মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:০৭ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
দীর্ঘ অপেক্ষায়ও মেলেনা খোলা বাজারের চাল-আটা
ঠাকুরগাঁও থেকে আনোয়ার হোসেন আকাশ / ৩১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল-আটা কিনছেন সাধারণ মানুষ। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে অনেকেই গাদাগাদি করে দীর্ঘ সময় লম্বা লাইনে কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন চাল-আটা কেনার জন্য। আবার কেউ অপেক্ষা করেও কিনতে না পেরে খালি হাতে ফিরছেন বাড়িতে। এমন দৃশ্য দেখা গেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল পৌর শহরের ওএমএসের ডিলারদের চাল-আটা বিক্রয়কেন্দ্রে।

গত কয়েকদিন ধরে পৌর শহরের শিবদিঘী কাঁচাবাজার বন্দর কলেজ হাট ও হাটখোলা বাজারে ওএমএস ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রে অনেক মানুষের উপস্থিতি। লাইনে দাঁড়িয়ে চাল বা আটা কিনছেন কেউ কেউ। গরিব-অসহায় মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষও কিনছেন চাল-আটা। তবে চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় দিনের অর্ধেক বেলায় ফুরিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিনের বরাদ্দের চাল-আটা। পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাদের অপেক্ষা করেও চাল না পেয়ে দুপুর দেড়টায় খালি হাতে ফেরেন। এ ছাড়া কলেজ হাট কেন্দ্রে পৌর শহরের ভাণ্ডারা গ্রামের বাসিন্দা নার্গিস বানুও চাল কিনতে এসে দুপুর ২টায় না কিনে ফিরে গেছেন।

ওএমএসের চাল-আটার ক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, চাল ও আটা ভালো মানের। তা ছাড়া খুচরা বাজারের চেয়ে দাম কম হওয়ায় অল্প করে চাল-আটা নেওয়ার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলাম। তবে বিতরণ শেষে বিক্রির আরও সময় থাকলেও আজ আর বরাদ্দ নেই জানিয়ে আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একইভাবে আরেক ক্রেতা নুরবানু বলেন, বরাদ্দ অনুযায়ী চাল বিক্রি হওয়ায় আজ চাল পাইনি। পরের দিন চাল নিতে বলা হয়েছে।

হাটখোলা বাজারের বিক্রেতা সামসুল জানান, চাল ও আটার চাহিদা বেড়েছে। মানুষের উপচে পড়া উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। বরাদ্দ থেকে চাহিদা বেশি হওয়ায় চাল-আটা দিনের প্রায় অর্ধেক বেলায় ফুরিয়ে যাচ্ছে।

একইভাবে পৌর শহরের শিবদিঘী কাঁচাবাজারের বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন জানান, এত চাহিদা বেড়েছে যে চাল-আটা বরাদ্দের চেয়ে চাহিদা অনেক বেশি। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিক্রির নিয়ম থাকলেও দিনের বরাদ্দ অর্ধেক বেলায় ফুরিয়ে যায়।

কলেজ হাটের বিক্রেতা মোকসেদ আলী বলেন, চাহিদা বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষকে ৩ কেজি আটা ও ৩ কেজি চাল দিচ্ছি। তিনি প্রতিদিন হাজেরখানেক মানুষকে চাল-আটা দেন বলে জানান।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরজুড়ে সরকারি নির্দেশনায় প্রতিদিন তিনজন ডিলারের (বিক্রেতা) মাধ্যমে প্রত্যেকের অনুকূলে দেড় মেট্রিক টন চাল ও এক মেট্রিক টন আটা বরাদ্দ করা হয়েছে। যা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বেচতে পারবেন। চাল ৩০ টাকা কেজি জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ কেজি এবং আটা ১৮ টাকা কেজি দরে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ কেজি করে বিক্রি করার কথা বলা হয়েছে।

পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, মানুষের চাহিদা বেড়ে গেলে অবশ্যই তা স্থানীয়ভাবে দেখা হবে। সাধারণ মানুষ যেন চাল-আটা কিনতে এসে খালি হাতে ফিরে না যায় সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ