বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪৮ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
বাংলা কবিতায় নতুন ছন্দরীতি নির্মাতা বিরহী কবি মাজেদুল হক
মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম, নেত্রকোণা: / ২৯ Time View
Update : বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

মাজেদুল হক। পুর্ণ নাম শেখ মোহাম্মদ মাজেদুল হক বা এস এম মাজেদুল হক ওরফে মাজেদ, সাহিত্যাঙ্গনে সুপরিচিত নাম- মাজেদুল হক । “বিরহী কবি” হিসেবে তিনি সমাধিক খ্যাত। কবি মাজেদুল হক বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোণা জেলার সদর উপজেলাধীন ১১ নং কে.গাতী ইউনিয়নে পাটলী গ্রামে ১৯৭৭ ইং সালের ৩ জুলাই (১৯ আষাঢ়) এক সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

পিতা- এস এম কিতাব আলী ও মাতা-বেগম আয়েশা খাতুন। চার ভাইবোনের মধ্যে কবি, মা-বাবা’র প্রথম পুত্র, দ্বিতীয় সন্তান। পেশা- প্রথমে (ব্র‍্যাক) এর সেবা প্রোগ্রামে চাকুরী করেছেন, বর্তমানে সরকারী চাকুরীতে (প্রাণিসম্পদ) কর্মরত আছেন। কিশোর বয়স থেকেই লেখার হাতেখরি, কবি মাজেদুল হক, কবিতা, ছড়া, গান ও উপন্যাস লিখছেন। বি.এ অধ্যয়নরত অবস্থায় তাঁর লেখা প্রথম পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে; এখনও বিভিন্ন ম্যাগাজিনে এবং স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। কবি’র কবিতা ও ছড়া আবৃত্তি করে প্রতি বছর স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী অর্জন করছে বার্ষিক পুরষ্কার।

ইতিমধ্যে কবি’র লেখা- ১। কাব্য বলাকা, ২। স্বদেশের মায়া, ৩। স্বপ্ন দিগন্ত, ৪।ফুলঝুড়ি, ৫। নেত্রচয়ন, ৬। নির্বাচিত একশো কবিতা, ৭।ডিঙি, এ ধরনের সাহিত্য সংকলনে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। বিভাস প্রকাশন থেকে ২০২১ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে কবির একক কাব্যগ্রন্থ “চোখের জলে নদী”। পাঠক মহলে প্রচুর সাড়া জাগিয়েছে কবির কাব্যগ্রন্থটি, সাদরে বরণ করে নিয়েছে পাঠক, বিরহী কবির কাব্যগ্রন্থ “চোখের জলে নদী ”।

কাব্য নিয়ে কিছু কথাঃ- দীর্ঘ দিন ধরে কবির কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের চিন্তা ভাবনা থাকলেও কবির সিদ্ধান্ত ছিল একুশের বইমেলায় একুশ সালে তাঁর প্রথম কাব্য প্রকাশ করবেন তাই ২০২১ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশ করলেন কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ। বিরহী কবির বিরহ ভাবনা জাগ্রত রয়েছে তাঁর চিন্তা চেতনায় যাহা এর প‚র্বে অন্য কোন কবির ভাবনায় খুঁজে পাইনি। বাংলা ভাষা রক্ষার্থে, মাতৃভাষা বাংলাই হবে রাষ্ট্র ভাষা, সকলের দাবি আদায়ের লক্ষে ১৯৫২ সালে হয়েছিল মাতৃভাষা আন্দোলন। ভাষা শহীদের সেই স্বরণীয় ৫২ সালের স্বরণে কবির কাব্যের কবিতার সংখ্যা ৫২ টি। মোট ৫২ টি কবিতা দিয়ে প্রকাশ করেছেন বিরহী কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ “চোখের জলে নদী”। শিগ্রই প্রকাশিত হবে কবির লেখা ছড়াগ্রন্থ, উপন্যাস ও দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।

কবি মাজেদুল হক একজন ছান্দসিক কবি তিনি প্রথাগত ছন্দে খুবই পারদর্শী, তিনি ছন্দের অনেক নতুন রীতি বা কাঠামো তৈরি করেছেন। কবি প্রথাগত ছন্দে যেমন অভিজ্ঞ তেমন গদ্যছন্দেও অভিজ্ঞ তাই তিনি বিভিন্ন কবিতায় দেখিয়েছেন ছন্দের পারদর্শীতা। ছন্দ সম্পর্কে কবি তাঁর “ছন্দরীতি” কবিতায় বলেছেন-
“ছন্দরীতি”
আগে তুমি শিখে লও প্রথাগত নীতি,
পরে কবি সৃষ্টি করো নব ছন্দরীতি।
স্বরবৃত্ত মাত্রাবৃত্ত অক্ষরবৃত্ত টি,
লিখিবে শুদ্ধ কবিতা না করিবে ত্রুটি।
মুক্তক অতিমুক্তক অমিত্রাক্ষর কি ?
গৈরিশ ও গদ্যছন্দ মাত্রা বুঝে লিখি।
অমিল সমিল সবি অন্তমিলে খুঁজে,
মাত্রা হিসেব করিয়া নিতে হবে বুঝে।
ছন্দের নিয়মে আছে খুঁটিনাটি যত,
ব্যাকরণ জেনে বুঝে করিবে আয়ত্ত্ব।
না বুঝে করিলে কিছু ফলাফল মন্দ,
কবিতায় প্রয়োজন শিল্পগুণে ছন্দ।
ছন্দরীতি কবিগণ করে যত সৃষ্টি,
প্রতিভায় যোগ হবে প্রসন্ন সু-দৃষ্টি।

প্রত্যেক ছন্দের তিনি নতুন নতুন ছন্দ কাঠামো তৈরি করেছেন, তাঁর কবিতা পড়লেই বুঝা যায়। অনেক ছান্দসিক কবি তাকে বলেছেন ছন্দ কাঠামো বা নব ছন্দরীতির প্রবর্তক। উদাহরণ হিসেবে সংক্ষেপে কবির লেখা থেকে কিছু নব ছন্দরীতি তুলে ধরার চেষ্টা করছি- প্রথাগত ছন্দে কবির লেখা “আযান” জনপ্রিয় ছড়া।

স্বরবৃত্ত ছন্দে-
” আযান “

আযান শুনে চমকে উঠি
সময় হলো তাই,
জলদি গিয়ে ওজু করে
নামাজ পড়ি ভাই।

প্রতি ওয়াক্তে ঐ মসজিদে
আযান শুনা যায়,
মনের মাঝে নবীর প্রেমে
জোয়ার ওঠে তায়।

সুরের ধ্বনি মধুর খনি
আযান সুধাময়,
প্রিয়ার মতো বিনয় করে
ডাকছে মনে হয়।

আযান শুনে পরাণ কাঁদে
ভুল করেছি সব,
নামাজ পড়ে চাইব ক্ষমা
মাফ করে দাও রব।
এখানে প্রত্যেক চরণে আছে-( ৪+৪+৪+১) মাত্রা।

কবির সৃষ্টি নব ছন্দরীতি-
১। “ভাগ্যের চাকা”

অবুঝ শিশু যখন হাসে,
মা দুখিনী স্বপ্নে ভাসে।
ছোট্ট শিশু বড় হবে,
দুঃখ সেদিন দ‚রে রবে।
কামাই করে আনবে টাকা,
ঘুরবে হয়তো ভাগ্যের চাকা।

এখানে প্রত্যেক চরণে আছে- (৪+৪) মাত্রা। যাকে কবি নাম দিয়েছেন দ্বি(দুই) পর্ব স্বরবৃত্ত কারণ এখানে প্রত্যেক চরণে আছে দু’টি পর্ব।

 “চড়াই”

ছোট্ট পাখি চড়াই,
করতে জানে বড়াই।
মনের সুখে উড়ে,
মুক্ত মাঠে ঘুরে।
একটু খানি ঝড়েই,
ঠাঁই নিয়েছে ঘরেই।
চালের নিচে বাসা,
খড় কুটোতে খাসা।
ঢুকছে ঘরে উড়োৎ,
যায় বেড়িয়ে ফুঁড়োৎ।

এখানে প্রত্যেক চরণে আছে-( ৪+২) মাত্রা। যাকে কবি নাম দিয়েছেন এক পর্ব স্বরবৃত্ত কারণ এখানে প্রত্যেক চরণে আছে একটি করে পর্ব, ম‚ল পর্বে আছে (৪) মাত্রা এবং অন্তমিলে আছে (২) মাত্রা। এক পর্ব ও দ্বি-পর্ব স্বরবৃত্ত ছন্দের ছড়া ছোট শিশুদের জন্যে খুবই উপযোগী, সহজেই মুখস্থ করতে পারে।

(ক) “বর্ষাকাল”

বর্ষা কালে বৃষ্টি পড়ে,
উঠোন হল কাদা;
ছোট্ট খোকা রইলো ঘরে,
চলার পথে বাধা।

আশায় ছিল খেলতে যাবে,
পারবে নাতো আজ;
ঘরেই খোকা দিন কাটাবে,
নেই তো কোন কাজ।

কাদায় গিয়ে খেলবে খোকা,
মায়ের কাছে বলে;
বলছে মায়ে ওরে বোকা,
ভিজবে তুমি জলে ?

কাদায় গেলে অসুখ হবে,
নিরাপদে থাকো ;
ঘরে খোকা সুখে রবে,
এটাই মনে রাখো।

এখানে একটি লাইনে একটি চরণ, চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক। প্রথম ও তৃতীয় চরণে আছে (৪+৪) মাত্রা, প্রতি চরণে আছে দুটি পর্ব এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ চরণে আছে (৪+২) মাত্রা, প্রতি চরণে আছে একটি পর্ব ও (২) মাত্রার অন্তমিল। কবি এ ছন্দরীতি বা ছন্দ কাঠামোর নামকরণ করেছেন মিশ্র চরণ স্বরবৃত্ত।

 (খ) “বাঁধন”
উড়ছে পাখি সাঁঝের বেলা,
ফিরছে নীড়ে মায়ার টানে ;
বাঁধলো জোড়া বিধির খেলা,
বনের পাখিও বিধান মানে।

মায়ার বাঁধন মধুর মিলন,
যদিও পাখি বনে থাকে;
মিলেমিশে কাটায় জীবন,
পাখি হলেও কথা রাখে।

মানুষ জাতি যদিও জ্ঞানী,
বাঁধন তবু ছিন্ন করে ;
স্বার্থ খুঁজে অনেক ধ্যানী,
ভিন্ন পথে সুযোগ ধরে।

এখানে একটি লাইনে একটি চরণ, চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক। প্রতি চরণে আছে (৪+৪) মাত্রা এবং প্রত্যেক চরণে আছে দুটি করে পর্ব। কবি এ ছন্দরীতি বা কাঠামোর নাম দিয়েছেন মিশ্র চরণ স্বরবৃত্ত।

প্রথাগত ছন্দে কবির লেখা- ” নিষিদ্ধ ” কবিতার একটি স্তবক।
মাত্রাবৃত্ত ছন্দেঃ-
“নিষিদ্ধ”
লোকের মন্দ সমাজে দ্বন্দ্ব
তবু প্রশ্নবিদ্ধ ,
চোখের দেখাটা মুখের কথাটা
হয়ে গেল নিষিদ্ধ।
এখানে দু’টি চরণ মিলে একটি স্তবক, প্রত্যেক চরণে আছে-( ৬+৬+৬+২) মাত্রা।

কবির সৃষ্টি নব ছন্দরীতি-“সাক্ষাৎ”কবিতার একটি স্তবক।

১। (ক) “সাক্ষাৎ”
পথিক তুমি কে ?
এভাবে চাহিলে যে আমার দিকে !
পরিচয় দাও চেনা প্রয়োজন,
দেখে মনে হয় শত বছরের পরিচিত প্রিয়জন।

এখানে চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক। প্রথম চরণে আছে ( ৬) মাত্রা, দ্বিতীয় চরণে আছে (৬+৬) মাত্রা, তৃতীয় চরণে আছে (৬+৬) মাত্রা,এবং চতুর্থ চরণে আছে (৬+৬+৬+২) মাত্রা। এখানে চারটি চরণে পর্ব সংখ্যা সমান নয়। কবি এ ছন্দরীতি বা কাঠামোর নাম করণ করেছেন-মিশ্র চরণ মাত্রাবৃত্ত।

১। ( খ) “ব্যর্থতা”
সবিনয়ে তুমি সামনে দাঁড়িয়ে,
যুগল আঁখির দৃষ্টি বাড়িয়ে ;
প্রস্তাব দিলে,
ক্ষতি কি তোমার সাথী করে নিলে ?

এখানেও চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক। এটাও মিশ্র চরণ মাত্রাবৃত্তের আরেকটি রূপ। এখানে প্রথম চরণে আছে (৬+৬) মাত্রা, দ্বিতীয় চরণে আছে (৬+৬) মাত্রা, তৃতীয় চরণে আছে (৬) মাত্রা এবং চতুর্থ চরণে আছে ( ৬+৬) মাত্রা।

১।(গ) “সততা”
সত্য কথায় বরকত আছে,
মিথ্যে কথায় বদনাম পাছে ;
অসৎ মানুষ সকল বেলায়,
মিথ্যে কথাই বলিয়া বেড়ায়।

এখানেও একটি লাইনে একটি
চরণ। চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক। এটাও মিশ্র চরণ মাত্রাবৃত্ত ছন্দের আরেক টি রূপ ।

২। “সংকট”
সকলেই হাসে,
সুখের সাগরে হাবুডুবু খেয়ে আনন্দে ভাসে।
অনেকেই কাঁদে,
অভাব যাহার ঘরে বাসা বাঁধে।
হাসি খুশি মনে কতো আয়োজন করে সারা বাড়ি,
চালের অভাবে চুলায় ওঠে না দুখিনীর হাড়ি।

এখানে প্রথাগত নিয়মের মতো দুটি চরণ মিলে একটি স্তবক কিন্তু দু’টি চরণে পর্বের সংখ্যা সমান নয়।
যেমনঃ- প্রথম স্তবকের প্রথম চরণে আছে (৬) মাত্রা, দ্বিতীয় চরণে আছে (৬+৬+৬) মাত্রা। প্রথম চরণে আছে এক পর্ব, দ্বিতীয় চরণে আছে তিন পর্ব। দুটি চরণ অসমান বা অসম। কবি এ ছন্দরীতি বা কাঠামোর নামকরণ করেছেন অসম চরণ মাত্রাবৃত।

৩। “শপথ”
যদি কথা রাখো,
অসুবিধে নেই থাকিলে দ‚রে ;
শপথ নিয়েছি যেখানেই থাকো,
মিলন হবে সানাইয়ের সুরে।

এখানে একটি লাইনে একটি চরণ। চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক। প্রথম চরণে আছে (৬) মাত্রার একটি পর্ব। দ্বিতীয় চরণে আছে(৬+৫) মাত্রার দু’টি পর্ব। তৃতীয় চরণে আছে (৬+৬) মাত্রার দুটি চরণ। চতুর্থ চরণে আছে (৫+৭) মাত্রার দু’টি পর্ব। কবি এ কাঠামোর নামকরণ করেছেন অসম পর্ব মিশ্র চরণ মাত্রাবৃত্ত।

৪। “বাঁশি”
রাখালের বাঁশিতে মায়াবী সুর,
শোনে বাঁশির ধ্বনি ছুটে আসে হুঁর !

এখানে একটি লাইনে একটি চরণ, দু’টি চরণ মিলে একটি চরণ। প্রথম চরণে আছ(৭+৫) মাত্রা, দু’টি অসম পর্ব। দ্বিতীয় চরণে আছে (৭+৬) মাত্রা, দু’টি পর্ব। কবি এ কাঠামোর নামকরণ করেছেন অসম পর্ব মাত্রাবৃত্ত।

প্রথাগত ছন্দে কবির লেখা- “চোখের জলে নদী” কবিতার একটি স্তবক।
অক্ষরবৃত্ত ছন্দেঃ-

“চোখের জলে নদী ”
চোখের জলে নদী’টা স্রোতে বহমান,
সন্তানের দরদি মা জগতে প্রমাণ।

এখানে দু’টি চরণ মিলে একাটি স্তবক আর প্রত্যেক চরণে আছে (৮+৬) মাত্রা।

কবির সৃষ্টি নব ছন্দরীতি- “লুকোচুরি” কবিতার একটি স্তবক।

১। (ক) “লুকোচুরি”
কিশোর বয়স এলো মনে শিহরণ,
সকলেই জেনে গেল কিছু বিবরণ;
সমাজ হলো বাঁধা,
সু-পথেও কাদা-
হৃদয় গগণে ওঠে অগণিত ঢেউ,
কে দিল কাঁটার বেড়া জানি নাতো কেউ।

এখানে ছয়টি চরণ মিলে একটি স্তবক, প্রথম চরণে আছে (৮+৬)মাত্রা, দ্বিতীয় চরণে আছে (৮+৬)মাত্রা, তৃতীয় চরণে আছে (৮)মাত্রা, চতুর্থ চরণে আছে (৬) মাত্রা, প ম চরণে আছে (৮+৬) মাত্রা এবং ষষ্ট চরণে আছে (৮+৬) মাত্রা। যাকে কবি নাম দিয়েছেন অসম পর্ব মিশ্র চরণ অক্ষরবৃত্ত কারণ অক্ষরবৃত্ত ছন্দে সাধারণত একটি স্তবকে দুটি চরণ থাকে কিন্তু কবি সেই পুরানো প্রথা ভেঙে বহু চরণ প্রথা চালু করেছেন তাই এ নব কাঠামো বা ছন্দরীতির নাম দিয়েছন অসম পর্ব মিশ্র চরণ অক্ষরবৃত্ত।

১।(খ) “প্রীতির বন্ধন”
প্রীতির বন্ধন,
কেন হয়েছে এমন ?
দুজন আছি দুদেশে কিযে অপরাধে,
দুজনের হৃদয় যে এখনও কাঁদে !

এখানেও চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক তবে এখানে অসম পর্ব মিশ্র চরণ অক্ষরবৃত্তের আরেকটি রূপ। এখানে প্রথম চরণে আছে (৬) মাত্রা, দ্বিতীয় চরণে আছে (৮) মাত্রা, তৃতীয় চরণে আছে (৮+৬) মাত্রা এবং চতুর্থ চরণে আছে (৮+৬) মাত্রা।

১।(গ) “সাধনা”
সাধনা করিতে যারা বাহিরে গিয়েছে,
পরিবার পরিজন ছাড়িয়া দিয়েছে ;
নির্জনে থেকে সাধক পেয়েছে কি স্বাদ ?
অর্চনা হবে না যদি মনে থাকে খাদ।

এখানে একটি লাইন একটি চরণ, চারটি চরন মিলে একটি স্তবক, প্রতি চরণে আছে (৮+৪) মাত্রা। কবি এ কাঠামোর নামকরণ করেছেন অসম পর্ব মিশ্র চরণ অক্ষরবৃত্ত।

২। “আকর্ষণ”
তোমায় দেখেছি আমি দিবালোকে যতবার,
দুচোখের ইশারায় ডেকে ছিলে ততবার।

এখানে দুটি চরণ মিলে একটি স্তবক। প্রতি চরণে আছে (৮+৮) মাত্রা এবং দুটি পর্ব, দুটিই সমান তাই কবি এ কাঠামোর নামকরণ করেছেন, সম পর্ব অক্ষরবৃত্ত।

৩। “বিষাদ”
বেদনা বিষাদ যত,
চোখের জলে প্রকাশ হয়ে যায় অবিরত।

এখানে প্রথম চরণে আছে (৮) মাত্রা এবং এক পর্বে একটি চরণ। দ্বিতীয় চরণে আছে (৮+৮) মাত্রা এবং দুটি পর্বে একটি চরণ। দু’টি চরণেই সম পর্ব কিন্তু দু’টি চরণ অসম তাই কবি এ কাঠামোর নাম দিয়েছেন সম পর্ব অসম চরণ অক্ষরবৃত্ত।

৪। (ক) “সুখ”
যেজন অর্থের মাঝে সুখ খুঁজিয়া বেড়ায়,
বিত্তে করে চাষাবাদ সুখের ফলন চায় ;
ধর্মালয়ে সুখ আছে ধার্মিক লোকেই বুঝে,
বিত্তশালী ব্যর্থ হয়ে সুপথ হারিয়ে খুঁজে।

এখানে একটি লাইনে একটি চরণ, চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক। প্রতি চরণে আছে (৮+৮) মাত্রা। প্রত্যেক চরণে আছে দু’টি পর্ব। কবি এ কাঠামোর নামকরণ করেছেন সম পর্ব মিশ্র চরণ অক্ষরবৃত্ত।

৪।(খ) “মেঠোপথ”
মেঠোপথে হেঁটে গেলে,
ফসলের মুক্ত মাঠ প্রকৃতির স্নিগ্ধ বায়ু ;
সহজেই স্বস্তি মেলে,
মনে হয় বেড়ে গেল শত বছরের আয়ু ।

এখানে একটি লাইনে একটি চরণ, চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক। প্রত্যেক পর্বে আছে (৮) মাত্রা। প্রথম ও তৃতীয় চরণে আছে একটি করে পর্ব এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ চরণে আছে দুইটি করে পর্ব। এটাও সম পর্ব মিশ্র অক্ষরবৃত্ত ছন্দের একটি রূপ।

কবি লিখেছেন বেশ কিছু সনেট, একজন অভিজ্ঞ ছান্দসিক কবির পক্ষেই সম্ভব সনেট লেখা। এখানে কবির লেখা একটি সনেট তুলে ধরলাম।

“বৃদ্ধাশ্রম”
আধুনিক ছেলে-মেয়ে সদ্য পরিবারে,
মাতা-পিতাকে পাঠায় দ‚রে বৃদ্ধাশ্রম;
সন্তান ছেড়ে মা-বাবা থাকিতে না পারে,
অনেক কষ্টে জীবন করে অতিক্রম।

সন্তান যখন হয়ে গেল মতিভ্রম,
মনে বিষাদ বেদনা শুধু অবিচারে;
নীরবে সহিতে বাধ্য যত পরিক্রম,
অদৃষ্টকে দোষারোপ করে নির্বিচারে।

যে সন্তান মা-বাবাকে অবহেলা করে,
সুখী হতে পারবে না কোনদিন ভবে;
সেবা না করিলে ভাগ্যে অভিশাপ রবে।

বৃদ্ধাশ্রমে কেনো দিবে যতেœ রেখো ঘরে,
মা-বাবার মোনাজাত যাবে না বিফল;
আশির্বাদ সন্তানের জীবনে সুফল।

গদ্যছন্দেও কবি দেখিয়েছেন সুনিপুণ পারদর্শিতা। কথাকে শব্দের ব্যঞ্জনায় রূপায়িত করে সুনিদ্রিষ্ট অলংকারে উপস্থাপন করেছেন কাল্পনিক চিত্রকল্প, কবিতা হয়ে ওঠেছে শিল্পগুণে পুরিপ‚র্ণ। কবির লেখা গদ্যছন্দে কয়েকটি কবিতার পঙতিঃ-
“মধুর মিলন”
দুপুরে স‚র্য্যটা ঠিক যেন মাথার উপরে
লুকিয়ে পড়েছে দেহের ছায়া
প্রীতির স্পর্শে উভয়ে আলিঙ্গন
মধুর মিলন যেন তৃপ্তির খোরাক !

“অপেক্ষা”
এখনও তোমায় খুঁজে অস্থির !
অপেক্ষায় প্রতিটি প্রহর যেন হাজার বছর!

“অভিমান”
গোপনে রাখিলে অথই জল
অভিমানের অনুকরণে করিলে কৃপণতা !
মরুভ‚মির মতো হাহাকার হয়ে
জল দাও,জল দাও
চিৎকার করেছি অনেক বার
প্রতিমার মতো নির্বাক তুমি
প্রণয়ের বরফ গলে না।

“বিসর্জন”
কিশোর বয়স দুচোখে রঙিন স্বপ্ন
সহজেই গড়ে ওঠে ভালোবাসার জুটি
অবাধে চলাফেরা পার্কে প্রেমালাপ
একে অপরের কোলে সোহাগ অন্বেষণ
কার্তিক লগণে যেন পথে পশুর মিলন !

কবি’র লেখায় খুঁজে পাই, প্রীতি প্রণয়ের বিরহ ব্যথা। কবির লেখা বিভিন্ন কবিতা থেকে তুলে ধরছি।
“প্রেম”
শুনেছি লোকের মুখে
প্রেম করে সাধু ,
মনের প্রকৃত আকর্ষণ
নয় কোন যাদু ।

“উপলদ্ধি”
কোমল হাতের দরদি ছোঁয়া
হৃদয় চৌকাঠে শিহরণ জাগে
যত বার স্পর্শ করও
প্রেমের মালে অনুভ‚তির গোলাপ ফোটে!

“প্রেমাঞ্জলি”
হয়তো পারব না
সম্রাট শাহ জাহানের মতো
প্রেমের স্মৃতিতে তাজমহল গড়তে
মনে রেখো-
যতদিন দেহে প্রাণ থাকে
দিয়ে যাব প্রেমাঞ্জলি।

“অপহরণ”
বিধির কিযে বিধান পারি না বুঝিতে,
প্রিয়জন কেড়ে নিল কঠোর নীতিতে ;
ব্যথার দু’টি পাহাড়,
শুধু হাহাকার-
সে কাঁদে আমিও কাঁদি ব্যথিত দুজন,
বিয়ের নামে হয়েছে সে অপহরণ ।

“সাক্ষাত”
পথিক তুমি কে ?
এভাবে চাহিলে যে আমার দিকে !
পরিচয় দাও চেনা প্রয়োজন,
দেখে মনে হয় শত বছরের পরিচিত প্রিয়জন।

মুখোশ খুলিয়া,
অবুঝের মতো নিরবে কাঁদিয়া;
বলিতে লাগিল ছিল যত মনে,
তুমি ভুলে গেছো আমিতো পারি না নিত্য ভাসে নয়নে।

কবির লেখায় পাওয়া যায় অসহায় বি ত মানুষের কষ্টের আর্তনাদ।
কবির লেখা থেকে –

“দুর্দিন”
সুদিনে বন্ধুর আনাগোনা
দুর্দিনে দ‚রে সরে যায়
পরিচয় দিলেও চিনিতে অক্ষম
অচেনার অভিনয় করে
স্বার্থের মে যেন খলনায়ক ।

“অপবাদ”
যত দোষ গরীবের
মানুষ হলেও যেন সমাজের আবর্জনা !

“বর্গাচাষী”
খড়ের ছাউনি চালে পাটখড়িতে বেড়া,
বর্ষাকালে বৃষ্টি পড়ে ঘর ভিজে নেড়া।

কবির লেখায় আছে গরীব, দুখী, অসহায় বি ত মানুষের দুঃখ, কষ্টের আর্তনাদ, আছে প্রীতি প্রণয়ের বিরহ, ব্যথা। কবির প্রতিটি লেখায় খুঁজে পাওয়া যায় পুরিপ‚র্ণ বিরহ, এ জন্যে তিনি ” বিরহী কবি ” হিসেবে বিষেশ ভাবে খ্যাত। বর্তমানে যে কয়জন নবীন প্রতিভাবান ও খ্যাতিমান কবি আছেন, তাদের মধ্যে তিনিও একজন। কবির জীবনের সফলতা কামনা করি, এগিয়ে যান আপন মহিমায়।

বাংলা কবিতায় নতুন ছন্দরীতি নির্মাতা বিরহী কবি মাজেদুল হক Ñমুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম

মাজেদুল হক। পুর্ণ নাম শেখ মোহাম্মদ মাজেদুল হক বা এস এম মাজেদুল হক ওরফে মাজেদ, সাহিত্যাঙ্গনে সুপরিচিত নাম- মাজেদুল হক । “বিরহী কবি” হিসেবে তিনি সমাধিক খ্যাত। কবি মাজেদুল হক বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোণা জেলার সদর উপজেলাধীন ১১ নং কে.গাতী ইউনিয়নে পাটলী গ্রামে ১৯৭৭ ইং সালের ৩ জুলাই (১৯ আষাঢ়) এক সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

পিতা- এস এম কিতাব আলী ও মাতা-বেগম আয়েশা খাতুন। চার ভাইবোনের মধ্যে কবি, মা-বাবা’র প্রথম পুত্র, দ্বিতীয় সন্তান। পেশা- প্রথমে (ব্র‍্যাক) এর সেবা প্রোগ্রামে চাকুরী করেছেন, বর্তমানে সরকারী চাকুরীতে (প্রাণিসম্পদ) কর্মরত আছেন। কিশোর বয়স থেকেই লেখার হাতেখরি, কবি মাজেদুল হক, কবিতা, ছড়া, গান ও উপন্যাস লিখছেন। বি.এ অধ্যয়নরত অবস্থায় তাঁর লেখা প্রথম পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে; এখনও বিভিন্ন ম্যাগাজিনে এবং স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। কবি’র কবিতা ও ছড়া আবৃত্তি করে প্রতি বছর স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী অর্জন করছে বার্ষিক পুরষ্কার।

ইতিমধ্যে কবি’র লেখা- ১। কাব্য বলাকা, ২। স্বদেশের মায়া, ৩। স্বপ্ন দিগন্ত, ৪।ফুলঝুড়ি, ৫। নেত্রচয়ন, ৬। নির্বাচিত একশো কবিতা, ৭।ডিঙি, এ ধরনের সাহিত্য সংকলনে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। বিভাস প্রকাশন থেকে ২০২১ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে কবির একক কাব্যগ্রন্থ “চোখের জলে নদী”। পাঠক মহলে প্রচুর সাড়া জাগিয়েছে কবির কাব্যগ্রন্থটি, সাদরে বরণ করে নিয়েছে পাঠক, বিরহী কবির কাব্যগ্রন্থ “চোখের জলে নদী ”।

কাব্য নিয়ে কিছু কথাঃ- দীর্ঘ দিন ধরে কবির কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের চিন্তা ভাবনা থাকলেও কবির সিদ্ধান্ত ছিল একুশের বইমেলায় একুশ সালে তাঁর প্রথম কাব্য প্রকাশ করবেন তাই ২০২১ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশ করলেন কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ। বিরহী কবির বিরহ ভাবনা জাগ্রত রয়েছে তাঁর চিন্তা চেতনায় যাহা এর প‚র্বে অন্য কোন কবির ভাবনায় খুঁজে পাইনি। বাংলা ভাষা রক্ষার্থে, মাতৃভাষা বাংলাই হবে রাষ্ট্র ভাষা, সকলের দাবি আদায়ের লক্ষে ১৯৫২ সালে হয়েছিল মাতৃভাষা আন্দোলন। ভাষা শহীদের সেই স্বরণীয় ৫২ সালের স্বরণে কবির কাব্যের কবিতার সংখ্যা ৫২ টি। মোট ৫২ টি কবিতা দিয়ে প্রকাশ করেছেন বিরহী কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ “চোখের জলে নদী”। শিগ্রই প্রকাশিত হবে কবির লেখা ছড়াগ্রন্থ, উপন্যাস ও দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।

কবি মাজেদুল হক একজন ছান্দসিক কবি তিনি প্রথাগত ছন্দে খুবই পারদর্শী, তিনি ছন্দের অনেক নতুন রীতি বা কাঠামো তৈরি করেছেন। কবি প্রথাগত ছন্দে যেমন অভিজ্ঞ তেমন গদ্যছন্দেও অভিজ্ঞ তাই তিনি বিভিন্ন কবিতায় দেখিয়েছেন ছন্দের পারদর্শীতা। ছন্দ সম্পর্কে কবি তাঁর “ছন্দরীতি” কবিতায় বলেছেন-
“ছন্দরীতি”
আগে তুমি শিখে লও প্রথাগত নীতি,
পরে কবি সৃষ্টি করো নব ছন্দরীতি।
স্বরবৃত্ত মাত্রাবৃত্ত অক্ষরবৃত্ত টি,
লিখিবে শুদ্ধ কবিতা না করিবে ত্রুটি।
মুক্তক অতিমুক্তক অমিত্রাক্ষর কি ?
গৈরিশ ও গদ্যছন্দ মাত্রা বুঝে লিখি।
অমিল সমিল সবি অন্তমিলে খুঁজে,
মাত্রা হিসেব করিয়া নিতে হবে বুঝে।
ছন্দের নিয়মে আছে খুঁটিনাটি যত,
ব্যাকরণ জেনে বুঝে করিবে আয়ত্ত্ব।
না বুঝে করিলে কিছু ফলাফল মন্দ,
কবিতায় প্রয়োজন শিল্পগুণে ছন্দ।
ছন্দরীতি কবিগণ করে যত সৃষ্টি,
প্রতিভায় যোগ হবে প্রসন্ন সু-দৃষ্টি।

প্রত্যেক ছন্দের তিনি নতুন নতুন ছন্দ কাঠামো তৈরি করেছেন, তাঁর কবিতা পড়লেই বুঝা যায়। অনেক ছান্দসিক কবি তাকে বলেছেন ছন্দ কাঠামো বা নব ছন্দরীতির প্রবর্তক। উদাহরণ হিসেবে সংক্ষেপে কবির লেখা থেকে কিছু নব ছন্দরীতি তুলে ধরার চেষ্টা করছি- প্রথাগত ছন্দে কবির লেখা “আযান” জনপ্রিয় ছড়া।

স্বরবৃত্ত ছন্দে-
” আযান ”

আযান শুনে চমকে উঠি
সময় হলো তাই,
জলদি গিয়ে ওজু করে
নামাজ পড়ি ভাই।

প্রতি ওয়াক্তে ঐ মসজিদে
আযান শুনা যায়,
মনের মাঝে নবীর প্রেমে
জোয়ার ওঠে তায়।

সুরের ধ্বনি মধুর খনি
আযান সুধাময়,
প্রিয়ার মতো বিনয় করে
ডাকছে মনে হয়।

আযান শুনে পরাণ কাঁদে
ভুল করেছি সব,
নামাজ পড়ে চাইব ক্ষমা
মাফ করে দাও রব।
এখানে প্রত্যেক চরণে আছে-( ৪+৪+৪+১) মাত্রা।

কবির সৃষ্টি নব ছন্দরীতি-
১। “ভাগ্যের চাকা”

অবুঝ শিশু যখন হাসে,
মা দুখিনী স্বপ্নে ভাসে।
ছোট্ট শিশু বড় হবে,
দুঃখ সেদিন দ‚রে রবে।
কামাই করে আনবে টাকা,
ঘুরবে হয়তো ভাগ্যের চাকা।

এখানে প্রত্যেক চরণে আছে- (৪+৪) মাত্রা। যাকে কবি নাম দিয়েছেন দ্বি(দুই) পর্ব স্বরবৃত্ত কারণ এখানে প্রত্যেক চরণে আছে দু’টি পর্ব।

২। “চড়াই”

ছোট্ট পাখি চড়াই,
করতে জানে বড়াই।
মনের সুখে উড়ে,
মুক্ত মাঠে ঘুরে।
একটু খানি ঝড়েই,
ঠাঁই নিয়েছে ঘরেই।
চালের নিচে বাসা,
খড় কুটোতে খাসা।
ঢুকছে ঘরে উড়োৎ,
যায় বেড়িয়ে ফুঁড়োৎ।

এখানে প্রত্যেক চরণে আছে-( ৪+২) মাত্রা। যাকে কবি নাম দিয়েছেন এক পর্ব স্বরবৃত্ত কারণ এখানে প্রত্যেক চরণে আছে একটি করে পর্ব, ম‚ল পর্বে আছে (৪) মাত্রা এবং অন্তমিলে আছে (২) মাত্রা। এক পর্ব ও দ্বি-পর্ব স্বরবৃত্ত ছন্দের ছড়া ছোট শিশুদের জন্যে খুবই উপযোগী, সহজেই মুখস্থ করতে পারে।

৩। (ক) “বর্ষাকাল”

বর্ষা কালে বৃষ্টি পড়ে,
উঠোন হল কাদা;
ছোট্ট খোকা রইলো ঘরে,
চলার পথে বাধা।

আশায় ছিল খেলতে যাবে,
পারবে নাতো আজ;
ঘরেই খোকা দিন কাটাবে,
নেই তো কোন কাজ।

কাদায় গিয়ে খেলবে খোকা,
মায়ের কাছে বলে;
বলছে মায়ে ওরে বোকা,
ভিজবে তুমি জলে ?

কাদায় গেলে অসুখ হবে,
নিরাপদে থাকো ;
ঘরে খোকা সুখে রবে,
এটাই মনে রাখো।

এখানে একটি লাইনে একটি চরণ, চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক। প্রথম ও তৃতীয় চরণে আছে (৪+৪) মাত্রা, প্রতি চরণে আছে দুটি পর্ব এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ চরণে আছে (৪+২) মাত্রা, প্রতি চরণে আছে একটি পর্ব ও (২) মাত্রার অন্তমিল। কবি এ ছন্দরীতি বা ছন্দ কাঠামোর নামকরণ করেছেন মিশ্র চরণ স্বরবৃত্ত।

৩। (খ) “বাঁধন”
উড়ছে পাখি সাঁঝের বেলা,
ফিরছে নীড়ে মায়ার টানে ;
বাঁধলো জোড়া বিধির খেলা,
বনের পাখিও বিধান মানে।

মায়ার বাঁধন মধুর মিলন,
যদিও পাখি বনে থাকে;
মিলেমিশে কাটায় জীবন,
পাখি হলেও কথা রাখে।

মানুষ জাতি যদিও জ্ঞানী,
বাঁধন তবু ছিন্ন করে ;
স্বার্থ খুঁজে অনেক ধ্যানী,
ভিন্ন পথে সুযোগ ধরে।

এখানে একটি লাইনে একটি চরণ, চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক। প্রতি চরণে আছে (৪+৪) মাত্রা এবং প্রত্যেক চরণে আছে দুটি করে পর্ব। কবি এ ছন্দরীতি বা কাঠামোর নাম দিয়েছেন মিশ্র চরণ স্বরবৃত্ত।

প্রথাগত ছন্দে কবির লেখা- ” নিষিদ্ধ ” কবিতার একটি স্তবক।
মাত্রাবৃত্ত ছন্দেঃ-
“নিষিদ্ধ”
লোকের মন্দ সমাজে দ্বন্দ্ব
তবু প্রশ্নবিদ্ধ ,
চোখের দেখাটা মুখের কথাটা
হয়ে গেল নিষিদ্ধ।
এখানে দু’টি চরণ মিলে একটি স্তবক, প্রত্যেক চরণে আছে-( ৬+৬+৬+২) মাত্রা।

কবির সৃষ্টি নব ছন্দরীতি-“সাক্ষাৎ”কবিতার একটি স্তবক।
১। (ক) “সাক্ষাৎ”
পথিক তুমি কে ?
এভাবে চাহিলে যে আমার দিকে !
পরিচয় দাও চেনা প্রয়োজন,
দেখে মনে হয় শত বছরের পরিচিত প্রিয়জন।

এখানে চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক। প্রথম চরণে আছে ( ৬) মাত্রা, দ্বিতীয় চরণে আছে (৬+৬) মাত্রা, তৃতীয় চরণে আছে (৬+৬) মাত্রা,এবং চতুর্থ চরণে আছে (৬+৬+৬+২) মাত্রা। এখানে চারটি চরণে পর্ব সংখ্যা সমান নয়। কবি এ ছন্দরীতি বা কাঠামোর নাম করণ করেছেন-মিশ্র চরণ মাত্রাবৃত্ত।

১। ( খ) “ব্যর্থতা”
সবিনয়ে তুমি সামনে দাঁড়িয়ে,
যুগল আঁখির দৃষ্টি বাড়িয়ে ;
প্রস্তাব দিলে,
ক্ষতি কি তোমার সাথী করে নিলে ?

এখানেও চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক। এটাও মিশ্র চরণ মাত্রাবৃত্তের আরেকটি রূপ। এখানে প্রথম চরণে আছে (৬+৬) মাত্রা, দ্বিতীয় চরণে আছে (৬+৬) মাত্রা, তৃতীয় চরণে আছে (৬) মাত্রা এবং চতুর্থ চরণে আছে ( ৬+৬) মাত্রা।

১।(গ) “সততা”
সত্য কথায় বরকত আছে,
মিথ্যে কথায় বদনাম পাছে ;
অসৎ মানুষ সকল বেলায়,
মিথ্যে কথাই বলিয়া বেড়ায়।

এখানেও একটি লাইনে একটি
চরণ। চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক। এটাও মিশ্র চরণ মাত্রাবৃত্ত ছন্দের আরেক টি রূপ ।

২। “সংকট”
সকলেই হাসে,
সুখের সাগরে হাবুডুবু খেয়ে আনন্দে ভাসে।
অনেকেই কাঁদে,
অভাব যাহার ঘরে বাসা বাঁধে।
হাসি খুশি মনে কতো আয়োজন করে সারা বাড়ি,
চালের অভাবে চুলায় ওঠে না দুখিনীর হাড়ি।

এখানে প্রথাগত নিয়মের মতো দুটি চরণ মিলে একটি স্তবক কিন্তু দু’টি চরণে পর্বের সংখ্যা সমান নয়।
যেমনঃ- প্রথম স্তবকের প্রথম চরণে আছে (৬) মাত্রা, দ্বিতীয় চরণে আছে (৬+৬+৬) মাত্রা। প্রথম চরণে আছে এক পর্ব, দ্বিতীয় চরণে আছে তিন পর্ব। দুটি চরণ অসমান বা অসম। কবি এ ছন্দরীতি বা কাঠামোর নামকরণ করেছেন অসম চরণ মাত্রাবৃত।

৩। “শপথ”
যদি কথা রাখো,
অসুবিধে নেই থাকিলে দ‚রে ;
শপথ নিয়েছি যেখানেই থাকো,
মিলন হবে সানাইয়ের সুরে।

এখানে একটি লাইনে একটি চরণ। চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক। প্রথম চরণে আছে (৬) মাত্রার একটি পর্ব। দ্বিতীয় চরণে আছে(৬+৫) মাত্রার দু’টি পর্ব। তৃতীয় চরণে আছে (৬+৬) মাত্রার দুটি চরণ। চতুর্থ চরণে আছে (৫+৭) মাত্রার দু’টি পর্ব। কবি এ কাঠামোর নামকরণ করেছেন অসম পর্ব মিশ্র চরণ মাত্রাবৃত্ত।

৪। “বাঁশি”
রাখালের বাঁশিতে মায়াবী সুর,
শোনে বাঁশির ধ্বনি ছুটে আসে হুঁর !

এখানে একটি লাইনে একটি চরণ, দু’টি চরণ মিলে একটি চরণ। প্রথম চরণে আছ(৭+৫) মাত্রা, দু’টি অসম পর্ব। দ্বিতীয় চরণে আছে (৭+৬) মাত্রা, দু’টি পর্ব। কবি এ কাঠামোর নামকরণ করেছেন অসম পর্ব মাত্রাবৃত্ত।

প্রথাগত ছন্দে কবির লেখা- “চোখের জলে নদী” কবিতার একটি স্তবক।
অক্ষরবৃত্ত ছন্দেঃ-

“চোখের জলে নদী ”
চোখের জলে নদী’টা স্রোতে বহমান,
সন্তানের দরদি মা জগতে প্রমাণ।

এখানে দু’টি চরণ মিলে একাটি স্তবক আর প্রত্যেক চরণে আছে (৮+৬) মাত্রা।

কবির সৃষ্টি নব ছন্দরীতি- “লুকোচুরি” কবিতার একটি স্তবক।
১। (ক) “লুকোচুরি”
কিশোর বয়স এলো মনে শিহরণ,
সকলেই জেনে গেল কিছু বিবরণ;
সমাজ হলো বাঁধা,
সু-পথেও কাদা-
হৃদয় গগণে ওঠে অগণিত ঢেউ,
কে দিল কাঁটার বেড়া জানি নাতো কেউ।

এখানে ছয়টি চরণ মিলে একটি স্তবক, প্রথম চরণে আছে (৮+৬)মাত্রা, দ্বিতীয় চরণে আছে (৮+৬)মাত্রা, তৃতীয় চরণে আছে (৮)মাত্রা, চতুর্থ চরণে আছে (৬) মাত্রা, প ম চরণে আছে (৮+৬) মাত্রা এবং ষষ্ট চরণে আছে (৮+৬) মাত্রা। যাকে কবি নাম দিয়েছেন অসম পর্ব মিশ্র চরণ অক্ষরবৃত্ত কারণ অক্ষরবৃত্ত ছন্দে সাধারণত একটি স্তবকে দুটি চরণ থাকে কিন্তু কবি সেই পুরানো প্রথা ভেঙে বহু চরণ প্রথা চালু করেছেন তাই এ নব কাঠামো বা ছন্দরীতির নাম দিয়েছন অসম পর্ব মিশ্র চরণ অক্ষরবৃত্ত।

১।(খ) “প্রীতির বন্ধন”
প্রীতির বন্ধন,
কেন হয়েছে এমন ?
দুজন আছি দুদেশে কিযে অপরাধে,
দুজনের হৃদয় যে এখনও কাঁদে !

এখানেও চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক তবে এখানে অসম পর্ব মিশ্র চরণ অক্ষরবৃত্তের আরেকটি রূপ। এখানে প্রথম চরণে আছে (৬) মাত্রা, দ্বিতীয় চরণে আছে (৮) মাত্রা, তৃতীয় চরণে আছে (৮+৬) মাত্রা এবং চতুর্থ চরণে আছে (৮+৬) মাত্রা।

১।(গ) “সাধনা”
সাধনা করিতে যারা বাহিরে গিয়েছে,
পরিবার পরিজন ছাড়িয়া দিয়েছে ;
নির্জনে থেকে সাধক পেয়েছে কি স্বাদ ?
অর্চনা হবে না যদি মনে থাকে খাদ।

এখানে একটি লাইন একটি চরণ, চারটি চরন মিলে একটি স্তবক, প্রতি চরণে আছে (৮+৪) মাত্রা। কবি এ কাঠামোর নামকরণ করেছেন অসম পর্ব মিশ্র চরণ অক্ষরবৃত্ত।

২। “আকর্ষণ”
তোমায় দেখেছি আমি দিবালোকে যতবার,
দুচোখের ইশারায় ডেকে ছিলে ততবার।

এখানে দুটি চরণ মিলে একটি স্তবক। প্রতি চরণে আছে (৮+৮) মাত্রা এবং দুটি পর্ব, দুটিই সমান তাই কবি এ কাঠামোর নামকরণ করেছেন, সম পর্ব অক্ষরবৃত্ত।

৩। “বিষাদ”
বেদনা বিষাদ যত,
চোখের জলে প্রকাশ হয়ে যায় অবিরত।

এখানে প্রথম চরণে আছে (৮) মাত্রা এবং এক পর্বে একটি চরণ। দ্বিতীয় চরণে আছে (৮+৮) মাত্রা এবং দুটি পর্বে একটি চরণ। দু’টি চরণেই সম পর্ব কিন্তু দু’টি চরণ অসম তাই কবি এ কাঠামোর নাম দিয়েছেন সম পর্ব অসম চরণ অক্ষরবৃত্ত।

৪। (ক) “সুখ”
যেজন অর্থের মাঝে সুখ খুঁজিয়া বেড়ায়,
বিত্তে করে চাষাবাদ সুখের ফলন চায় ;
ধর্মালয়ে সুখ আছে ধার্মিক লোকেই বুঝে,
বিত্তশালী ব্যর্থ হয়ে সুপথ হারিয়ে খুঁজে।

এখানে একটি লাইনে একটি চরণ, চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক। প্রতি চরণে আছে (৮+৮) মাত্রা। প্রত্যেক চরণে আছে দু’টি পর্ব। কবি এ কাঠামোর নামকরণ করেছেন সম পর্ব মিশ্র চরণ অক্ষরবৃত্ত।

৪।(খ) “মেঠোপথ”
মেঠোপথে হেঁটে গেলে,
ফসলের মুক্ত মাঠ প্রকৃতির স্নিগ্ধ বায়ু ;
সহজেই স্বস্তি মেলে,
মনে হয় বেড়ে গেল শত বছরের আয়ু ।

এখানে একটি লাইনে একটি চরণ, চারটি চরণ মিলে একটি স্তবক। প্রত্যেক পর্বে আছে (৮) মাত্রা। প্রথম ও তৃতীয় চরণে আছে একটি করে পর্ব এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ চরণে আছে দুইটি করে পর্ব। এটাও সম পর্ব মিশ্র অক্ষরবৃত্ত ছন্দের একটি রূপ।

কবি লিখেছেন বেশ কিছু সনেট, একজন অভিজ্ঞ ছান্দসিক কবির পক্ষেই সম্ভব সনেট লেখা। এখানে কবির লেখা একটি সনেট তুলে ধরলাম।

“বৃদ্ধাশ্রম”
আধুনিক ছেলে-মেয়ে সদ্য পরিবারে,
মাতা-পিতাকে পাঠায় দ‚রে বৃদ্ধাশ্রম;
সন্তান ছেড়ে মা-বাবা থাকিতে না পারে,
অনেক কষ্টে জীবন করে অতিক্রম।

সন্তান যখন হয়ে গেল মতিভ্রম,
মনে বিষাদ বেদনা শুধু অবিচারে;
নীরবে সহিতে বাধ্য যত পরিক্রম,
অদৃষ্টকে দোষারোপ করে নির্বিচারে।

যে সন্তান মা-বাবাকে অবহেলা করে,
সুখী হতে পারবে না কোনদিন ভবে;
সেবা না করিলে ভাগ্যে অভিশাপ রবে।

বৃদ্ধাশ্রমে কেনো দিবে যতেœ রেখো ঘরে,
মা-বাবার মোনাজাত যাবে না বিফল;
আশির্বাদ সন্তানের জীবনে সুফল।

গদ্যছন্দেও কবি দেখিয়েছেন সুনিপুণ পারদর্শিতা। কথাকে শব্দের ব্যঞ্জনায় রূপায়িত করে সুনিদ্রিষ্ট অলংকারে উপস্থাপন করেছেন কাল্পনিক চিত্রকল্প, কবিতা হয়ে ওঠেছে শিল্পগুণে পুরিপ‚র্ণ। কবির লেখা গদ্যছন্দে কয়েকটি কবিতার পঙতিঃ-
“মধুর মিলন”
দুপুরে স‚র্য্যটা ঠিক যেন মাথার উপরে
লুকিয়ে পড়েছে দেহের ছায়া
প্রীতির স্পর্শে উভয়ে আলিঙ্গন
মধুর মিলন যেন তৃপ্তির খোরাক !

“অপেক্ষা”
এখনও তোমায় খুঁজে অস্থির !
অপেক্ষায় প্রতিটি প্রহর যেন হাজার বছর!

“অভিমান”
গোপনে রাখিলে অথই জল
অভিমানের অনুকরণে করিলে কৃপণতা !
মরুভ‚মির মতো হাহাকার হয়ে
জল দাও,জল দাও
চিৎকার করেছি অনেক বার
প্রতিমার মতো নির্বাক তুমি
প্রণয়ের বরফ গলে না।

“বিসর্জন”
কিশোর বয়স দুচোখে রঙিন স্বপ্ন
সহজেই গড়ে ওঠে ভালোবাসার জুটি
অবাধে চলাফেরা পার্কে প্রেমালাপ
একে অপরের কোলে সোহাগ অন্বেষণ
কার্তিক লগণে যেন পথে পশুর মিলন !

কবি’র লেখায় খুঁজে পাই, প্রীতি প্রণয়ের বিরহ ব্যথা। কবির লেখা বিভিন্ন কবিতা থেকে তুলে ধরছি।
“প্রেম”
শুনেছি লোকের মুখে
প্রেম করে সাধু ,
মনের প্রকৃত আকর্ষণ
নয় কোন যাদু ।

“উপলদ্ধি”
কোমল হাতের দরদি ছোঁয়া
হৃদয় চৌকাঠে শিহরণ জাগে
যত বার স্পর্শ করও
প্রেমের মালে অনুভ‚তির গোলাপ ফোটে!

“প্রেমাঞ্জলি”
হয়তো পারব না
সম্রাট শাহ জাহানের মতো
প্রেমের স্মৃতিতে তাজমহল গড়তে
মনে রেখো-
যতদিন দেহে প্রাণ থাকে
দিয়ে যাব প্রেমাঞ্জলি।

“অপহরণ”
বিধির কিযে বিধান পারি না বুঝিতে,
প্রিয়জন কেড়ে নিল কঠোর নীতিতে ;
ব্যথার দু’টি পাহাড়,
শুধু হাহাকার-
সে কাঁদে আমিও কাঁদি ব্যথিত দুজন,
বিয়ের নামে হয়েছে সে অপহরণ ।

“সাক্ষাত”
পথিক তুমি কে ?
এভাবে চাহিলে যে আমার দিকে !
পরিচয় দাও চেনা প্রয়োজন,
দেখে মনে হয় শত বছরের পরিচিত প্রিয়জন।

মুখোশ খুলিয়া,
অবুঝের মতো নিরবে কাঁদিয়া;
বলিতে লাগিল ছিল যত মনে,
তুমি ভুলে গেছো আমিতো পারি না নিত্য ভাসে নয়নে।

কবির লেখায় পাওয়া যায় অসহায় বি ত মানুষের কষ্টের আর্তনাদ।
কবির লেখা থেকে –

“দুর্দিন”
সুদিনে বন্ধুর আনাগোনা
দুর্দিনে দ‚রে সরে যায়
পরিচয় দিলেও চিনিতে অক্ষম
অচেনার অভিনয় করে
স্বার্থের মে যেন খলনায়ক ।

“অপবাদ”
যত দোষ গরীবের
মানুষ হলেও যেন সমাজের আবর্জনা !

“বর্গাচাষী”
খড়ের ছাউনি চালে পাটখড়িতে বেড়া,
বর্ষাকালে বৃষ্টি পড়ে ঘর ভিজে নেড়া।

কবির লেখায় আছে গরীব, দুখী, অসহায় বি ত মানুষের দুঃখ, কষ্টের আর্তনাদ, আছে প্রীতি প্রণয়ের বিরহ, ব্যথা। কবির প্রতিটি লেখায় খুঁজে পাওয়া যায় পুরিপ‚র্ণ বিরহ, এ জন্যে তিনি ” বিরহী কবি ” হিসেবে বিষেশ ভাবে খ্যাত। বর্তমানে যে কয়জন নবীন প্রতিভাবান ও খ্যাতিমান কবি আছেন, তাদের মধ্যে তিনিও একজন। কবির জীবনের সফলতা কামনা করি, এগিয়ে যান আপন মহিমায়।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ