বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় সাইবার হামলা, বিদেশী শক্তিকে দুষছে ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৯২ Time View
Update : বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২

সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে ইরানের জ্বালানি বিতরণ নেটওয়ার্ককে অচল করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার হওয়া এই সাইবার আক্রমণের পেছনে একটি বিদেশী দেশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।

প্রিডেটরি স্প্যারো নামে পরিচয় দেওয়া একটি গ্রুপ দাবি করেছে, তারা ওই সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে। কিন্তু ইরানের শীর্ষ ইন্টারনেট নীতি-নির্ধারণী সংস্থা এই ঘটনার পেছনে একটি বেনামী ‘স্টেট অ্যাক্টর (বিদেশী কোনো সরকার দ্বারা পরিচালিত কেউ)’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, এই সাইবার হামলার লক্ষ্য ছিল মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জাগিয়ে তোলা।

ওই আক্রমণের মাধ্যমে ইরানের পেট্রল বিক্রির বিভিন্ন সংস্থার আন্তঃসংযুক্ত নেটওয়ার্ককে বিকল করে দেওয়া হয়। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশটির মোটর গাড়ি চালকেরা সরকারের ইস্যু করা স্মার্ট কার্ড দিয়ে হ্রাসকৃত মূল্যে পেট্রল কিনতে পারতেন। তাই ভর্তুকি দেওয়া জ্বালানি কেনার জন্য দেশটির পেট্রোল স্টেশনগুলোতে সব সময়ই দীর্ঘ লাইন থাকত।

একইসঙ্গে হ্যাকাররা রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের হাইওয়েতে বসানো ডিজিটাল বিলবোর্ডেরও দখল নেয়। সেগুলোতে তারা একটি বার্তা পোস্ট যাতে লেখা ছিল ‘খামেনি, আমাদের জ্বালানি কোথায়?’

ইরানের জ্বালানি তেল বিতরণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের একজন মুখপাত্র বলেছেন, বুধবার সকাল নাগাদ দেশটির মোট ৪ হাজার ৩০০ পেট্রল স্টেশনের মাত্র পাঁচ শতাংশ হ্যাকারদের কবল থেকে মুক্ত করে চালু করা হয়েছে। যদিও তিনি জানিয়েছেন, প্রায় তিন হাজার স্টেশন ভর্তুকি-বিহীন দামে ‘অফলাইনে’ জ্বালানি বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ, ইরান সরকারের অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির কারণে দেশটির মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমে খারাপ হয়েছে। সে কারণে ইরানে বেশিরভাগ মানুষ সরকারের ভর্তুকি দেওয়া দামে বিক্রি করা জ্বালানির ওপর নির্ভর করে।

বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং জনজীবনে বিঘ্ন ঘটিয়ে মানুষের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করার জন্য কেউ এ কাজ করেছে। তিনি দাবি করেছেন, কর্তৃপক্ষের সতর্কতার কারণে হ্যাকাররা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারেনি।

ইরানের সুপ্রিম কাউন্সিল অব সাইবারস্পেসের সেক্রেটারি আবুলহাসান ফিরুজাবাদী বলেছেন, হামলাটি একটি বিদেশী রাষ্ট্র চালিয়েছিল। কিন্তু ‘কোন দেশ এবং কীভাবে’ সেই হামলা চালানো হয়েছিল তা জানানোর সময় এখনও হয়নি।

এদিকে আধা-সরকারি একটি বার্তাসংস্থা ফারস বলছে, দুই বছর আগে ইরানে পেট্রলের দাম ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হলে দেশজুড়ে যে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল; হ্যাকিংয়ের এই ঘটনাটি সেই বিক্ষোভের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনের সাথে সম্পর্কিত।

ওই বিক্ষোভ দমনে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, সেসময় ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। যদিও ইরানের কর্মকর্তারা সে দাবি নাকচ করে দিয়ে আসছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category