শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৫২ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
অদ্ভুত পশুর আতঙ্কে দিন কাটছে গাইবান্ধার তালুক জামিরা গ্রামের মানুষের, আক্রমণের শিকার হচ্ছে মানুষ ও গবাদিপশু!
গাইবান্ধা থেকে সাকিব হাসান চৌধুরী সাম্য / ৭৯ Time View
Update : শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২

গাইবান্ধা জেলার অদূরে পলাশবাড়ি উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের তালুক জামিরা গ্রামে বিগত এক মাস ধরে হানা দিয়েছে এক নর খাদক। গ্রাম বাসির তথ্য মতে অদ্ভুত এই প্রানিটি অনেকটা হায়না কিছুটা নেকড়ে কিংবা শেয়ালের মতো দেখতে। কেউই সঠিক ভাবে বলতে পারছেনা যে এটি আসলে কি। এসময় লোকমুখে ছড়াচ্ছে নানা গুজব -কল্পকাহিনি।

রাতের ঘুম যেন হারাম হয়েছে এই নর খাদকের আতঙ্কে। অদ্ভুত এই প্রানীটি আক্রমন করেছে এলাকার মানুষ ও গবাদিপশুদের। ইতিমধ্যে যে ক’টি আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে এর সব গুলোই প্রায় সকাল থেকে বিকেলে মধ্যে ঘটেছে। এলাকা জুড়ে বিরাজ করছে সীমাহীন আতঙ্ক। দিনে কিংবা রাতে কেউই একা বের হতে পারছেনা। রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে এলাকা বাসিদের। মানুষ কিংবা গবাদি পশু একা পেলেই আক্রমন করে বসে পিছন থেকে। কিছু বুঝে ওঠার আগের অদ্ভুত ঐ প্রানিটি তার আকারে দ্বিগুন হয়ে আঘাত করে মানুষের চোখে মুখে, ছিড়ে নেয় মানুষের নাক কান।

মাঠে গবাদিপশু নিয়ে গেলে হামলার শিকার হয় ঐ গ্রামের একটি মসজিদের ইমাম ফেরদৌস সরকার রুকু নামে ৫৬ বছর বয়সের লোকটি । তাকে বাচাতে অন্যরা ছুটে আসলে তাদেরও আক্রমণ করে বসে সেই প্রানীটি। কিছু দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সেই লোকটি। একই পরিবারে তার ভাইকেও আক্রমন করে প্রানিটি।

একই দিনে তিনি সহ আরো ৩ জনের উপর আক্রমনের ঘটনা ঘটে। এর পর থেকেই এলাকায় চলতে থাকে একের পর এক ঐ প্রানীটির আক্রমনের ঘটনা।

এর পর গতকাল রাব্বি নামে ১০ বছর বয়সের এক শিশু সকালে বাড়ির বাহিরে গেলে অদ্ভুত প্রানিটি তার উপর আক্রমন করে বসে, এক পর্যায়ে মাটিতে ফেলে শিশুটির মুখে, কানে, বুকে ও পিছনে আঘাত করে প্রানিটি। এ দৃশ্য দেখে তার মা তাকে বাচাতে আসলে তার মা কেও আক্রমণ করে সেই প্রানিটি। পরে মানুষ জন আসলে জঙ্গলের মধ্যে পালিয়ে যায় সেই অদ্ভুত প্রানিটি।

এক মাসে আগেও আক্রমনের শিকার আফসার আলি নামে এক বৃদ্ধ। এখনও তিনি গুরুতর অসুস্থ।

এভাবে প্রতিদিনই যেন ভয় আর আতঙ্কে দিন কাটছে এই এলাকার প্রতিটি মানুষের। ছেলে মেয়েরা যেতে পারছেনা স্কুলে। কৃষকেরা কেউই একা একা মাঠে যাচ্ছে না। দল বেধে লাঠিসোঁটা নিয়ে যেতে হচ্ছে কাজে।

এলাকাবাসির তথ্য মতে শুধু একটিই নয় বরং ৮-১০ টিরও বেশি ঐ ধরনের প্রানী নাকি আছে এলাকায়। এলাকা বাসি চায় প্রশাসন যে একটু নজর দেয় তাদের দিকে। প্রানির হাত থেকে বাঁচতে তারা চায় নিরাপত্তা।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category