বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
চিলমারীতে ফসলি জমির মাটি গিলছে ইট ভাটা
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) থেকে এস এম রাফি / ৩১ Time View
Update : বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১

অবলম্বন করা হচ্ছে কৌশল সরকারী আইনকে দেখানো হচ্ছে বৃদ্ধা অঙ্গুল। আর ফসলি জমির প্রাণ পোড়ানো হচ্ছে ইট ভাটায়। নিয়ম নীতি না মেনেই জনবসতি ও ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মান। পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন, উৎপাদনে রয়েছে ধস নামার আশঙ্কা। নজর নেই প্রশাসনের।

জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় সরকারী আনইকে তোয়াক্কা না করেই জনবসতি গ্রামের মাঝে এবং ২ ও ৩ ফসলি জমিতে ইটাভাটা নির্মান এছাড়াও ইটভাটা আইন লঙ্ঘন করে ফসলি জমির মাটি দিয়ে ইট তৈরি করা হচ্ছে। সাধারণ কৃষককে নগদ টাকার লোভ দেখিয়ে সংগ্রহ করছে আবাদি জমির উপুরি ভাগের (টপসয়েল) মাটি। দালালদের খপ্পরে কতিপয় জমির মালিক লোভে পড়ে ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছেন।

এদিকে আইন থাকলেও প্রশাসন তা প্রয়োগ করছে না অজ্ঞাত কারনে। তাই অবাধে চলছে জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি। এতে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে। ইট প্রস্তত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে ইট প্রস্তুতি করার জন্য কৃষিজমি বা পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে তা ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা নিষেধ থাকলেও অজ্ঞাত কারনে এই আইনের প্রয়োগ না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ইট তৈরির জন্য কৃষিজমির মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

আর ধিরে ধিরে ইটভাটার আগুনে পুড়ে যাচ্ছে ফসলি জমির প্রাণ। প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে এক শ্রেণীর দালাল দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা করে আসছে। এতে এক দিকে যেমন জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্য দিকে ট্রাকটর দিয়ে ইটভাটায় মাটি নেয়ায় নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক। এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুধু তাই নয় জনবসতি ও ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মান করায় এর প্রভাব ফসলের উপর পড়ার সাথে সাথে পড়ছে মানুষের উপরও।

উপজেলার ফকিরপাড়া এলাকার নজরুল, খরখড়িয়া জামেরতলের ফেরদৌসি, আঃ জলিল, ব্যাপারী বাজার এলাকার নিত্যসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ইটভাটায় ইট তৈরির জন্য মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে কৃষিজমি থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিলমারী উপজেলায় পাঁচটি ও উপজেলা সীমান্ত ঘেঁষে আটটি ইটভাটা রয়েছে। প্রতিটি ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে আবাদি জমি ও জনবহুল এলাকায়। নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব ইটভাটার মালিকেরা একের পর এক ফসলি জমির প্রাণ ধ্বংস এবং গাছপালা কেটে পরিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পুটিমারী, তেলিপাড়া, ব্যাপারীর বাজার, খড়খড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাদি জমির টপ সয়েল কেটে ট্রাক্টরে ভর্তি করা হচ্ছে। কয়েকজন কৃষক জানান, পাশের জমির মালিকেরা গত বছর মাটি বিক্রি করায় তাদের জমি নিচু হয়ে গেছে। তাই সমস্যা হওয়ায় তারাও মাটি বিক্রি করছেন। আবারো অনেকে অভিযোগ করেন, আমাদের পাশের জমির মালিক মাটি বিক্রি করছেন এতে করে প্রায় দেড় ফিট নিচু হওয়ায় এবারে ফসল ফলানো নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি।

কৃষকরা জানায়, এক বিঘা জমির উপরি ভাগের মাটি ১০-১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিন শরিফেরহাট, মাছাবান্দা, বালাবাড়িহাট ও টিএনটি এলাকায় ঘুরে দেখা যায় উক্ত এলাকায় নির্মিত ভাটাগুলো সরকারী নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করেই জনবসতি ও ২/৩ ফসলি জমিতে নির্মান করা হয়েছে। তবে ভাটার মালিকেরা এ ব্যাপারে কথা বলতে নারাজ।

কৃষি জমির মাটি ইট ভাটায় ব্যবহার করা নিষিদ্ধ জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, যে গাড়ি গুলো মাটিবালি সরবরাহ করে তাদের অবশ্যই মাটিবালি ঢেকে নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category