সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
নাসির-তামিমার বিয়ে অবৈধ : পিবিআই
এবি বিনোদন ডেস্ক / ১৮৮ Time View
Update : সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২
ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানার মধ্যে বিয়ে বৈধভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি বলে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তামিমা সুলতানার প্রথম স্বামী রাকিব হাসানকে দেয়া তালাকের কাগজপত্র ‘জালিয়াতির মাধ্যমে’ তৈরি করা হয়েছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় তালাক দেয়া হয়নি বলে পিবিআই তদন্তে দেখতে পেয়েছে।

আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

এ বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার একটি রেস্তোঁরায় তামিমা সুলতানা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর ফেব্রুয়ারির ২৪ তারিখে তামিমা সুলতানার প্রথম স্বামী রাকিব হাসান নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত তখন রাকিব হাসানের জবানবন্দী গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেয়।

মামলা দায়ের হবার পর নাসির হোসেন এবং তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা সংবাদ সম্মেলনে রাকিব হাসানের অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করেছিলেন। সেই সংবাদ সম্মেলনে নাসির হোসেন বলেছিলেন, নিয়ম অনুযায়ী তামিমার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এবং তামিমার বিয়ে ও সন্তান সম্পর্কে সব কিছু জেনেই তিনি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ওই সময় গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তামিমাকে নিয়ে ভুল এবং উল্টাপাল্টা কিছু প্রচার করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন নাসির হোসেন।

বিষয়টি নিয়ে সেসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান বলেছেন, তদন্তে দেখা গেছে আইনগত বিধিব্যবস্থা অনুযায়ী তামিমা সুলতানার ডিভোর্স হবার আগেই নাসির হোসেন তাকে বিয়ে করেছেন।

তামিমা সুলতানা ও নাসির হোসেন তালাকের যে সময় এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানিয়েছেন, তদন্তে সেসব তথ্যে গড়মিল দেখা গেছে বলে তিনি বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, “তদন্তে দেখা যায়- একটি তালাক হতে হলে যে ৩টি শর্ত পূরণ করতে হয়, যেমন সংশ্লিষ্ট কাজিকে উপস্থাপন করা, যাকে তালাক দেয়া হচ্ছে তার বাড়িতে একটি নোটিশ পাঠানো এবং যাকে তালাক দেয়া হচ্ছে তার স্থায়ী ঠিকানায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি নোটিশ পাঠাতে হবে- এগুলোর কোনটিই ঠিকঠাক করা হয়নি।”

পিবিআই প্রধান বলেন, তামিমা দাবি করেছেন যে নোটিশ একটি নির্দিষ্ট তারিখে পাঠানো হয়েছে, সে তারিখে ওই বাড়িতে রাকিব হোসেন থাকতেন না। মানে ঠিকানা ভুল ছিল। আর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পিবিআইকে বক্তব্য দিয়েছেন যে এমন কোন চিঠি তার রেজিস্টারে নেই। সুতরাং পুরো বিষয়টিতেই অনিয়ম হয়েছে।

তিনি বলেন, “পুরো ব্যাপারটি একটি জালিয়াতি এবং বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত যাবতীয় দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।”

ফলে রাকিব হাসান যে দাবি করেছিলেন, তার মধ্যে দুইটি দাবি তিনি জালিয়াতির শিকার হয়েছেন এবং তার মানহানি হয়েছে এই দুইটি দাবি সঠিক প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান বনজ কুমার মজুমদার।

এমন পরিস্থিতিতে নাসির হোসেন ও তামিমার বিয়েকেও ‘অবৈধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

সূত্র : বিবিসি

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ