সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:০১ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
ঝালকাঠিতে বিলীনের পথে সাইক্লোন শেল্টার, তলিয়ে গেছে মসজিদ, নিখোঁজ ১
ঝালকাঠি থেকে মোঃ রাশেদ খান / ১৯০ Time View
Update : সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পশ্চিম দেউরী গ্রামে বিষখালী নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে পশ্চিম দেউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারের একাংশ। বন্যা-ঘূর্ণিঝড়ের সময় দিশেহারা উপকূলবাসীর একমাত্র আশ্রয়স্থল সাইক্লোন শেল্টার। সেই আশ্রয় কেন্দ্র যদি হয় ঝুঁকিপূর্ণ, তাহলে নদী তীরের মানুষের জীবন রক্ষাই দায়।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন খান জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ঝালকাঠী পোনাবালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম দেউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার দ্বিতল ভবনের দুটি কক্ষ ও মসজিদটি বিষখালী নদীর স্রোতে তলিয়ে যায় এবং নেয়ামত উল্লাহ (১৬) নামে এক কিশোর নিখোঁজ রয়েছে।

এরপুর্বে ঘূর্ণিঝড় ফণীর সময় পানির তোড়ে বিদ্যালয়ের একটি পানির ট্যাঙ্ক ও নলকূপ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে বেজমেন্টের নিচের মাটি সরে পানি ঢুকে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে চলে যেতে পারে পুরো ভবনটি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষকরা স্কুলে এলেও সবসময় ভয়ের মধ্যে থাকেন।

অথচ ইমারজেন্সি সাইক্লোন রিকভারি অ্যান্ড রিস্টোরেশন প্রজেক্টের আওতায় প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে মাত্র ছয় বছর আগে এই প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারটি নির্মাণ করা হয়।

বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। ওই সময় ভাঙন কবলিত বিষখালী নদীর মাত্র ১০০ গজের মধ্যে এ ধরনের ভবন নির্মাণে স্থানীয়রা আপত্তি জানালেও কর্তৃপক্ষ তাতে ভ্রূক্ষেপ করেনি।

তখন বলা হয়েছিল, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নদী শাসনের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ভবনটি ভাঙনের চূড়ান্ত ঝুঁকিতে ছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইতোমধ্যে বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারের পাশ দিয়ে যাওয়া সংযোগ সড়ক ও স্থানীয় বাজার বিলীন হয়ে গেছে। সরে গেছে সাইক্লোন সেল্টারের বেজমেন্টের নিচের মাটি। সেখানে ঢুকে পড়েছে পানি। ভবনটি এখন শুধু পাইলিংয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিন পাশেই বিষখালীর পানি থৈ-থৈ করছে। বিদ্যালয়ে মোট ১৩৭ জন শিক্ষার্থী থাকলেও ভয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসা বন্ধ হয়েছে অনেকে আগেই। যে কোনো সময় নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে ভবনটি।

শুধু বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারটিই নয়, নদীতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বাজার, সড়ক, বসতঘর, ফসলি জমিসহ অসংখ্য গাছপালা। গত ঘূর্ণিঝড়ে আঘাত হানার ভয়ে তিনশতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল এই বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রাতে অনেকেই সেখান থেকে নেমে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

দেউরী গ্রামের বৃদ্ধ হাসেম আলী হাওলাদার তিনি বলেন, বিষখালীতে বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি চলে গেছে। আবহাওয়ার সংকেত শুনে আগে আশ্রয় নিতাম নদীর পাশের বিদ্যালয়ে। সরকার আমাদের কষ্টের কথা চিন্তা করে বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করে দিলেন। কিন্তু স্থান নির্ধারণ সঠিক হয়নি। নদীর পাশে এটি নির্মাণ করায় নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। আশ্রয় নেয়ার স্থানটি যদি হয় ঝুঁকিপূর্ণ, তাহলে আমরা যাবো কোথায়।

পশ্চিম দেউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন বলেন, বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারটি রক্ষা জন্য বিভিন্ন দফেতরে অনেকবার জানিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। এখন এটি নদীগর্ভে বিলীন হলে স্থানীয়রা চরম ভোগান্তিতে পরবে। কর্তৃপক্ষের কাছে এটি রক্ষার দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের ঝালকাঠি অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আমীন বলেন, ভবন নির্মাণের সময় পাউবো নদী শাসনের একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও তা শেষ করেনি। এ কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সাইক্লোন সেল্টারটি রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান শুভ জানান, সংবাদ পেয়ে ট্রলারে ঘটনাস্থলের পথে আছি। যেহেতু দুর্গম এলাকা। বর্ষা মৌসুমে ট্রলার ছাড়া যাতায়াতের আর সহজ পথ নেই। যেতে ঘণ্টাখানেকেরও বেশি সময় লাগে। সরেজমিন দেখে ক্ষতি নির্ধারণ করে পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ