বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ১০:৫৩ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
বালিয়াডাঙ্গীতে ভোট আজ: সময় গড়াতেই শঙ্কা বাড়ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের
আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: / ৬৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৮ ইউনিয়নে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের ভোট আজ রবিবার (২৮ নভেম্বর)। সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সময় গড়াতেই শঙ্কা বাড়ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। 
সব ঠিক থাকলে উপজেলার ৮ ইউপির ৭২টি কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সুষ্ঠু ভোট নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। তবে সকাল থেকেই বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটের আমেজ দেখা গেলেও ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিএনপি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইউপি নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী এবং আ’লীগ থেকে মনোনয়নবঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থীদের অভিযোগ, আ’লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এতে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। তবে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে নৌকার প্রার্থীরা বলছেন, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৮ ইউপিতে ৩০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী ৮ জন। চার ইউনিয়নে আ’লীগ থেকে মনোনয়নবঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থী ৬ জন মাঠে লড়ছেন। উপজেলা আ’লীগ থেকে ৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিদ্রোহীদের প্রচারণায় অংশ নেওয়া ১০ জনকে বহিষ্কার করলেও কোনো লাভ হয়নি। ভোটের মাঠ এমনকি বিদ্রোহীদের হয়ে প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়াননি কেউ।
অন্যদিকে জামায়াত-বিএনপির ১২ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। কোনো দল ছাড়াই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আরও ৪ জন। এদিকে বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়নের প্রচারণার শুরু থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে নৌকা সমর্থিত প্রার্থীর সহিংসতা লেগেই আছে। পৃথক তিনটি ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া এবং দুটি আ’লীগের অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ভানোর ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জানান, নৌকা সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল ওয়াহাব সরকার বিভিন্ন সভায় মাইকে হুমকি দিচ্ছেন। লাঠিসোঁটা তৈরি করে রেখেছেন, ভোটকেন্দ্রে গেলে দেখে নেবেন। এতে করে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই অভিযোগ ওই ইউনিয়নের অন্য ৩ স্বতন্ত্র প্রার্থীর।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল ওয়াহাব সরকার বলেন, ‘১৫ বছর ধরে চেয়ারম্যান আমি। অনেক উন্নয়ন করেছি। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। এলাকায় প্রচুর ভোট রয়েছে আমার। ভোটে হেরে যাবে বুঝতে পেরেই এসব অভিযোগ করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।’
বহিষ্কার হওয়া বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়ন আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম জানান, শুরু থেকে ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়া শুরু হয়েছে ইউনিয়নে। নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের এমন কাণ্ডে ভোটারেরা আতঙ্কিত। সুষ্ঠু ভোট নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে বড় পলাশবাড়ীতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাহাবুদ্দিন মিঞা বলেন, ‘মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম ও তাঁর লোকজন ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছেন।’
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোবায়ের হোসেন বলেন, বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়নে দুটি ঘটনা ঘটেছে। এগুলো পুলিশ ও প্রশাসন তদন্ত করছে। বাকি সব ইউনিয়নের পরিবেশ সুন্দর রয়েছে। ভোট সুষ্ঠু শুরু হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category