শিরোনাম
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিবন্ধী পরিবারের মাঝে এআরএফবির প্রণোদনা ও ভিক্ষুক পূণর্বাসন ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি জাকির হোসেন শার্শার ডিহিতে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের টাকা বিতরণ ত্রিশাল উপজেলা বাসীকে জননেতা ইকবাল হোসেনের ঈদের শুভেচ্ছা টেকনাফ বাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছে ওমর ফারুক পূর্ব পঞ্চগড় রক্তদান সংগঠনের ২শ’ পরিবারকে ঈদ উপহার চরভদ্রাসনে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন জনসচেতনতা সভা জনগন এর ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছি : কাদের মির্জা টেকনাফে রিপোর্টার্স ইউনিটি’র কমিটি গঠিত ইতালিতে মৃত্যুবরণকারী দানা মিয়ার পরিবারবারকে আর্থিক সহযোগিতা করেছে ভৈরব সমিতি ভেনিস
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৩:১০ অপরাহ্ন

জীবনের লক্ষ্য; মোঃ ইমরান শওকত

রিপোটারের নাম / ৩৩২৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৯ এপ্রিল, ২০২১

গল্প: জীবনের লক্ষ্য
লেখক: মোঃ ইমরান শওকত

বছরের শুরুতে, দিনটি ছিল জানুয়ারি মাসের ৪ তারিখ। স্কুলে এক জন নতুন শিক্ষক এসেছেন।তার নাম ছিল মোঃ আবু সালমান। নবম শ্রেণীর প্রথম পিরিয়ডে শ্রেণী শিক্ষক হিসেবে ক্লাসে আসলেন এবং সকল ছাত্রছাত্রীদের সাথে আন্তরিকতার সাথে পরিচিত হয়ে নিলেন এবং মতবিনিময় করলেন। তিনি ছিলেন একজন ইংরেজি শিক্ষক। প্রথমেই ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সবাইকে বুঝালেন। তারপর সকলের কাছে এক বাক্যে জিজ্ঞেস করলেন। তোমারা জীবনে বড় হয়ে কি হবে? এমন কোন আশা বা লক্ষ্য আছে? ছাত্রছাত্রীরা সকলে হাত উঁচু করে উত্তর দিল “হ্যাঁ”। স্যার দেখা খুব খুশি হলেন কারণ সকলের জীবনে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে। অতঃপর স্যার সবাইকে তার নিজ নিজ সুন্দর ও মধুময় স্বপ্ন নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ লিখতে বললেন।

অতপরঃ ছাত্রছাত্রীরা তাদের মধুময় স্বপ্ন ও লক্ষ্য নিয়ে লেখা শুরু করল। সকলে গুনগুন করে লিখতে লাগল। স্যার সবার মুখের দিকে ঘুরে ঘুরে তাকিয়ে দেখে সবাই আনন্দ উচ্ছ্বসের সহিত লিখতেছে। অতঃপর এক এক করে তাদের লিখিত অনুচ্ছেদ জমা দিল। তাদের মধ্যে প্রথম ছয় জন হল মোঃমিয়াদ, মোঃরিয়াজ, মোঃমিজানুর রহমান (সজল),আরওয়া, প্রনয়, মাহেরা জনের লিখিত অনুচ্ছেদ বেছে হাতে নিলেন।

অতঃপর মোঃমিয়াদ এর অনুচ্ছেদটি স্যার হাতে নিলো এবং জিজ্ঞাস করল তোমার জীবনের লক্ষ্য কী? সে বলল, স্যার আমি ডাক্তার হবো। আমি দেশের গরিব অসহায় মানুষের সেবা করব। স্যার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোন বিভাগের ছাত্র?মোঃ মিয়াদ বলল, স্যার আমি বানিজ্য বিভাগের ছাত্র কারন আমি হিসাব-নিকাশ করতে বেশ পছন্দ করি।স্যার একটু মৃদু হাসি দিলেন।

এরপর মোঃরিয়াজের লিখিত অনুচ্ছেদটি হাতে নিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও? মোঃরিয়াজ উত্তরে বলল, স্যার আমি আমি হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হব। কারন আমাদের পাশের গ্রামের ১ জন ইঞ্জিনিয়ার আছে। তাকে সবাই অনেক সম্মান করে। স্যার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোন বিভাগের ছাত্র?রিয়াজ বলল,আমি মানবিক বিভাগের ছাত্র।আমি দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জানতে পছন্দ করি। এবারও শুনে স্যার একটু মৃদু হাসি দিলেন।
তারপর মোঃমিজানুর রহমান(সজল) এর লিখিত অনুচ্ছেদটি স্যার হাতে নিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমার জীবনে তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও? মোঃমিজানুর রহমান(সজল) বলল, স্যার আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই। কারন আমার মামা সাফিন মাহমুদ একজন ডাক্তার। সে আমাকে সর্বদা ডাক্তার হতে পরামর্শ ও অনুপ্রেরণা দেয়। স্যার বললেন, তুমি কোন বিভাগের ছাত্র? উত্তরে বলল, স্যার আমি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র।স্যার বললেন, ভালো।

পরবর্তী আরওয়ার এর লিখিত অনুচ্ছেদটি স্যার হাতে নিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমার জীবনে তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও? আরওয়া বলল স্যার আমি বড় হয়ে সি.এ. সম্পূর্ণ করতে চাই। কারন শুনেছি দেশে ও বিদেশে সি.এ. সম্পূর্ণ ব্যক্তিদের অনেক চাহিদা। স্যার বললেন, তুমি কোন বিভাগের ছাত্র? উত্তরে বলল,স্যার আমি মানবিক বিভাগের ছাত্র। কারন এই বিভাগে পড়লে দেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয় অনেক কিছু জানা যায়। কথা শুনে স্যার একটু মৃদু হাসি দিলেন।

তারপর প্রনয় এর লিখিত অনুচ্ছেদটি স্যার হাতে নিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমার জীবনে তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও? প্রনয় বলল, স্যার আমি বড় হয়ে ব্যবসায়ী হতে চাই। কারন ব্যবসা একটি আত্মনির্ভরশীল পেশা। তাই আমি খুব পছন্দ করি। স্যার বললেন, তুমি কোন বিভাগের ছাত্র? উত্তরে বলল, স্যার আমি বানিজ্য বিভাগের ছাত্র।কারন বানিজ্য বিভাগে পড়লে ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা পাব। স্যার বললেন,ভালো।

সর্বশেষ মাহেরা এর লিখিত অনুচ্ছেদটি স্যার হাতে নিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমার জীবনে তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও? মাহেরা বলল, স্যার আমি বড় হয়ে গনিত এর শিক্ষিকা হতে চাই। কারন এই পেশা আমি খুব পছন্দ করি। স্যার বললেন, তুমি কোন বিভাগের ছাত্র? উত্তরে মাহেরা বলল, স্যার আমি বানিজ্য বিভাগে পড়ি। কারন হিসাবনিকাশ ও অঙ্ক করতে আমি অনেক পছন্দ করি। কথা শুনে স্যার একটু মৃদু হাসি দিলেন।

অতঃপর স্যার বললেন, তোমার সকলে মনযোগ সহকারে শোন। তোমাদের সকলকে ধন্যবাদ। কারন তোমাদের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে। তবে তোমাদের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের ধারণা ভুল।তোমারা বুঝ না যে ডাক্তার হতে হলে তোমাকে অবশ্যই বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করতে হবে।তোমারা বুঝ না যে ইঞ্জিনিয়ার হতে হলে তোমাকে অবশ্যই বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করতে হবে। তোমারা বুঝ না যে সি.এ. সম্পূর্ণ করতে হতে হলে তোমাকে বানিজ্য বিভাগে পড়াশোনা করতে হবে। তোমারা বুঝ না যে গনিত এর শিক্ষিকা হতে হলে তোমাকে অবশ্যই বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করতে হবে। তবে তোমাদের হতাশ হবার কোন কারণ নেই। অবশ্যই তোমাদের প্রথমে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে এবং নিদিষ্ট লক্ষ্য অনুসারে সেই বিভাগে পড়তে হবে। তবে বিভাগ কোনটির থেকে কোনটি বড় নয়। তোমাদের মধ্যে যার যে লক্ষ্য আছে সেটি মহৎ মনে করে এগিয়ে যাও।” তোমাদের লক্ষ্য যদি থাকে অটুট,বিজয় এক দিন হবেই ইনশাআল্লাহ্”।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট