শিরোনাম
বাঘায় আগুনে পুড়ে অসহায় ৩টি পরিবার বাংলাদেশীদের করোনা ভ্যাক্সিনের জন্য দাম দিতে হবে ২৫ ডলার ১৫ সংসদ সদস্য করোনায় আক্রান্ত নেত্রকোনায় চিরকুমার প্র‍য়াত মুক্তিযোদ্ধা জহিরুলের মেয়ে পরিচয়ে ভাতা ও বোনাস সুবিধা নেয়ায় ভাতীজির নামে অভিযোগ ৯০ দশকের কিংবদন্তি ফুটবল তারকা ম্যারাডোনা আর নেই ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ, গুনীজনদের সন্মাননা প্রদান ও আলোনচসভার মধ্য দিয়ে পালিত হলো অনলাইন ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত দ্বীপ হাতিয়ার ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ২০২১ এসএসসি এইচএসসি নিয়ে শিক্ষার্থীর মতামত পাকিস্তানে ধর্ষনের বিরুদ্ধে কঠিন সাজার সুপারিশ তুরস্কে শুটিং নিয়ে সোস্যাল মাধ্যমে অনন্ত জলিল ভারতকে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ
বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন

কবিতার নাম: এগারো শতক জমি

রিপোটারের নাম / ২০৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

কবিতার নাম: এগারো শতক জম
কবিতার ছন্দ: অক্ষরবৃত্ত
মাত্রাবিন্যাস :৮/৮/৬
লোকেশন : সিমলা, নদী ভাঙ্গন
কবিতা রচয়িতা : মোঃ মুন্না হাবিব

বাড়িখানি মোর আজ পেয়ে গেলো নয়া সাজ করে দিলো নিজস্ব।
প্রিয় ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে আজ দিশেহারা ঘুরি সারা বিশ্ব।
দেশে দেশে ঘুরি আজ নিয়ে সন্ন্যাসীর সাজ দেখি কতো দৃশ্য।
প্রকৃতির কোল ঘেঁষে সাধু বেশে আজ আমি সকলের শিষ্য।
নামাজ ছিলো ঘর ছিলো কতো নারী নর ছিলো কতো স্মৃতি।
এগারো শতক বাড়ি গাছ ছিলো সারি সারি ছিলো প্রেম প্রীতি।
আঠারো বছর ধরে থেকেছি সামনে ঘরে মনে পরে যায়।
গাছে গাছে ফুল-ফল পুকুরেতে ছিলো জল চলে গেলো হায়।
ইতিকাফে কতো রাত নিয়েছি স্বর্গের স্বাদ সখাদের সাথে।
ইমামতি হতো রোজ প্রতিবেশী নিতো খোজ দিন আর রাতে।
ছোট ছোট মেয়েগুলো বানাতো মাটির চুলো নববধূ সাজতো।
মায়ার ঝলক মেখে নারী নর কুপ থেকে পানি নিয়ে আসতো।
পাড়ার সকলে মিলে শাপলা শালুকের বিলে শাপলা ফুল তুলতো।
পাড়ার ফারুক চাচা বানাতো সবজির মাচা লাউ কুমড়া দুলতো।
আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে সখীদের সাথে নিয়ে খুকুমনি খেলতো।
ছোট ছোট প্রজাতি উড়তো সব নিরবধি পাখাগুলো মিলতো।
জোৎস্নার মায়াবি রাতে সুপ্রিয় স্বামীর সাথে নববধূ চলতো।
প্রেয়সীর ধরে হাত কাটাতো সন্ধ্যার রাত কত কথা বলতো।
গ্রামের টিনের চালে ছোট ছোট নদী খালে বৃষ্টিরা ছুটতো।
গ্রীষ্মের ঝড়ের রাতে ছেলেরা সব একসাথে আম জাম খুটতো।
পাড়ার তালেব আলী নদীতে যে জালি বিড়ি শুধুই টানতো।
বিড়ি টানা দিলো বাদ পেলো নামাজের স্বাদ ইমামতি জানতো।
তার নাম ছিল হবি হাপানির রোগের শুকনো শুকনো কাসতো।
হবি হাপাতে হাপাতে কষ্টে দাফাতে মসজিদেতে আসতো।
আব্দুল জাব্বার আলী হাতে নিতো মোটা বালী আর দাত মাজতো।
লাংস আর নেই ভালো বিড়িতে হয়েছে কালো শুকনো শুকনো কাসতো।
বকর স্যারের পিতা কথাগুলো ছিল মিঠা কতো আদর করতো।
বাতিলের জ্বালা সয়ে আল্লাহ তায়ালার ভয়ে পানি ঝরে পরতো।
পশ্চিম পাড়ার আক্তার প্রিয় সোহান ডাক্তার কতো ভালোবাসতো।
ছোট ছোট ছেলেগুলা করতো তারা খেলাধুলা নবরুপে সাজতো।
“কখনো কারো মন্তব্য আটকায় না যে গন্তব্য ” রাফি ভাই বলতো।
প্রেরনার বাতিঘর কখনো পেতোনা ডর হক পথে চলতো।
রবির বাড়িতে গিয়ে সখাদের সাথে নিয়ে সমাবেশ হতো।
কখনো কথা ছলে বাজে কথা বলে মনে দিয়েছি যে ক্ষত।
বক্ষভরা অনুতাপ নিতে পারিনি যে মাপ নেই কারো খোজ।
বাড়িখানি গেলো দেবে অতিতের কথা গুলো ভেবে কেদে যায় রোজ।
ফজর করতো যে ভিক্ষা বাড়ি করে পেলো শিক্ষা নদী নিলো কেড়ে।
এলো প্রকৃতির ডাক চলে গেলো ঝাকে ঝাক বাড়ি ঘর ছেড়ে।
গ্রামের স্পার বাধ মাথাটা গোজার ছাদ হয়ে গেছে নদী।
পরোয়ারের নির্দেশে কেড়ে নিয়ে বীর বেশে চলছে নিরবধি।
মোদের পলাশ ভাই আজ আর কাছে নাই অলংকার গড়তো।
কামাল ভাই আয়ুব ভাই আজ আর কই পাই আদর যে করতো।
পূর্বে ফারুকের বাড়ি উত্তরে বাশের সারি নেই কোন চিহ্ন।
পশ্চিমে পাশার ভিটে আসতো যে বৃষ্টির ছিটে ছিলাম অভিন্ন।
দক্ষিনের আল্লার ঘর আফগান আলীর খর সামাথের বাড়ি।
নদীর পানিতে নাইতো ভাটিয়ালি গান গাইতো কতো নর নারী।।।
নেই আর বাড়িখানি চোখে আর নেই পানি হয়ে গেছে গ্রীষ্ম।
চোখদুটোর পাতা বুজলে একটু খুজলে ভেসে ওঠে ভিটেটার দৃশ্য।
বাড়িখানি মোর আজ পেয়ে গোলো নয়া সাজ করে দিলো নিঃস্ব।
প্রিয় ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে আজ দিশেহারা ঘুরি সারা বিশ্ব।

মোঃ মুন্না হাবিব
শিক্ষার্থী : বাংলাদেশ সার্ভে ইন্সটিটিউট, কুমিল্লা
ঠিকানা : সিরাজগঞ্জ, সদর
মোবাইল নাম্বার: ০১৫১৮৩৩৫১১৯


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪