ক্রেডিট কার্ডের উচ্চ সুদহার ঋণগ্রহীতাদের নাভিশ্বাস

0
52

সাধারণ অর্থে ঋণ বলতে আমরা বুঝি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ধার বা কর্জ নেওয়া। যা নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরিশোধ করে াকে ঋণ গ্রহীতা। বর্তমানে বাংলাদেশে পরিচালিত ৬২টি তফসিলি ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহের অন্যতম প্রধান কার্যবলীর বৃহৎ অংশ হল ঋণ কার্যক্রম। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাজই হলো আমানতকারীদের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করে যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা। মূলত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে থাকে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহ যে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে তা মূলত ঋণদান। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঋণ প্রদান করে থাকে। যেমন কৃষির উন্নয়নে কৃষকদের কৃষি ঋণ, ব্যবসা পরিচালনার জন্য ক্যাশ ক্রেডিট (সিসি) ঋণ, কুটির শিল্প ঋণ, বৃহৎ শিল্প ঋণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ঋণ, বাড়ী করার জন্য ঋণ, ভোক্তা ঋণ, চাকুরীজীবীদের বেতনের বিপরীতে ঋণ, প্রভৃতি ঋণ, বলাবাহুল্য, ব্যবসার এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করেনা। গ্রাহক যে ঋণই ভোগ করুক সাধারণত প্রয়োজন না হলে কোন গ্রাহকই পারত পক্ষে ঋণমুখী হন না। বর্তমানে আধুনিক জীবন ধারণের জন্য তথ্য প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ব্যাংকিং সেবায় এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়, মানুষ এখন নগদ টাকায় কেনা কাটার পরিবর্তে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। বিশ্বব্যাপাী ব্যক্তি পর্যায়ে কেনাকাটা ও নগদ অর্থের তাৎক্ষনিক চাহিদা মেটাতে তুমূল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্যক্তি পর্যায়ের ঋণ সুবিধা তথা ক্রেডিট কার্ড। অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও চাহিদা বাড়ছে ক্রেডিট কার্ড সেবাটির। বর্তমানে দেশে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় ক্রেডিট কার্ডের সুদহার সর্বোচ্চ ৩৪ শমিক ৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ১৪ শতাংশ। সা¤প্রতিকালে একটি জাতীয় িৈনক এ উদ্বেগজনক খবরটি ছাপিয়েছে। ব্যাংকগুলো ব্যক্তি পর্যায়ে বেতনের বিপরীতে যে ঋণ দিচ্ছে সে ঋণের সুদহার বর্তমানে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ থেকে সর্বনিম্ন এক অংকের ঘরে উঠানামা করছে। ক্রেডিট কার্ডের এ ঋণ জামানতবিহীন বলে এ ঋণের সুদহার বেশী বলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা জানান। ব্যাংকগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষি ঋণ জামানতবিহীন যার সুদহার ১০ শতাংশ। ব্যাংকগুলো বেতনের বিপরীতে যে ঋণ প্রদান করে তাও জামানতবিহীন যদিও বলা হয় চাকুরীই এ ঋণের গ্যারান্টি বা জামানত। আমাদের জানামতে জামানত বলতে বুঝায় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি। চাকুরী কি এ ধরনের জামানতের মধ্যে পড়ে না যে ব্যাংক শুধুমাত্র চাকুরীকে গ্যারান্টি রেখে বেতনের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে ঋণ দিতে পারছে। আবার একই ব্যাংক একই বক্তিকে একই জামানত ক্রেডিট কার্ড ঋণ সুবিধা দিচ্ছে কিন্তু তার সুদ হার গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ। যা খুবই উদ্বেগজনক, ুঃখজনক ও অনভিপ্রেত বটে। বিষয়টি গভীরভাবে ভাববার বিষয়। এ নিবন্ধের লেখক একটি প্রথম সারির বেসরকারী ব্যাংক থেকে ব্যক্তি পর্যায়ের (পারসোনাল লোন) ঋণ নেন বেতনের বিপরীতে যার সু হার ১৩ শতাংশ। একই ব্যাংকের একই জামানতের ক্রেডিট কার্ডের সুদহার ৩০ শতাংশ। অনেক ক্রেডিট কার্ড গ্রহীতার সাে কথা বলে নিবন্ধকারের মতই মতামতই পাওয়া গেছে। শুধু যে ব্যাংকগুলো ৩০% হারে সুদই নিচ্ছে তা কিন্তু নয়। একটি ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক বাৎসরিক ৮০০ থেকে ১৩০০ টাকা ফি দিতে হয়। এছাড়া বিলম্ব ফি, চেক বই ফি,চেক প্রসেসিং ফি,চেক ডিজ অনার ফি, ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম, এস.এম.এস প্রদান ফি ছাড়াও গ্রাহকের অজান্তে নানা মাশুল ধার্য্য করে গ্রাহকদের সর্বস্বান্ত করছে। উল্লেখিত ফি সংযুক্ত করলে একটি ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ সুদহার হয় ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ যা খুবই হতাশাজনক। পরিসংখ্যান মতে ক্রেডিট কার্ডের আমেরিকার সুদহার ১৪ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়া ১২ শতাংশ, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ১৫ শতাংশ। যার কোনটিই বাংলাদেশের ক্রেডিট কার্ডের সুদহারের নিচে নয়। ক্রেডিট কার্ড এখন আর কোন বিলাসবহুল পণ্য নহে। এটা তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নাগরিক জীবনের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। বর্তমানে দেশে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়েছে এবং যুগের চাহিদা অনুযায়ী তা ক্রমাগত ভাবে বেড়েই চলেছে। উল্লেখ্য যে, ব্যাংকাররা অনেক যাচাই-বাছাই করে ক্রেডিট কার্ড ঋণ প্রদান করে। সিংহভাগ ক্রেডিট কার্ডের ভোক্তা হলো সরকারী-বেসরকারী চাকুরীজীবী শ্রেণি। যারা সমাজে সম্মানিত বলে পরিচিত। ফলে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ খেলাফীর সংখ্যাও তুলনামূলক কম। আমরা মনে করি দেশে ক্রেডিট কার্ডের সুদহার মাত্রাতিরিক্ত। যদিও ক্রেডিট কার্ডের কিছু সুবিধা ঋনগ্রহীতা ভোগ করে। তা হলো নির্দিষ্টি একটা সময় পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ডের সুদ দিতে হয়না। এ সুবিধার জন্য ঋণের সুদের হার মাত্রাতিরিক্ত হওয়া কোন ভাবেই কাম্য নহে। তাদের এ সুবিধার বিনিময়ে হয়ত কিছুটা সুদহার বৃদ্ধি যুক্তিযুক্ত হতে পারে। কিন্তু কোন ভাবেই লাগামহীন সুদহার হওয়া উচিৎ নয়। যেখানে বর্তমানে পারসোনাল ঋণের সুদহার ৯-১৩% যেখানে ক্রেডিট কার্ডের সুদহার ৩০-৩৪% হওয়া কি যৌক্তিক? রাষ্ট্রীয়াত্ত¡ দেশের বৃহত্তম বানিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক লিঃ ১৪% সুদহারে ক্রেডিট কার্ড দিতে পাওে তাহলে অন্যান্য ব্যাংক কেন ১৪% বা তারা কাছাকাছি সুদহারে ঋনদিতে পারবে না ? প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য করা প্রয়োজন পূর্বে একচেটিয়া ব্যবসার কারনে হার্টের রিংএর মূল্য বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুন তিনগুন ামে বিক্রি হত। কিন্তুু সরকার সর্বোচ্চ খুরচা মূল্যে বেধে ওেয়ায় এখন তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে এসেছে। অনুরূপভাবে সাধারণ জনগনের আমানতের টাকায় পরিচালিত ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট কার্ডের অযৌক্তিক ও মাত্রাতিবিক্ত সুদহার সহনীয় পর্যায়ে নেমে আনার জন্য।
এ বিষয়ে আমানতকারীদের স্বার্থ দেখারায়িত্বে নিয়োজিত সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাশে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here