মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০৯ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
বাঘায় পদ্মার ভাঙনে আশ্রয় হারিয়েছে ৩৫টি পরিবার
বাঘা (রাজশাহী) থেকে মোস্তাফিজুর রহমান / ৮৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে ভাঙ্গনে চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালী ও লক্ষীনগর চরের ৩৫টি পরিবার আশ্রয় হারিয়ে অন্যত্রে চলে গেছে। হুমকিতে রয়েছে আরো অর্ধশতাধিক বাড়ি।

জানা যায়, চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিদাসখালী ও লক্ষীনগর চরের মানুষ ঘরবাড়ি অন্যত্রে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং হুমকির মধ্যে রয়েছেন অর্ধশতাধিক পরিবার ও চকরাজাপুর কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে হুমকির মুখে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙছে পদ্মার পাড়। চাপ চাপ মাটি ধসে পড়ে দীর্ঘ হচ্ছে ভাঙনের চিত্র। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভাঙনে প্রায় দুই কিলেমিটার নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে শত শত একর জমিসহ গাছপালা ঘরবাড়ি।

এ বিষয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর (৩ নম্বর কালিদাসখালী চর) শহিদুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ আগে পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে ভাঙ্গন। এবার যে সমস্ত জমি ভাঙনের কবলে পড়েছে, তার সিংহ ভাগ জমিতে ছিল আম, খেজুর গাছ ও বাড়িঘর। এবার ভাঙনের কবলে আমার ১০ বিঘা নিজস্ব জমিসহ আম বাগান বিলিন হয়ে গেছে।

৩ নম্বর কালিদাসখালী চর ও চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে আমার ৮ বিঘা আম বাগান নদীগর্ভে ইতিমধ্যে বিলিন হয়ে গেছে। এমনকি আমার বাড়িটাও হুমকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙন থেকে মাত্র ৬০ মিটার দুরে রয়েছে বাড়ি। ফলে এবার যে ভঙনের ডাক তাতে মনে হয় কালিদাসখালী ও লক্ষীনগর বলে কোন চিহৃ থাকবেনা।

চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর ফজলুল হক বলেন, চকরাজাপুর বলে কোন চিহৃ নেই। ইতিমধ্যেই বিলিন হয়ে গেছে। আমার ওয়ার্ডের তিন ভাগের দুই ভাগ পদ্মা গর্ভে চলে গেছে। এবাব যেহারে ভাঙা শুরু হয়েছে, এভাবে ভাঙনে থাকলে আর কিছু দিনের মধ্যে আমার ওয়ার্ডও বিলিন হয়ে যাবে।

এদিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর আনোয়ার শিকদার বলেন, কয়েক বছরে আমার প্রায় ৩০ বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এছাড়া আমার নির্বাচনী ওয়ার্ডের কোন চিহৃ নেই। এই ওয়ার্ডের ৩ শতাধিক পরিবার দুই বছরের ব্যবধানে অন্যত্রে চলে গেছে।

কালিদাসখালী চরের রতন আলীর স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, আমার মাত্র ১০ কাঠা জমি ছিল। তাও ভাঙনে চলে গেল। দুই সন্তান নিয়ে কি করে চলবো, কথায় যাবো কিছুই ভেবে পাচ্ছিনা। এ কথাগুলো বাড়ি ভেঙে মালামাল গোছানোর সময়ে এ প্রতিবেদকের কাছে বলছিলেন। তার যাওয়ার কোন জায়গা নেই। সে নিশ্ব হয়ে গেছেন, ঘর তোলার জমিও নেই, টাকাও নেই। ছোট এক শিশুকে পাশে রেখে বাড়ির মালামাল গুছিয়ে স্বামী রতন আলীর মাথা তুলে দিচ্ছেলেন।
এদিকে কয়েক বছরে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি, বসত ভিটা, রাস্তা-ঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্টান, বিজিবি ক্যাম্প, মসজিদ। বিভিন্ন সময়ে নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারিয়ে সর্বহারা হয়েছে প্রায় সহস্রাধিক পরিবার। এই সব পরিবারের সব কিছু কেড়ে নিয়েছে পদ্মা। এদের অনেকেই বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বসত বাড়ি গড়ে তুলে বসবাস করছে।

চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, প্রতি বছর ভাঙনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মানুষ। তবে বর্তমানের ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৫ট পরিবার অনেত্র আশ্রয় নিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতানা বলেন, পদ্মার ভাঙ্গন রোধে বাধের কাজ চলছে। কাজ সম্পূন্ন হলে ভাঙ্গন থাকবেনা। তারপরও ভাঙ্গনের বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ