মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ১১:৪০ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
অনিয়ম করে অবসরে গেলেও পার পাবেন না
এবি ডেস্ক রিপোর্ট / ৭৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রকল্পের ক্ষেত্রে অনিয়মে জড়িতরা অবসরে গেলেও পার পাবেন না। তিনি কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন প্রকল্পে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে গিয়ে এ কথা বলেন। কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন প্রকল্পের অনিয়ম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থাও করেন, পাশাপাশি কাজটাও চালু রাখেন, যাতে প্রকল্পটি না মরে যায়।’

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশ নেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন প্রকল্পটি ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য একনেকে অনুমোদিত হয়েছিল। ২০১২ সালে অনুমোদনের পর দফায় দফায় মেয়াদ ও ব্যয় বাড়লেও প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি।

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজের কাজ শেষ করতে চূড়ান্তভাবে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। যাঁরা এ প্রকল্পের বিলম্বের ক্ষেত্রে জড়িত, তাঁদের শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজের অনিয়মে যাঁরা জড়িত, তাঁদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তাঁদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি যদি কেউ অবসরে যান, তাঁকেও শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কাজও চলমান রাখতে বলেছেন।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু কারখানার ভেতরে করলে চলবে না। কারখানা এলাকায় ইটিপি স্থাপন করতে হবে। এ ছাড়া কোনো প্রকল্পে বৈদেশিক সহায়তা না পেলে রিজার্ভ থেকেও ঋণ নেওয়া যেতে পারে। তবে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে রিজার্ভ থেকে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, দেশের সব এলাকায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমানভাবে উন্নয়নকাজ করতে হবে, যাতে কোনো এলাকা অভিযোগ করতে না পারে আমরা অবহেলিত।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্টে যে সুপারিশ দেওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

নাসিমা বেগম বলেন, এরই মধ্যে অনিয়মকারীদের কেউ কেউ যে অবসরে চলে গেছেন, এটা প্রধানমন্ত্রীর নজরে ছিল। তবে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা যায় না। কিন্তু সরকারের আর্থিক ক্ষতি করেছে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পিডিআর অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা দেওয়া যায়। নাসিমা বেগমও এ প্রসঙ্গে অবসরে গেলেও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, একনেক বৈঠকের শুরুতে ‘সোনালি ৭৫’ বয়স হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে কমিশনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘের এসডিজি পুরস্কার পাওয়ায় তাঁকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

শুক্রবার খুলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দ্বিতীয় মুখ : নির্ধারিত সময়ের আগে প্রকল্পের ব্যয় না বাড়িয়ে আগামী শুক্রবার বঙ্গবন্ধু টানেলের দ্বিতীয় মুখ খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীর নিচে নির্মাণাধীন এই টানেল ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু অগ্রগতি ভালো হওয়ায় প্রকল্পের কাজ দ্রুতই শেষ হবে।’

এম এ মান্নান বলেন, ‘একনেক সভা চলাকালে আমরা জানতে পারলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল (কর্ণফুলী টানেল) ডিসেম্বরে খুলে দেওয়ার কথা ছিল। তবে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় আগামী শুক্রবার খুলে দেওয়া হচ্ছে। এটা খুবই আনন্দের সংবাদ।’ তিনি আরো বলেন, আশা ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এটা উদ্বোধন হবে। এখন আশা করা হচ্ছে, এত দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না, তার অনেক আগেই উদ্বোধন করা যাবে। তবে এটা কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে।

মন্ত্রী বলেন, এটা সরকারের জন্য অবশ্যই অনেক বড় আনন্দের ব্যাপার। প্রায় সময় কথা উঠেছে, কোনো প্রকল্প সময়মতো শেষ হয় না। আগায় না। এটা একটা বড় অভিযোগ। এ প্রকল্পে তেমনটা হয়নি, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শেষ হচ্ছে। মূল কাজ এখন শেষ হচ্ছে। তবে আরো অনেক কাজ বাকি আছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ