বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
আনন্দের রেণু উড়ছে বাংলাদেশ দলে; শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জয়
এবি স্পোর্টস ডেস্ক / ৫৯ Time View
Update : বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১
ছবি: সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সর্বশেষ দেখায়ও ৩-০ গোলের জয় ছিল। ওদের হারানোটা তাই বড় ঘটনা না। কিন্তু সাফে এমন একটা জয় নিয়ে শুরু করতে পারা অবশ্যই বড় ব্যাপার। বাংলাদেশ দলের ভেতর কাল সেই আনন্দের রেণুই ছড়িয়েছে। স্কোরলাইন বড় নয়, কিন্তু ম্যাচে যেমন আধিপত্য আশা করা হয়েছিল সেটা দেখিয়েছেন তপু, জামালরা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনেও শুধু স্কোরিং বাদ দিয়ে কোচ অস্কার ব্রুজোনের মুখে ছিল সন্তুষ্টির হাসি, ‘আমরা ৩ পয়েন্ট পেয়েছি। আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট দলের পারফরম্যান্সে। হ্যাঁ, ম্যাচে স্কোরিংয়ের ঘাটতি স্পষ্ট ছিল। পরের ম্যাচে এ ব্যাপারে আরো মনোযোগী হতে হবে। যদিও সমস্যাটা পুরনো। এমনটা না হলে আরো বড় ব্যবধানেই আমরা জিততে পারতাম।’

মালদ্বীপ জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশি দর্শকদের সমর্থন ছিল চোখে পড়ার মতো। তারাও আরো গোল দেখতে পেলে আনন্দটা হতো ষোলো আনা। তবু জয়-গর্বিত ভঙ্গিতেই মাঠ ছেড়েছেন এই প্রবাসীরা। দ্বীপদেশে বাংলাদেশের এবারের সাফ অভিযান নতুন কোচ নিয়ে, নতুন প্রত্যাশায়। জেমি ডে’র পর নতুন ধরনেও খেলাচ্ছেন তিনি দলকে। প্রথম ম্যাচ শেষে সেই ধরনে দলকে মানিয়ে নিতে দেখাটা ব্রুজোনের জন্য ছিল বাড়তি তৃপ্তির, ‘পুরো ৯০ মিনিট ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ক্রস থেকে, কাউন্টার অ্যাটাক থেকে, সেট পিস থেকে এমনকি ওয়ান-টু খেলে সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা গোলের সুযোগ তৈরি করেছি। উল্টো দিকে ওরা আমাদের ডিফেন্সে কোনো ফাঁক-ফোকরই বের করতে পারেনি। ম্যাচটি সেই হিসাবে ১-০তে শেষ হওয়ার কথা না। ব্যবধানটা আরো বড় হলেই বেশি মানাত।’

শ্রীলঙ্কার কোচ অবশ্য দাবি করেছেন তারা ১০ জনের দলে পরিণত না হলে ম্যাচটি বরং তাঁদের পক্ষে থাকত। ব্রুজোন অবশ্য তা মানেননি, ‘হ্যাঁ, ওই গোলের পর আমরা আরো অনেক বেশি জায়গা পাচ্ছিলাম। ওদের ডিফেন্স ও মাঝমাঠের মধ্যে আমাদের আধিপত্য ছিল। উল্টো দিকে ওরা লং বল খেলার চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমাদের ডিফেন্সের সামনে কিছু করতে পারেনি। র‌্যাংকিংয়ের দিক দিয়ে আমরাই ওদের চেয়ে এগিয়ে। মাঠেও তাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলার লক্ষ্যই আমাদের ছিল। সেটা আমরা করেছি। ম্যাচের বেশির ভাগটা আমরা ওদের অর্ধেই খেলতে পেরেছি।’

কৌশলের দিক দিয়েও ব্রুজোন নিজেদেরই এগিয়ে রেখেছেন, ‘প্রথমার্ধে তিন ডিফেন্ডার নিয়ে ওরা ডিপ ডিফেন্ডিং করছিল। মিডফিল্ডাররাও নিচে নেমে সাহায্য করছিল। ওই সময়টায় সুযোগ বের করা সহজ ছিল না। পরে আমরা কৌশল পরিবর্তন করে উইং দিয়ে খেলি। প্রথমার্ধে শেষ ১০ মিনিটে বিশেষত বাঁ উইং ধরে আমরা ওদের গোলমুখ খুলতে পেরেছি কয়েকবার। দ্বিতীয়ার্ধে ৪-৪-২ খেলে আমরা ওদের আরো চেপে ধরেছিলাম। সাদ উদ্দিন খুব ভালো খেলেছে এই ফরমেশনে। আর ম্যাচ যত গড়িয়েছে পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে ও শারীরিকভাবেও আমাদের খেলোয়াড়রাই ছিল এগিয়ে।’ শেষ পর্যন্ত একমাত্র অতৃপ্তি তাই ফিনিশিং নিয়ে। তবে জেমির রক্ষণাত্মক কৌশলে বাংলাদেশ পজেশননির্ভর আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে ভুলে গিয়েছে বলে যে বদনাম আছে, ব্রুজোন তা নাকচ করে এই ম্যাচ শেষেও জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের ভালো খেলোয়াড় আছে এবং আমি আগেও বলেছি, বাংলাদেশ ভালো ফুটবল খেলতে পারে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এখন কনভারশন হলো রেজাল্ট আরো ভাল হবে। আজ শুধু দ্বিতীয়ার্ধেই পাঁচ-ছয়টা পরিষ্কার সুযোগ আমরা তৈরি করেছি। কিন্তু সেগুলোকে গোলে পরিবর্তন করতে হবে। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।’ প্রথম ম্যাচটা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হওয়াতেও আগে থেকে খুশি ছিলেন ব্রুজোন। জয় দিয়ে এমন একটা শুরুই তিনি চেয়েছিলেন, যেন পরের কঠিন লড়াইগুলো পাড়ি দেওয়ার শক্তি তিনি পান।

ম্যাচসেরা তপু বর্মন গত বিশ্বকাপ বাছাইয়েও আফগানিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এক গোল করে দলকে পয়েন্ট এনে দিয়েছিলেন। কাল তাঁর ঠাণ্ডা মাথার পেনাল্টি শট বাংলাদেশকে দিয়েছে এই জয়ের ছোঁয়া। ব্রুজোনও তাই তপুর প্রশংসা করতে ভোলেননি, ‘আমরা ভালো খেললেও শেষ পর্যন্ত ৩ পয়েন্ট পাওয়াটা নির্ভর করছিল ওর ওপরই। তপু সেটা পেরেছে।’ তপু নিজে যদিও তাঁর গোলগুলোকে শুধু নিজের গোল ভাবতে রাজি নন, ‘এই গোল আমার না, পুরো দলের। দল জয়ের মতো খেলতে পেরেছে বলেই শেষ পর্যন্ত ওই গোলটা নিয়ে আমরা ম্যাচ জিতে বেরিয়েছি।’

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category