বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৫১ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
দু’দিনে কাশ্মিরে নিহত দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী, গ্রেফতার ৭০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৪৭ Time View
Update : বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১

পাঁচদিনে সাতজন সাধারণ মানুষের হত্যার পর জম্মু-কাশ্মির জুড়ে তল্লাশি অভিযানে নেমেছে পুলিশ। অভিযানে ইতোমধ্যে দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছেন, গ্রেফতার হয়েছেন আরও ৭০০ জন।

পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজার ও জার্মানির সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের (ডিডব্লিউ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী খোঁজে কাশ্মিরের বেশ কয়েকটি জায়গায় যৌথভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও কাশ্মির পুলিশ। তল্লাশির সময় যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কাশ্মিরের অনন্তনাগ ও বান্দিপোরায় মৃত্যু হয় দুই জঙ্গির।

অনন্তনাগে নিহত বিচ্ছিন্নতাবাদীর নাম ইমতিয়াজ আহমেদ দার। সে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিসংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার সদস্য হিসেবে কাজ করত কাশ্মিরে। তবে বান্দিপোরায় ‍নিহত জঙ্গির নাম এখনও জানা যায়নি।

এদিকে, গত দু’দিনে বিচ্ছিন্নতাবাদে সংশ্লিষ্টতা ও তাতে মদত দেওয়ার অভিযোগে ৭০০ জনকে গ্রেফতার করেছে যৌথ বাহিনী। তারা সবাই কাশ্মিরের নিষিদ্ধ সংগঠন জামাত-ই-ইসলামির সমর্থক বলে জানিয়েছেন বাহিনীর কর্মকর্তারা।

জার্মানির সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী কিছুদিনের মধ্যে আরও হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে কাশ্মিরে। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই এই ৭০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

গত একমাস ধরে কাশ্মির উত্তপ্ত হয়ে আছে। তবে গত সপ্তাহে চরমে পৌঁছেছে এই উত্তেজনা। একের পর এক সাধারণ মানুষকে খুন করতে শুরু করেছে সন্ত্রাসীরা। অভিযোগ, বেছে বেছে হিন্দু পণ্ডিত এবং শিখদের খুন করা হচ্ছে। যদিও যে সাতজনকে হত্যা করা হয়েছে, তার মধ্যে মুসলিমও আছে। নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকে খুন করে তারা কাশ্মিরে উত্তেজনা জারি রাখতে নিরস্ত্র সাধারণ এসব মানুষকে তারা খুন করছে বলে অভিযোগ।

পাঁচদিনে সাতজন খুন হওয়ার পরে নড়েচড়ে বসে ভারতের কেন্দ্রীয় প্রশাসন। দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জরুরি বৈঠক ডাকেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের এনএসএ অজিত ডোভাল। এরপরেই কাশ্মীরে একটি বিশেষ দল পাঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। কাশ্মীর পুলিশের সঙ্গে সেই দল তল্লাশি অভিযান শুরু করে। তারপরই গত দুইদিনে ৭০০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কাশ্মির পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ডিডব্লিউকে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে উত্তেজনা বাড়ছে কাশ্মিরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মানুষ তালেবানকে সমর্থন জানিয়ে পোস্ট করেছে। কয়েকটি সন্ত্রাসী সংগঠনও নতুন করে সক্রিয় হয়েছে।

তারই জেরে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা হচ্ছে। গত এক বছরে ২৮টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে সাতটি ঘটেছে গত সপ্তাহে।

এদিকে, কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ এবং মেহবুবা মুফতি। দুইজনেই এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের জবাব চেয়েছেন। ফারুক আবদুল্লাহের দাবি, নরেন্দ্র মোদীর এই পরিস্থিতিতে কাশ্মিরে আসা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, নব্বই দশকের পর কাশ্মির এতটা উত্তপ্ত হয়নি। নব্বইয়ের দশকে হত্যা, লড়াইয়ের ঘটনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ফের তেমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। দ্রুত স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে এর সমাধানসূত্র খোঁজা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

সূত্র: আনন্দবাজার, ডিডব্লিউ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category