দেশ ও দেশের বাইরের সবাইকে পবিত্র ঈদু-উল-ফিতর ও মুজিব বর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন

0
161

তাইজুল ইসলাম তারেক
সিঙ্গাপুর প্রতিনিধি AB71 tv:

সিঙ্গাপুর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এর কারণে আজ সারা বিশ্ব একটি নতুন ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছে, এবারের রমজান, এবারের ঈদ পুরোপুরি সম্পূর্ণভাবে একটি ইউনিক ঈদ, অন্যান্য সময়ের চেয়ে সম্পূর্ণ ডিফারেন্স, যারা জীবনে কখনো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েননি, তারাও এবার ঘরে বসেই নামাজ পড়তে বাধ্য হয়েছেন, জীবনে কখনো ইমামতি করেননী, তারাও এবার ইমামতি করেছেন, জনাব বুলবুল তার রুমে ৬ জন মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ ইমাম হয়ে আদায় করেছেন। তিনি বলেন আল্লাহ যেন আমাদের সবার নামাজ কবুল করেন আমিন।

জনাব বুলবুল বলেন সিঙ্গাপুর সহ কিছু উন্নত দেশে প্রতিটি নাগরিকের জন্য আর্মি ট্রেনিং বাধ্যতামূলক, এইজন্য যে, যেকোন সময় দেশ যুদ্ধে লিপ্ত হতে পারে। বহিঃবিশ্বের আক্রমণের শিকার হতে পারে। ওই সংকটময় মুহূর্ত প্রতিহত করার জন্য, সিভিল এবং ডিফেন্স মিলে যেন দেশকে রক্ষা করতে পারে।

ঠিক তেমনি ভাবে সারা দুনিয়ার মুসলমানরা ও অন্যান্য ধর্মাম্বলীর লোকেরা যেনো তাদের সন্তানদেরকে প্রথমেই ইসলামী এবং নিজ নিজ ধর্মীয় জ্ঞানে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করেন। এবং এটা বাধ্যতামূলক বলে মনে করছি। এইজন্য যে, যেকোনো সময় বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের মতো, অথবা এর চেয়েও আরও কঠিনতম মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জরুরি অবস্থা, যেমন কারফিউ, সংকট মুহূর্ত গুলোতে, আমরা মুসলমান হিসেবে, আমরা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য গুলো সহি শুদ্ধভাবে, নিজেরা নিজেদের ঘরে বসেই পালন করতে পারি। এবং অন্যান্য ধর্মের লোকেরাও যেনো ঘরে বসেই, তাদের নিজ নিজ প্রার্থনায় লিপ্ত থাকতে পারেন। প্রতিটা দেশের সরকার এটা যেন বাধ্যতামূলক করে দেয়।

এই বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে , অনেকে মৃত্যুবরণ করেও সাধারণ ধর্মীয় রীতি নীতি অনুযায়ী কবরে যেতে পারেননি, কারণ ভাইরাসে এফেক্টেড হওয়ার ভয়ে ইমাম ও অন্যান্য ধর্মের গুরুরা, জানাজা নামাজ ও সৎকার কাজে আগিয়ে আসেনি। আপনজনরা মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর সাহস পায়নি। ফ্যামিলির সবার যদি ধর্মীয় জ্ঞান থাকতো, তাহলে কোন ইমাম ও ধর্মীয় গুরুর জন্য অপেক্ষা করতে হতনা । নিজেরাই নিজেদের পরিবারের সদস্যদের গোসল থেকে শুরু করে জানাজা ও দাফন এবং অন্যান্য ধর্মের লোকেরা তাদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা করতে পারতেন।

জনাব বুলবুল আরও বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো এই দুনিয়ায় বেঁচে নেই, অনেকেই হয়তো অনেকের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, অনেকেই অসুস্থ হসপিটালে আছেন। এই বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে, সমস্ত মৃত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তি কামনা করছি, আল্লাহ যেন তাদেরকে বেহেস্ত স্বর্গবাসী করেন। এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। সেই সাথে যারা অসুস্থ হসপিটালে আছেন তাদের রোগ মুক্তি কামনা করছি।

প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য সিঙ্গাপুর সরকারের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, ফাইভ স্টার মানের হোটেলে রেখে চিকিৎসা দেওয়া, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার জন্য এবং সিঙ্গাপুর সরকারের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জনাব বুলবুল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক বাবু সুজিত রায় নন্দীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। করোণা যুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী যেভাবে সার্বক্ষণিক মানুষের পাশে থেকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। তা সত্যিই অবিস্মরনীয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী সহ বিভিন্ন খাতে আর্থিক প্রণোদনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। সেই সাথে কিছু আওয়ামী নামধারী ও অন্যান্য দলের ত্রাণ চোরদের ধিক্কার জানিয়েছেন। যাহারাই এই ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সুনাম নষ্ট করছে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।

জনাব বুলবুল দেশ ও দেশের বাইরে সবাইকে সিঙ্গাপুর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও মুজিব বর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেই সাথে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

মহামারী করোনাভাইরাস আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়েছে, এ থেকে আমাদের সবাইকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা যেন আমাদের সকল কাজ নিজেরাই নিজেদের মত করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বোঝা ও মানার তৌফিক দান করুক, লকডাউন এ ঘরে থাকি নিরাপদে থাকি আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here