ঘাটাইলে কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়ে চিন্তামুক্ত করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো.শহিদুল ইসলাম লেবু

0
100

ঘাটাইল টাঙ্গাইল প্রতিনিধি আব্দুল লতিফঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের দিগলকান্দি ইউনিয়নের বেলদহ গ্রামের ৩ জন অসহায় দরিদ্র কৃষক বিশু মিয়া,ছন্টু মিয়া ও রফিক মিয়া । তাদের ৫ বিগা জমির পাকা ধান পড়ে আছে বড় ক্ষেতে ও নদীতে । করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিক ও অর্থ সংকটে সেই পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন তারা । অবশেষে দরিদ্র ও অসহায় কৃষকদের দুশ্চিন্তা দূর করলেন ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক ও উপজেলার চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম লেবু। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলা চেয়ারম্যান মো.শহিদুল ইসলাম লেবু নেতৃত্বে দিগলকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের প্রায় ২শতাধিক নেতা-কর্মী ৫ বিগা পরিমাণ জমির ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছেন। কৃষক বিশু মিয়া জানান, জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছিলাম। ফলনও এবার ভালো হয়েছে। খেতের ফসলে পাক ধরেছে কিন্তু ধান কাটার মজুরের অভাব। এ অবস্থায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো.ইকবাল হোসেনকে অবগত করলে তিনি উপজেলার চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম লেবুকে বলেন কৃষকের কষ্টের কথা। তখন তিনি বলেন, আমরা আছি চিন্তা করবেন না। বিষয়টি দেখছি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে অবাক হয়ে দেখি কাঁচি হাতে একদল লোক তার খেতের পাকা ধান কাটছেন। কাছে গিয়ে দেখতে পাই উপজেলার চেয়ারম্যানসহ তার সহকর্মীরা ধান কাটছেন।
উপজেলার চেয়ারম্যান মো.শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশেই আমরা দলীয় লোকজন নিয়ে আজ থেকে কাঁচি হাতে করে কৃষকদের পাশে দাঁড়ালাম। দরিদ্র কৃষকের যেকোনো সংকটে আমরা কাজ করে যাব। এ প্রতিশ্রæতি নিয়েই এলাকার ৩ জন অসহায় দরিদ্র কৃষকরা যখন আমার কাছে এসে অসহায় হয়ে বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে তার পাকা ধান কাটতে পারছেন না। বৈশাখী মাস, তাই যে কোনো সময়ে ঝড়-বৃষ্টি হলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আমি আমার সহকর্মী নেতাকর্মীরা কাঁচি-মাথাল (ধান-কাটার সরঞ্জাম) নিয়ে হাজির হই। সারা দিনে তার ৫ বিগা জমির ধান কেটে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, প্রথমে ওই কৃষক বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, আমরা বিনা পারিশ্রমিকে তার ধান কেটে ঘরে তুলে দেব। পরে যখন তার জমির ধান কেটে বাড়িতে এনে দিলাম তার মুখের হাসি আমাদের অন্যরকম আনন্দ দিয়েছে। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছুই নেই। এই দুঃসময়ে প্রত্যেকের উচিত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো।
কৃষক ছন্টু মিয়া বলেন, একজন শ্রমিকের মজুরি ৫/৬’শ টাকা। তার ওপর দুই বেলা ভাত দিতে হয়। আমাদের উপজেলার চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে আমার বড় উপকার করে দিয়ে গেছে। তাদের জন্য কিছুই করতে পারলাম না, তবে তাদের জন্য দোয়া করছি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সাইদুল রহমান, থানা যুবলীগের সসদ্য মো. তপন মিয়া, আওয়ামীলীগের সদস্য মো.রেজাউল করিম মটু যুবলীগের আহবায়ক সজীব,যুগ্ম আহবায়ক সবদুল,সাবিবর ছাত্রলীগের সদস্য মো.ফরহাদ প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here