বড়লেখায় করোনাকালে মানুষের পাশে নেই নামসর্বস্ব আকাশ্চুম্বী সামাজিক সংগঠনগুলো

0
66

(ইকবাল হুসাইন মাতাব)

বড়লেখা : আমরা সবাই জানি নোবেল করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের কর্মহীন অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মানুষ। এই সময়ে কাজ না থাকা মানুষগুলোকে প্রতিদিনই খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন চিকিৎসা’সামগ্রী দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। এতে করে কিছুটা হলেও নিম্ন আয়ের মানুষেরা স্বস্তি পেয়েছে।সারাদেশের ন্যায় মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজে’লায়ও অসহায় নিম্নবিত্ত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে উপজে’লার সামাজিক সংগঠনগুলা।তবে উপজে’লায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা নাম সর্বস্ব কিছু সামাজিক সংগঠনের দেখা মেলেনি এই করো’না দূর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়াতে।
উপজে’লা সমাজসেবা অফিস সুত্রে জানা যায়,বড়লেখায় নিবন্ধিত সামাজিক সংগঠন রয়েছে মাত্র ২৬ টি।এর বাহিরে উপজে’লায় প্রায় পাঁচ শতাধিক সংগঠন রয়েছে যার মধ্যে বেশিরভাগই অনিবন্ধিত ও নাম সর্বস্ব।করো’নার এই মহামা’রীর মধ্যে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত কিছু সংগঠন সাধারণ মানুষদের পাশে দাঁড়ালেও উপজে’লায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা কিছু সংগঠন করো’না দূর্যোগে নিরব ভুমিকা পালন করছে। ফেসবুক নির্ভর ভুঁইফোড় এই সংগঠন গুলা সুধু নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত।
মুলত সামাজিক সংগঠনগুলা প্রবাসীদের অর্থায়নেই চলে।দেশের মানুষ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে প্রবাসীরা সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।আর প্রবাসীদের সেই আবেগ অনুভুতিকে পুঁজি করে উপজে’লায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ভুঁইফোড় সংগঠন।যারা দুঃখ দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নাম করে প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করে থাকে।
এছাড়া ভুঁইফোড় এসব সংগঠনের নেই কোন কর্ম পরিকল্পনা বা গঠনপ্রণালী। নেই নিজস্ব কোন অফিস।৪-৫ জন সদস্যের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয় এক একটি সংগঠন।আবার এসব সংগঠনের কমিটিতে থাকা একজন সদস্য বা দায়িত্বশীল আরও একাধিক সংগঠনের সদস্য ও দায়িত্বশীলের ভুমিকা পালন করতে দেখা যায়।
করো’নার এই মহামা’রীর সময় সাধারণ মানুষের পাশে না দাঁড়ানোর কারণে এসব ভুঁইফোড় সংগঠনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।বলছেন,বড়লেখায় এতো এতো সংগঠন অথচ করো’নার এই মহামা’রীর সময় সাধারণ মানুষদের পাশে দাঁড়াতে তেমন কাউকে দেখা গেলো না।তবে কি এসব সংগঠন সুধু নামেই আছে কাজে নেই।আবার অনেকে এসব সংগঠন যারা করেন তাদের সামাজিক ব্যবসায়ী বলেও আখ্যা দেন। এদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন।
এ বিষয়ে আল ইখওয়ান ইস’লামী সমাজ কল্যান সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্ম’দ আবু তাহের বলেন,সাম্প্রতিক কালে বড়লেখায় বেশ কিছু সংগঠন গড়ে উঠেছে।কিন্তু তার বেশির ভাগই নামে আছে কাজে তেমন দেখা যায় না।অনেকে চার পাঁচ জন মিলে আবেগে একটা সংগঠন তৈরি করেন পরে দেখা যায় আবেগ কে’টে গেলে সংগঠনও শেষ।পরে সংগঠন সুধু নাম সর্বস্বই থেকে যায়। আমি এসব সংগঠনের উদ্দেশ্যে বলবো এভাবে ঢালাও ভাবে সংগঠন তৈরি না করে একটি সংগঠনের মাধ্যমে সকলে মিলে কাজ করা উচিত।আর সমাজে গড়ে উঠা ভুঁইফোড় নাম সর্বস্ব সংগঠনগুলার কার্যক্রম বা কমিটি না থাকলে এদের বাতিল করাও উচিত বলে আমি মনে করি।
বড়লেখা পাবলিকেশন সোসাইটি এর অন্যতম সদস্য ও
তারাদরম ছাত্র কল্যান পরিষদের সাবেক সভাপতি খায়রুল ইসলাম বলেন,বড়লেখায় এসব সামাজিক সংগঠনের একটা সিন্ডিকেট আছে যারা এসব সংগঠন তৈরি করে।এরা কিছুদিন পর পর একটা সংগঠন তৈরি করেন আবার কিছুদিন পর আরেকটা।একসময় দেখা যায় সেইসব সংগঠনের কোনটারই আর অস্তিত্ব নেই।আমি মনে করি এসব সংগঠন যারা করেন তাদের এসব করা থেকে সরে আসা উচিত বা প্রাশাসনিক ভাবে এতের দৌরাত্ম্য রোধ করা উচিত।
বোয়ালী ইস’লামী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাফর আহম’দ হিসাম বলেন,ফেসবুক নির্ভর কিছু সংগঠনের দৌরাত্ম্য চোখে পড়ে, বাস্তবে যাদের কোন কার্যক্রম নেই।যা আছে তা সুধু ফেসবুকেই।করো’নার এই মহামা’রীর সময়ে আমাদের বড়লেখার অনেক সংগঠন সাধারন মানুষের পাশে দাঁড়ালেও বেশির ভাগ সংগঠনকে নিরব ভুমিকা পালন করতে দেখা যায়।বাস্তবে এসব সংগঠনের কোন অস্তিত্বই নেই।আজ কাল একেকজন একেক সংগঠনের সভাপতি-সম্পাদক হয়ে বসে আছেন।মুলত এসব সংগঠন গড়ে উঠে পদ না পাওয়ার কারণে।দেখা যায় একজন কমিঠিতে পদ পেলেন না তিনি গিয়ে আরও চার পাঁচ জন নিয়ে একটা সংগঠন করে ফেললেন ,সেই সংগঠনের তিনি সভাপতি।আমি মনে করি এভাবে প্রত্যেকে সংগঠন না করে বা পদলো’ভী না হয়ে সবাই এক হয়ে কাজ করা দরকার।এতে বাস্তবিক অর্থে সমাজের মঙ্গল হবে বলে বিশ্বাস করেন সমাজ তথা বড়লেখা বাশী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here