন করতে হবে। এব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে বারবার নাগরিক সচেতনতা মূলক বুলেটিন প্রচার করছেন। তাই মরহুমা নাজমুন নাহার সাধারণ মানুষের চেয়ে এতদবিষয়ে অধিকতর ওয়াকিবহাল ছিলেন এবং স্বভাবতই থাকারও কথা। এতদসত্ত্বেও জীবন বাজি রেখে নির্ঘাত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে একজন সচেতন, কর্তব্য পরায়ন, মানব সেবার অতন্ত্র প্রহরী ও মহানুভবতার পরিচায়ক হিসেবে আক্রান্তদের অবিরত ও নিরবচ্ছিন্ন ভাবে পরিচর্যা অব্যাহত রেখেছেন। এতে নিজেই সংক্রামিত হয়ে সুদূর ইতালিতে একমাত্র ঔরসজাত অবুঝ সন্তানকে একাকী রেখে জীবনের তরে না ফেরার দেশে চলে গেলেন । (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন )। তিনি তার জীবন অবসান ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা যারা আল্লাহর বিশেষ রহমতে এখনও বেঁচে আছি তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে গেলেন যে, আল্লাহপাক মানবজাতিকে এ নশ্বর পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন ‘‘ত্যাগের জন্য -ভোগের জন্য নয়।’’ দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী রেমিট্যান্স ও করোনা যোদ্ধা নাজমুন নাহার বিশ্ববাসীকে অবিশ্বাস্যভাবে প্রমাণ করে গেলেন বাঙ্গালী জাতি বীরের জাতি। বাঙালি
জাতি পরোপকারী, বাঙ্গালী জাতি নীতিতে অটল অনঢ়, আত্মত্যাগী, বাঙ্গালী জাতি আপদে-বিপদে মহাপ্রলয়ে অসাধারণ কর্তব্যপরায়ণ। বাঙ্গালি জাতি মুসলমান হিসাবে ঈমানী দায়িত্ব পালনে আপোষহীন । নাজমুন নাহার তার জীবন উৎসর্গের মাধ্যমে রক্তের দামে কেনা বাংলা দেশের মান, সম্মান, ইজ্জত ও ঐতিহ্য বিশ্ববাসীর কাছে অবিশ্বাস্যভাবে মানবতার মানদন্ড বিচারে দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর করে গেলেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে মরহুমাকে অনুসরণ-অনুকরণ করার তৌফিক দান করুন।
আমি খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা কাপাসিয়ার একজন নগন্য লোক হিসেবে নিয়ম নীতি অনুসরণ পূর্বক কাপাসিয়ার প্রশাসনিক প্রধান স্থানীয় সাংসদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও পছন্দনীয় সহচর, সৎ, ন্যায় পরায়ন, কঠোর পরিশ্রমী, মানবতাবাদী,পরোপকারী, করিৎকর্মা, সুযোগ্য প্রশাসক, জনশ্রুতি রয়েছে যে, যিনি এরই মধ্যে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশেষ করে বৈশ্বিক করোনা নামক এক অদৃশ্য মরণব্যাধির হাত থেকে আল্লাহ পাকের রহমতে উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রচেষ্টায়, সংশ্লিষ্ট উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাত্মতায়, জাতির বিবেক করোনা যোদ্ধা সাংবাদিক ভাই-বোনদের মহানুভবতায় ও সংবাদ পরিবেশনায় কাপাসিয়ার সার্বিক উন্নয়নের জন্য মাননীয় সাংসদ কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে বিশেষ করে করোনার করুন থাবা থেকে জনগনকে সুরক্ষিত রাখার জন্য হাটে বাজারে, গ্রামে-গঞ্জে, পাড়ায় মহল্লায় প্রচারপত্র বিলি বণ্টন, মাইকিংয়ের মাধ্যমে রাত-দিন(Round-the-Clock) কাজে ব্যস্ত থাকতেন এবং গরীব, দু:খী খেটে খাওয়া দিন আনে দিন খায় মানুষের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণ, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের বাড়ি বাড়ি সশরীরে উপস্থিত হয়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করত: কতিপয় তথাকথিত জনপ্রতিনিধিকেও জেল-জরিমানা করতে কোন দ্বিধা করেননি। সেই আলোচিত ও ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাহী অফিসার জনাব মোসাঃ ইসমত আরাকে অনুরোধ করবো মাননীয় সাংসদের সাথে আলোচনা করত: পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যানদয় ও পরিষদের সম্মানিত সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতায় পরিষদের সভা আহ্বান করত: মরহুমা নাজমুন নাহারকে জাতীয় বীর রেমিট্যান্স ও করোনা যোদ্ধা ঘোষনা পুর্বক তার রেখে যাওয়া একমাত্র অবুঝ সন্তানের সার্বীক দায়িত্ব বহন, নাজমুন নাহারের মরদেহ ইতালি থেকে দেশে আনার ব্যবস্থা করনের নিমিত্তে মাননীয় সাংসদের মাধ্যমে সরকারকে অনরোধ করার লক্ষ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত(Resulation)গ্রহন করত:গাজীপুর জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসকের সুপারিশ সমেত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য।

তিনি আরো বলেন, আমার ও কাপাসিয়ার জনগনের বিশ্বাস একমাত্র আমাদের মাননীয় সাংসদের পক্ষেই সম্ভব সরকারের কাছ থেকে এ মানবিক দাবী আদায় ও কাপাসিয়ার জনগনের মুখে হাসি ফুঁটিয়ে গৌরবান্বিত করতে। তাতে একদিকে যেমনি সরকারের ভাবমূর্তি সুপ্রসন্ন হবে অন্যদিকে মরহুমার পরিবার উপকৃত হবে। এমনকি করোনা আক্রান্তদের সেবায় যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তারাও উৎসাহিত হবেন। আধুনিক ও মানবিক এক অনন্য কাপাসিয়া গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রবক্তা, নম্র, ভদ্র, শান্তশিষ্ট, দূরদর্শী, সদালাপি বিশিষ্ট লেখক/ প্রাবন্ধিক, মহিয়সী নারী, পরমতসহিষ্ণু ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ এর উত্তরসূরী মাননীয় সাংসদ বঙ্গতাজ কন্যা জনাব সিমিন হোসেন রিমি আপার সাহসী ভূমিকা ও সমর্থনই পারবে এ দাবী পূরন করতে। কারন যে কোন জনহিতকর দু:সাহসীক কর্মকাণ্ড সফল বাস্তবায়ন বর্তমান সময়ের পেক্ষাপটে তার পক্ষেই সম্ভব। যেমনি ভাবে তাঁর একচ্ছত্র নেতৃত্বে, কর্তৃত্ত্বে ও পরিচালনায় করোনা চলমান সময়ে কাপাসিয়ার দুর্দশাগ্রস্ত জনগণকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে তার দলীয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কাপাসিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি ও সাবেক সাংসদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র নেতৃত্বে মুল দল ও অঙ্গ সংগঠনের মাধ্যমে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেছেন। এমন কি তাঁর পরমতসহিষ্ণুতার কারণে অন্যতম বিরোধী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিবের তত্ত্বাবধানে কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতা কর্মীবৃন্দ অন্যান্য উপজেলার তুলনায় বাধাহীন ও শান্তিপুর্নভাবে কাপাসিয়ার আরেক জাতীয় নেতা তদানিন্তন তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ছদ্মাবরণে স্বৈরাচারী কায়দায় আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রধান, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের আপোষহীন দেশনেত্রী, তিন- তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের রক্ষা কবজ দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাসনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন, অগণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালন, বাক স্বাধীনতা হরণ সহ স্বৈরাচারকে পাকাপোক্ত করণের লক্ষ্যে এদেশের রাজনৈতিক নেতা তথা সাহিত্যিক, সাংবাদিক,বুদ্ধিজীবী এবং সুশীল সমাজকে নিঃশেষ করার পরিকল্পনা পাকা পোক্ত করেছিল জাতি যখন অসহায়, নিঃসহায়, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল তখন যিনি তদানিন্তন তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সেইসব স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন যার কারণে তার সন্তানসহ বারবার কারাবরণ করতে হয়েছিল। সেই আপসহীন কারা নির্যাতিত জননেতা মরহুম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আ.স.ম. হান্নান শাহ’র সুযোগ্য সন্তান বিএনপি’র কাপাসিয়া উপজেলার একমাত্র মুখপাত্র ও অভিভাবক কারা নির্যাতীত জননেতা শাহ রিয়াজুল হান্নান রিয়াজের নেতৃত্ত্বে, কর্তৃত্ত্বে, পরিচালনায় আমার ও দলীয় অন্যান্য সকল নেতৃবৃন্দের সহযোগীতায় শান্তিপূর্নভাবে উপজেলার এগারোটি ইউনিয়নে দুস্থদের মাঝে ত্রান বিতরণ করেছে এবংএখনও কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সক্ষম রয়েছেন।
আশা করি একই দারাবাহিকতায় অর্থাৎ মাননীয় সাংসদের হস্থক্ষেপে ও মহানুভবতায়ে উল্লেখিত মানবিক দাবিটি বাস্থবায়ন করলে করোনা যোদ্ধা মরহুমা নাজমুন নাহারের বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে। দোয়া করি মাননীয় সাংসদের পক্ষে সংশ্লিষ্ট কাজটি বাস্থবায়ন করতে আল্লাহ তার সহায় হউন এবং করোনা সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত সকলকে সুস্থতা দান পুর্বক মরহুমা নাজমুন নাহার সহ সকল মৃত ব্যক্তিকে জান্নাত বাসী করুন এবং সংশ্লিষ্ট শোকাহত পরিবারের সকলকে এহেন শোকের ভার বহনের তৌফিক দান ও এখনো পর্যন্ত আল্লাহর বিশেষ রহমতে আমরা যারা বেঁচে আছি তাদের সকল ভূল ভ্রান্তি ক্ষমা করে দিয়ে মরন ব্যাধি করোনার করুন থাবা থেকে হেফাজত করুন। আমিন। ‘সবাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকুন এবং পরিবার ও দেশকে ভালো রাখুন’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here