শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ
ঠাকুরগাঁও থেকে আনোয়ার হোসেন আকাশ / ৩১ Time View
Update : শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের ঘুঘুমালিয়ানী কালী মন্দিরের কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে গত শনিবার মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বাসন্ডি গ্রামের কালিপুকুর শ্রী শ্রী ঘুঘুমালিয়ানী কালী মন্দির সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর জনৈক কুথারু বর্মণকে সভাপতি, বকুল চন্দ্র রায়কে সাধারণ সম্পাদক ও প্রভাষক প্রেমানন্দ রায়কে কোষাধ্যক্ষ করে স্থানীয়দের নিয়ে ২৩ সদস্যের একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি গঠনের পর থেকে কমিটির সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষের পরস্পর যোগসাজশে মন্দিরের দান-অনুদানের টাকা কয়েক বছর ধরে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো আত্মসাৎ করছেন। সভাপতি কুথারু বর্মণ বিধিনিষেধ অমান্য করে মন্দিরে বসে মানুষের ভাগ্য গণনা করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অপরদিকে মন্দিরের কোষাধ্যক্ষ এবং পার্শ্ববর্তী রানীশংকৈল উপজেলার গাজীরহাট কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত বাবু প্রেমানন্দ রায় গত দুই বছরে মন্দিরে বিভিন্ন ব্যক্তির দান অনুদান থেকে পাওয়া টাকা, সোনা বিক্রি থেকে ৩৫ হাজার ৩৫০ টাকা, রুপা বিক্রি করে ৫২ হাজার টাকা, নগদ আদায়ের ৮ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং দানবাক্সে পড়া হাজার হাজার টাকাসহ দুই লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে মন্দিরের দানবাক্সটির চাবি এর আগে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনের কাছে রাখা হলেও কোষাধ্যক্ষ আগের দানবাক্সটি বাতিল করে নতুন দানবাক্স তৈরি করে চাবি নিজের কাছে রেখে এসব অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ।

এর আগে ওই দানবাক্স থেকে প্রতি মাসে আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পাওয়া গেলেও গত দুই বছরে ঠিক কত টাকা পাওয়া গেছে এর কোনো হিসাব নেই।

অনিয়মের বিষয়ে মন্দিরের কোষাধ্যক্ষ প্রেমানন্দের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এসব ব্যাপারে কমিটির কোনো সভা বা কোনো সিদ্ধান্তও দীর্ঘদিনে হয়নি।’

এ বিষয়ে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাদী হয়ে সুবিচারের জন্য গত শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category