বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
একযুগেও সরকারের অনুমোদন পায়নি রাণীগাঁও অটিজম একাডেমি
নেত্রকোণা থেকে স্টাফ রিপোর্টার মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম / ২১ Time View
Update : বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২

সবাই যখন সুস্থ-সবল-মেধাবী শিশুদের উন্নয়নে কাজ করতে উৎসাহ দেখায়, সেখানে, নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার একদল শিক্ষিত ও উদ্দমী যুবক এগিয়ে আসে সমাজের পশ্চাৎপদ দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী শিশুদের সেবায়। নিজেদের ব্যক্তিগত চাঁদার টাকায় তারা গড়ে তুলে রাণীগাঁও অটিজম একাডেমি।

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের এই একাডেমী প্রতিষ্ঠার প্রায় একযোগ পূর্তী হতে যাচ্ছে এই ডিসেম্বরে। কিন্তু আজো সরকারের সু-দৃষ্টি লাভে সমর্থ হয়নি এই প্রতিষ্ঠানটি। এমপিওভূক্ত হবে, সরকারী বেতন-ভাতা পাবে, শিশুরা পাবে উন্নত শিক্ষার পরিবেশ- এই আশায় বুক বেঁধেছিল তারা। আজ যেন সবই হতাশার চুরাবালিতে তলিয়ে যেতে বসেছে।

জানা যায়, বারহাট্টা উপজেলার একদল মানবিক যুবক ব্যক্তিগত অর্থে প্রতিষ্ঠা করেন এই রাণীগাঁও অটিজম একাডেমি। বিগত ২০১০ সালের ১ জানুয়ারী একাডেমির যাত্রা শুরু হয়। পরে তারা একাডেমির জন্য নিজস্ব জায়গা ক্রয়, এই জায়গায় আধা-পাকা ভবন নির্মাণ ও আসবাবপত্র সংগহ করে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেন। ২০১৮ সালে তৎকালীন উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় একাডেমির এমপিওভূক্তির জন্য “ডিও” প্রদান করেন। এরপর একই বছরের ৮আগস্ট ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার, অতিরিক্ত সচিব গোলাম ইয়াহিয়া, নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক, বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সমাজ সেবা অফিসার সরেজমিনে একাডেমি পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরবর্তী ২০২০ সালে ১ জানুয়ারী উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার পূণরায় একাডেমি পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সর্বশেষ গত ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারী সরকারী একাডেমির অনুমোদন ও এমপিওভূক্তির জন্য অনলাইনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। আজো কোন সুফল পাওয়া যায়নি। এদিকে উদ্যোক্তারা ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছেন। একাডেমির প্রতিষ্ঠা লাভের আশায় তারা অন্যকোথাও চাকুরীর চেষ্ঠা করেন নাই।

আরও জানা যায়, একাডেমির ২০৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে ৮০ জন অটিস্টিক ও ১২৪ জন বিভিন্ন প্রকার প্রতিবন্ধী। শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন ২৪ জন। এ ছাড়া অফিস সহকারী, সহায়ক, আয়া, নৈশ প্রহরী সব মিলিয়ে আরো ২৫ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। কারো কোন-বেতন বা সম্মানী নেই। এভাবে আর কর্তদিন চলবে তারা কেউ জানে না।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category