শিরোনাম
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিবন্ধী পরিবারের মাঝে এআরএফবির প্রণোদনা ও ভিক্ষুক পূণর্বাসন ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি জাকির হোসেন শার্শার ডিহিতে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের টাকা বিতরণ ত্রিশাল উপজেলা বাসীকে জননেতা ইকবাল হোসেনের ঈদের শুভেচ্ছা টেকনাফ বাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছে ওমর ফারুক পূর্ব পঞ্চগড় রক্তদান সংগঠনের ২শ’ পরিবারকে ঈদ উপহার চরভদ্রাসনে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন জনসচেতনতা সভা জনগন এর ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছি : কাদের মির্জা টেকনাফে রিপোর্টার্স ইউনিটি’র কমিটি গঠিত ইতালিতে মৃত্যুবরণকারী দানা মিয়ার পরিবারবারকে আর্থিক সহযোগিতা করেছে ভৈরব সমিতি ভেনিস
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম হলো তাহাজ্জুদ: রোজাদার তাহাজ্জুদ আদায়কারী অধিক সম্মানের অধিকারী

ধর্ম ডেস্ক / ৫২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১

তাহাজ্জুদ (আরবি: تهجد‎‎), রাতের নামাজ বা কিয়ামুল লাইল নামেও পরিচিত, ইসলাম ধর্ম অনুসারীদের জন্যে একটি ঐচ্ছিক ইবাদত। এটা বাধ্যতামূলক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের অন্তর্ভুক্ত নয়। ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সঃ) নিয়মিত তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন এবং তার সাহাবীদের এটা পালনে উৎসাহিত করতেন। মাহে রমজানের নফল ইবাদতের মধ্যে ইতিকাফের সময় তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম

আল কুরআনে তাহাজ্জুদ সালাত :-
“তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করে এবং রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে।”
(সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত ১৭-১৮)।

আল কুরআনের সূরা আল মুজাম্মিল এ উল্লেখ করা হয়েছে, “অবশ্য রাতে ঘুম থেকে উঠা মনকে দমিত করার জন্য খুব বেশি কার্যকর এবং সে সময়ের কুরআন পাঠ বা জিকর একেবারে যথার্থ।”

সূরা আল ফুরকান-এর ৬৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে,
“আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা, যারা তাদের রবের দরবারে সিজদা করে এবং দাঁড়িয়ে থেকেই রাত কাটিয়ে দেয়।”

“তারা ছিল কঠিন পরীক্ষায় পরম ধৈর্যশীল, অটল-অবিচল, সত্যের অনুসারী, পরম অনুগত। আল্লাহর পথে ধন-সম্পদ উৎসর্গকারী এবং রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে ভুলত্রুটির ক্ষমাপ্রার্থী”। (সূরা আল ইমরান : আয়াত ১৭)

হাদীসে তাহাজ্জুদ সালাতঃ-
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, “আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ।”

হজরত আবু হোরায়রা থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
আল্লাহ প্রতি রাতেই নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ হন যখন রাতের শেষ তৃতীয় ভাগ অবশিষ্ট থাকে। তিনি তখন বলতে থাকেন- কে আছো যে আমায় ডাকবে, আর আমি তার ডাকে সাড়া দেবো? কে আছো যে আমার কাছে কিছু চাইবে, আর আমি তাকে তা দান করব? কে আছো যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আর আমি তাকে ক্ষমা করব? (বুখারি ও মুসলিম)

তাহাজ্জুদ সালাতের নিয়মঃ-
তাহাজ্জুদ নামাজ রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পড়া উত্তম।
তবে ঘুম থেকে না জাগার সম্ভাবনা থাকলে ইশার নামাজের পর দুই রাকাত সুন্নত ও বিতরের আগে তা পড়ে নেয়া জায়েজ আছে। এ নামাজের রাকাত সংখ্যা সর্ব নিম্ন দুই রাকাত আর সর্বোচ্চ ১২ রাকাত পড়া উত্তম। তবে আরও বেশি পড়া জায়েজ আছে। এরপরে বিতর নামাজ পড়া।

তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়ম:
তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়ম হচ্ছে দুই রাকাত দুই রাকাত করে যথাসম্ভব লম্বা কেরাত, লম্বা রুকু ও সেজদা সহকারে একান্ত নিবিষ্ট মনে পড়া। কেরাত উঁচু বা নিচু উভয় আওয়াজে পড়া জায়েজ আছে। তবে কারও কষ্টের কারণ হলে চুপি-চুপি পড়া কর্তব্য। জামাতে পড়া রমজান ছাড়া অন্য সময় মাঝে-মধ্যে জামাতে পড়া জায়েজ আছে তবে নিয়মিত ভাবে নয়।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়তঃ

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ رَكَعَتِى التَّهَجُّدِ – اَللهُ اَكْبَر

অর্থ : দুই রাকাআত তাহাজ্জুদের নিয়ত করছি.. অতঃপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নিয়ত বেঁধে নামাজ পড়া।

রমাদান মাসে যেহেতু ফরজ রোজা পালনের জন্য সহায়ক হিসেবে সাহ্‌রি খাওয়ার সুন্নত আদায়ের জন্য আমরা সবাই উঠি এবং সাহ্‌রির সময়ই হলো তাহাজ্জুদের সময়; সুতরাং রমাদানে তাহাজ্জুদ আদায় করা খুবই সহজ। তাহাজ্জুদ দুই রাকাত করে আট রাকাত, বারো রাকাত বা আরও কম বা বেশিও পড়া যায়। রমাদানের নফলের সওয়াব ফরজের সমান, ফরজের সওয়াব সত্তর গুণ।

রমজান মাসে রাত জাগরণ করে যাঁরা তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন এবং অপরকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেন, তাঁরা আল্লাহর অপার রহমতের মধ্যে বিচরণ করেন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ ওই ব্যক্তির ওপর রহমত নাজিল করেন, যিনি রাতে নিদ্রা থেকে জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন এবং তাঁর স্ত্রীকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দেন। অতঃপর তিনি (তাঁর স্ত্রী) তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন। এমনকি যদি তিনি (স্ত্রী) ঘুম থেকে জাগ্রত হতে না চান, তাহলে তাঁর মুখে পানি ছিটিয়ে দেন।’ (আবু দাউদ ও নাসাঈ)। রোজাদার তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি অধিক সম্মানের অধিকারী হন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমানদের মধ্যে আল কোরআনে অভিজ্ঞ ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি সম্মানের অধিকারী হবেন।’ (বায়হাকি)।

আল্লাহ পাক এই কথাগুলোর উপর আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

সংকলনঃ
মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম
ধর্মতত্ত্ব ও ইসলাম শিক্ষা (স্নাতক)
এম. এ (হাদিস) ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট