মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
শিশু দুটিকে বাঁচিয়ে রাখার আকুতি বৃদ্ধ দম্পতির!
ঠাকুরগাঁও থেকে আনোয়ার হোসেন আকাশ / ৬১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২

২০২১ সালের মার্চ মাসে ক্যান্সারে মারা গেছেন ছেলে। ছেলের মৃত্যুর পর জানা গেছিলো তার স্ত্রীর শরীরেও বাসা বেঁধেছিলে এই দুরারোগ্য ব্যাধি। ক্যান্সারে আক্রান্ত স্বামীর মৃত্যুর ১৪ দিনের মাথায় তিনিও মারা যান। তাদের ঘরে রেখে যান দুই সন্তান। দুই বছরের নাতি ক্যাপ্টেন আর পাঁচ বছরের নাতনি কেমি আক্তারকে নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন ৬২ বছর বয়সের ভাড়ে নুয়ে পড়া দাদি ফাতেমা বেগম।

দিনমজুর স্বামীর অভাবের সংসারে ছোট্ট শিশু দুটি’কে লালনপালনের খরচ সংস্থান করতে না পেয়ে গত মঙ্গলবার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়েছিলেন তারা সহযোগিতা চাইতে। সেখানেই কথা হয় তাদের সঙ্গে। দাদি ফাতেমা বেগম এই প্রতিবেদককে বলেন, ছেলের ও ছেলের স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে দুই বুড়ো-বুড়ি এতদিনে অন্যের বাড়িতে মজু্রি দিয়ে শিশু দুটির খাবার জোগাড় করছেন। এই বয়সে ছোট দুই শিশুর দায়িত্ব নেওয়াটা আর এখন তাঁদের জন্য অসাধ্য।

ফাতেমা বেগম বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের ধনিবস্তী গ্রামের এনামুল হকের স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে কথা বলে আরো জানা গেছে, দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় ধরে ছেলে কমিরুল ইসলাম ক্যান্সারে ভুগেছেন। রোগ ধরা পড়ার পর বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। পরে তাঁর স্ত্রী শিউলি আক্তারের শরীরেও ক্যান্সারে ধরা পড়ে। দুজনের চিকিৎসা করতে গিয়ে সহায়সম্বল যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে।

গত মার্চের শুরুতে স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান রেখে কমিরুল ইসলাম মারা যান। ছেলের শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করেন স্ত্রী শিউলি আক্তারও।

ফাতেমা বেগমের স্বামী এনামুল হক বলেন, ‘পরের বাড়িত কাম করে হেনে যেই টাকা মুই কামাই করোঁ, ওই টাকা দেহেনে কোনোমতে মোর বাড়ির খরচ করিবা পাঁরো না। বেটা-বহু (ছেলে ও বউমা) মারা যাওয়ার পর দুইডা বাচ্চার খরচ ক্যাংকরে (কেমনে) চালাম। আট মাসে সব শেষ করে ফিলায়ুঁ (ফেলেছি)।’

ফাতেমা বেগম বলেন, ‘এক ছেলে বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে। তাদের দুই মেয়ের এক মেয়ে মারা গেছে। এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই এখন বুড়ো। আগের মতো প্রতিদিন দিনমজুরি দিতে পারছি না। আমরা কেউ মারা গেলে শিশু দুটির কী হবে? এ জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতা চাইছি। শিশু দুটিকে বাঁচিয়ে রাখার শেষ চেষ্টাটুকু করছি।’

উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলম শুভ বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশের এই ভদ্র মহিলা দুই শিশুকে নিয়ে সমস্যায় পড়েছে শুনে সমাজসেবা অফিসে এসে কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। তিনি অফিসে এসে স্যারের সঙ্গে দেখা করেছেন।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ফিরোজ সরকার বলেন, ‘দুই শিশুসহ ফাতেমা বেগম অফিসে এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছি। শিশু দুটি অসহায়। ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবারে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার জন্য জেলায় কথা বলেছি। আশা করছি, ব্যবস্থা হয়ে যাবে। ভর্তির ব্যবস্থা হলে শিশু দুটো প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সুযোগসুবিধায় মানুষ হতে পারবে। এ ছাড়া আমাদের অফিস থেকে যত দূর সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category