বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
ময়মনসিংহে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব; প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা
ময়মনসিংহ থেকে আরিফ রববানী / ৩৫ Time View
Update : বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১

সারাদেশের ন্যায় বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে ১৫ই অক্টোবর শুক্রবার শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ‘শারদীয় দুর্গাপূজা। তবে প্রাদুর্ভাব কমলেও করোনার কারণে, এবার বিজয়া দশমীতে শোভাযাত্রা হয়নি।

চন্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে ষষ্ঠী তিথিতে ‘আনন্দময়ীর’ আগমনে গত ১১ অক্টোবর থেকে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী ৫দিন ময়মনসিংহ নগরীসহ জেলাব্যাপি পূজামন্ডপগুলোতে পূজা-অর্চণার মধ্যদিয়ে ভক্তরা দেবী দূর্গার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হলো। দেবী দুর্গা এবার ঘোড়ায় চড়ে এসেছেন। গিয়েছেন পালকিতে চড়ে।

১৫ই অক্টোবর শুক্রবার সকালে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে বিদায় জানানো হয় দেবী দুর্গাকে। পরে বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। এর মধ্যদিয়ে শেষ হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব।

সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী ফিরে গেলেন স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে। পরের বছর শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণীতে যা তার বাবার গৃহ। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ময়মনসিংহে বিকাল ৪টায় ময়মনসিংহ নগরীর কাচারীঘাটে ময়মনসিংহ জেলা পূজা কমিটির প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ নগরীসহ ময়মনসিংহ জেলায় দেবীকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

ঢাকের বাদ্য আর গান-বাজনা ছাড়া বিদায়ের করুণ ছায়ায় সারিবদ্ধভাবে একে একে ব্রহ্মপুত্র নদীতে বিসর্জন দেয়া হয় প্রতিমা। ময়মনসিংহ নগরীর প্রায় অর্ধশত মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয় কাচারী ঘাটে। সড়কে পুলিশের টহল ও নদীতে ছিল নৌপুলিশের টহল। ফায়ার সার্ভিসের টিমও দায়িত্ব পালন করে।

ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর পুজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দরা জানিয়েছে, এ বছর ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় ১১৮টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা হয়েছে। আর ময়মনসিংহ মহানগরীতে এই সংখ্যা ৮৩টি।

মাননীয় মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটুর নির্দেশনায় বিসর্জন ঘাটে নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ ও নিরাপত্তায় স্থাপন করা হয় উজ্জ্বল আলোকবাতি, সিকিউরিটি ক্যামেরা, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য সজ্জিতকরণ, পুরুষ ও নারী পৃথক টয়লেট, মেডিকেল ক্যাম্প, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ইত্যাদি।

বিসর্জন শেষে সিটি কর্পোরেশনের প্রস্তুতিতে সন্ত্বোষ প্রকাশ করে মেয়র মহোদয়ের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন সনাতন ধর্মের ময়মনসিংহের নেতৃবৃন্দ, পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং ভক্তবৃন্দ।

বিসর্জনকালীন সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে বিসর্জন ঘাটে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু। এছাড়া, এ সময় ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক, পুলিশ সুপার মোঃ আহমার উজ্জামান,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বী, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেলআলা উদ্দিন, কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শাহ কামাল আকন্দ,ইন্সপেক্টর অপারেশন ওয়াজেদ আলী
সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অংগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ও অন্যান্য কাউন্সিলরবৃন্দ, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, সিটি কর্পোরেশনের খাদ্য ও স্যানিটেশন কর্মকর্তা দীপক মজুমদার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ মহব্বত আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে সন্ধ্যার পর জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও ময়মনসিংহ সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বেগম রওশন এরশাদ এমপির পক্ষ থেকে বিসর্জন ঘাটে উপস্থিত হয়ে পুজারীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় বিসর্জন ঘাট পরিদর্শন করেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর আহমেদ এর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

উল্লেখ্য, শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে পালনের লক্ষ্যে ইতোপূর্বে মেয়র ইকরামুল হক টিটু পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন, পূজামন্ডপসমূহ পরিদর্শন করেন এবং সিটির ৮৩ টি পূজা মন্ডপে মিষ্টি, ফুল, করোনা সুরক্ষা সামগ্রী এবং আর্থিক সহযোগিতা পৌঁছে দেন। তিনি শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনে সকলের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category