বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
সাগরপথে ইউরোপে যাত্রা: আবারও দ্বিতীয় বাংলাদেশ
এবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১৫০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

বহু দেশ ঘুরে লিবিয়া। দফায় দফায় মানব পাচারকারী চক্রের হাতবদলের পর অবশেষে ভয়ংকর সাগরযাত্রা। ভাগ্য ভালো হলে প্রাণ নিয়ে তারা পৌঁছে ইউরোপে, নয়তো মৃত্যু। এমন অনিশ্চিত মরণযাত্রা জেনেও লিবিয়া থেকে ইউরোপ, বিশেষ করে ইতালি অভিমুখে যাত্রা করছে বাংলাদেশিরা। উন্নত জীবনের স্বপ্নে তারা নিজেদের সঁপে দিচ্ছে আন্তর্দেশীয় মানব পাচারকারী চক্রের হাতে।

গতকাল সোমবার জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ বছরের প্রথম আট মাসে অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পৌঁছা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে ২৮ শতাংশই তিউনিশিয়ার নাগরিক। বাংলাদেশি আছে ১৩ শতাংশ। ওই সময়ের মধ্যে সাগর পাড়ি দেওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উৎস দেশ হিসেবে শীর্ষ তালিকায় আরো আছে মিসর, আইভরি কোস্ট, ইরান, গিনি, ইরিত্রিয়া, মরক্কো, সুদান ও ইরাক। হালনাগাদ তালিকায় এবারও দ্বিতীয় শীর্ষস্থানে আছে বাংলাদেশ।

ইউএনএইচসিআরের হিসাবে দেখা গেছে, গত বছরও সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পৌঁছা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের তালিকায় শীর্ষ ১০-এ ছিল বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, অবৈধ অভিবাসনে উৎস দেশগুলোর শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়া বাকি দেশগুলোর অবস্থান আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে। সেগুলোর বেশির ভাগেই রাজনৈতিক অস্থিরতা আছে। সেই তুলনায় অনেক দূরের ও স্থিতিশীল দেশ বাংলাদেশ। ইউরোপে উন্নত জীবনের খোঁজে বাংলাদেশিরা অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সাগরে ডুবেই তাদের মৃত্যু হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশিরা অবৈধভাবে ইউরোপে পৌঁছতে পারলেও তাদের সেখানে স্থায়ী আশ্রয় মিলছে না। কারণ ইউরোপে আশ্রয় পাওয়ার যৌক্তিকতা তারা প্রমাণ করতে পারছে না। ফলে তাদের দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে। ইউরোপ থেকে ‘অনিয়মিত’ অভিবাসীদের ফেরাতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) আছে। তার আওতায় অনিয়মিত অভিবাসীরা ফিরে আসছে।

এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, অবৈধ অভিবাসনকে সরকার সমর্থন করে না। অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়া ব্যক্তিরা দেশকেই বিপদে ফেলছে এবং দেশের সুনাম নষ্ট করছে।

লিবিয়ার জলসীমায় আটক ৫০০ অভিবাসীর মধ্যে বাংলাদেশিও আছে : আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ অভিমুখী অভিবাসী ও শরণার্থীর স্রোত ঠেকাতে লিবিয়া সাগরে অভিযান জোরদার করেছে। লিবিয়ার কোস্টগার্ড গত রবিবার পাঁচ শতাধিক যাত্রীবোঝাই একটি কাঠের নৌকা আটক করেছে। ওই যাত্রীরা জাওয়াইয়া শহরের তেল শোধনাগার থেকে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, ওই নৌকার যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশ, সুদান, সোমালিয়া ও সিরিয়ার নাগরিকরা ছিল।

এর আগে গত শুক্রবার লিবিয়ার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী দেশটির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চার হাজারের বেশি বিদেশিকে আটক করে। তারা সাগরপথে ইতালি বা ইউরোপের কোনো দেশে যাওয়ার জন্য সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে লিবিয়া ও তিউনিশিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে প্রায় ৪৪ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী ইউরোপে পৌঁছেছে। এর বাইরে ২৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর ইউরোপযাত্রা ঠেকিয়েছে লিবিয়ার কোস্টগার্ড। গত ৯ মাসে লিবিয়ার উপকূলে প্রায় এক হাজার ১০০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

সূত্রে: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category