মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
ঘরের অভাবে ৮৪ বছর বয়সেও রাত কাটে অন্যের বারান্দায়!
ঠাকুরগাঁও থেকে আনোয়ার হোসেন আকাশ / ৯৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২

জীবনের শেষ লগ্নে এসেও একটি ঘরের অভাবে থাকার জায়গা নাই , তাই জীবন বাঁচানোর তাগিদে রাত কাটাতে হচ্ছে অন্যের বারান্দায়। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসেও দু’মুঠো ভাত আর থাকার মত একটি ঘরের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে ৮৪ বছর বয়সী উপেন চন্দ্রকে।

জীবন বাঁচানো ও জীবিকার তাগিদে শেষ বয়সেও ক্র্যাচে ভর দিয়ে সারাদিনই অনেক কষ্ট করে ঘুরতে হয় মানুষের দ্বারে দ্বারে। নিজের একটি ঘরের আশায় এখনো তিনি স্বপ্ন দেখেন, হয়তো কোন একদিন শেষ হবে অসহায় উপেনের এই জীবন সংগ্রাম।

উপেন চন্দ্রের বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের সাজগাঁও গ্রামে। একই এলাকার বন্ধু ভেলসু রাম ও উপেন ছোটবেলা থেকেই কাজ করতেন অন্যের বাসায়। তারা কাজেও ছিলেন বেশ দক্ষ । এখন বয়সের ভাড়ে নূয়ে পড়ায় এখন আর পারেন না আগের মত কাজ করতে। বিয়ের পর সংসারও টেকেনি উপেন চন্দ্রের। তার স্ত্রী-সন্তান বলতে কিছুই নেই। সময়ের ব্যবধানে এখন শুধুই শূন্যতা উপেনের।

কথা হয় উপেনের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কালোশ্বরির সাথে, কথার মাঝে তিনি বলেন আমি নিজেই অনেক গরিব। অন্যের বাসায় কাজ করে কোনমতে জীবনযাপন করি। কোনরকমে থাকার মত একটি ঘর ছাড়া কিছুই নেই আমাদের। বড় দাদা উপেন আমাদের ঘরের বারান্দায় থাকেন। আমরা যতটুকু সম্ভব দাদাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তিনি নিজেও সকাল হলেই ঘুম থেকে উঠে বের হয়ে যান। সারাদিন বাইরে থেকে যা সাহায্য সহযোগিতা পান তা দিয়েই খাবার খান। কোন কোন দিন না খেয়েই চলে যায় তার। রাতে এসে শুধু ঘুমান।

কেমন আছেন? দিনকাল কেমন যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে উপেন বলেন, ভালো নেই। আমার থাকার ঘর, নিজের চলাচলের জন্য একটি গাড়ি(হুইল চেয়ার) আর বেঁচে থাকার জন্য চিকিৎসার টাকার প্রয়োজন৷ কিছুই নেই আমার।

স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা খগেন চন্দ্র বলেন, উপেন দাদার থাকার জায়গা নেই। আমরা সবাই মিলে লাঠি (ক্র্যাচ) কিনে দিয়েছে। সেটা নিয়েই সাহায্য তুলে নিজের খাবার ও ওষুধ কেনেন। পায়ে ব্যান্ডেজ। বর্তমানে তার চিকিৎসা জরুরি হয়ে গেছে। এখন অনেক শীত। শীত নিবারণ ও চিকিৎসার জন্য সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ওয়াহাব আলী জানান, আমরা উপেন চন্দ্রকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দিয়েছি। বর্তমানে তার অবস্থা একেবারে নাজুক। আমি আমার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে উনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেষ্টা করব।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category