বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
বিএনপির সেই রোমান বাদশা এবার নৌকার মাঝি!
ঠাকুরগাঁও থেকে আনোয়ার হোসেন আকাশ / ২৫ Time View
Update : বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১

চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে আসা এক অনুপ্রবেশকারী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকার প্রতীক পেয়েছেন। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুপ্রবেশকারী রোমান বাদশাকে এই মনোনয়ন দেয়া হয়। এ নিয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে রোমান বাদশা বিএনপি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিএনপির রাজনীতি করার এক পর্যায়ে আখানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এক সময় বিএনপির সমর্থনে ইউপি নির্বাচন করেছেন তিনি। কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগদান করে দ্রুতই ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি বনে যান।

২০১৯ সালে ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ১৬০০ অনুপ্রবেশকারী তালিকায় ঠাকুরগাঁও জেলার দুই নাম্বারে তার নাম প্রকাশ হয়। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করেন। এর পরেও এবার ইউপি নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই সেই ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ শুরু করেন।

এই বিষয়ে আখানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমির হোসেন জানান, রোমান আখানগর ইউনিয়ন বিএনপির প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সে সময় বিএনপির সমর্থনে দুইবার ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছেন। একবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকায় রাজত্ব কায়েম করেছেন। কিন্তু হঠাৎ ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর রোমান আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এরপর ২০১৯ সালে কর্মীদের আপত্তির পরও তাকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বানানো হয়। এবার মনোনয়ন দেয়া হলো। যেখানে বরাবরই অনুপ্রবেশকারীদের মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে হাইকমান্ড সাবধানতা অবলম্বন করে। এবার কিভাবে তাকে নৌকা প্রতীক দেয়া হলো তা ঠিক আমার বোধগম্য নয়।

২০১৯ সালের আগে ৮ বছর যাবৎ সেই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছে রেজাউল ইসলাম। তার বিদ্রোহী হয়েই ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে করেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এই রোমান বাদশা।

রেজাউল বলেন, ‘আমি গতবার নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছি। রোমান বাদশা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। সে-ও তার লোকজন আমার বিপক্ষে নির্বাচন করায় আমি হেরে গেছি। চতুর্থ ধাপে আমাদের জেলায় নৌকা মার্কায় নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান ও গতবার হেরে যাওয়া প্রার্থীদের গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তবে আমার ক্ষেত্রে কিভাবে ভিন্নতা আসল ঠিক বুঝলাম না।’

তিনি বলেন, ‘গতবার কর্মীরা রোমানের বিপক্ষে কাজ করেছে, বিভিন্ন রকম ঝামেলায় জড়িয়েছে। এবার কিভাবে আবার তার নির্বাচন করা সম্ভব।’

আখানগর আওয়ামী লীগের কর্মী খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘অতীতে যারা দলের জন্যে ত্যাগ স্বীকার করেছে তাদের মনোনয়ন না দিয়ে বিএনপি থেকে দলে আসা একজনকে মনোনয়ন দেয়ায় আমরা বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছি।’

এক সময় বিএনপির সঙ্গে রোমানের যুক্ত থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে আখানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর বলেন, ‘রোমান বাদশা আর আমি একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। তিনি সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সময়ে আমি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। পরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।’

পূর্বে বিএনপির রাজনীতি করার বিষয়টি স্বীকার করে রোমান বাদশা বলেন, ‘আমি এই এলাকায় অনেক জনপ্রিয়। অনেক আগেই বিএনপির নীতি ভালো না লাগায় আমি আওয়ামী লীগে এসেছি। আমি এবার নির্বাচনে জিতে একটি মাদকমুক্ত সমৃদ্ধ ইউনিয়ন গড়তে চাই।’

ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায় বলেন, ‘এটা বছরখানেক আগের ঘটনা নয়। সে অনেক আগেই বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এসেছে। সে অনেক জনপ্রিয় একজন মানুষ এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় মনোনয়ন বোর্ডে পাঠানো তালিকায় তার নাম দেয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category