বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
ইবাদত কবুলের জন্য হালাল উপার্জন কি খুব প্রয়োজন?
ধর্ম ডেস্ক / ৪২ Time View
Update : বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২

হালাল (আরবি: حلال‎‎, ‘অনুমোদনযোগ্য’) মানে হল যে কোনো বস্তুর বা কর্ম যেটা ইসলামী আইন অনুযায়ী ব্যবহার বা নিয়োজিত করা যাবে। আল্লাহ পাকের নির্দেশ- সালাত সমাপ্ত হয়ে গেলে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় আর আল্লাহর অনুগ্রহে জীবিকা অন্বেষণ কর, তথা উপার্জন কর। (সূরা জুমুয়া-১০)। মহানবী (সা.) বলেছেন, হালাল রুজি অন্বেষণ করা ফরজের পরও একটি ফরজ (বায়হাকি)।

মানুষ অর্থ-সম্পদ দ্বারাই জীবিকা নির্বাহ করে, খাদ্য-দ্রব্য গ্রহণ করে তার দেহের বৃদ্ধি ঘটে এবং সুস্বাস্থ্য লাভ হয়।

কিন্তু এ উপকরণ ক্রয়ের অর্থ যদি অবৈধ উপায়ে উপার্জিত হয় তবে তা কিভাবে বৈধ শারিরিক বৃদ্ধি হতে পারে? ফলে, তার শরীরের রক্তে ও গোশতে অবৈধ বিষয়ের সংমিশ্রন ঘটে। আর এর দ্বারা যত ইবাদতই করা হোক না তা গ্রহনযোগ্য হতে পারে না। কেননা, আল্লাহ অপবিত্র কোন কিছুই গ্রহণ করে না। অতএব হালাল উপার্জন ইবাদত কবুলের পূর্ব শর্ত হিসেবে শিরোধার্য।

সালাত, যাকাত ও হজ্জ ইত্যাদি ফরয ইবাদতসমূহ কবুল হওয়ার জন্য অবশ্যই অবশ্যই বৈধ পন্থায় উপার্জন করতে হবে। এ বিষয়ে মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন- ‘ওই গোশত দেহ জান্নাতে যাবে না, যা হারাম খাবার থেকে উৎপন্ন। জাহান্নামই এর উপযোগী। (তিরমিজি) মানবজীবনে বৈধ উপায়ে জীবিকা উপার্জন করা অপরিহার্য সওয়াবের কাজ। হজরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন- রাসুলে পাক (সা.) বলেন, হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং বৈধ উপায়ে জীবিকা উপার্জন করো। কেননা, কোনো প্রাণীই তার নির্ধারিত রিজিক পূর্ণ না করে মৃত্যুবরণ করবে না, যদিও কিছু বিলম্ব ঘটে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং সৎভাবে জীবিকা অর্জন করো। যা হালাল তাই গ্রহণ করো। এবং যা হারাম তা বর্জন করো।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষ নবী ও রাসুলরা। তারাও কোনো না কোনো পেশা অবলম্বন করেছেন, শ্রম দিয়েছেন। ‘হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে তা থেকে তোমরা আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্যে শত্রু।’ সুরা বাকারা : ১৬৮

আদি পিতা হজরত আদম (আ.) কৃষক ছিলেন। হজরত নূহ (আ.) কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। হজরত ইদ্রিস (আ.) দর্জি ছিলেন। হজরত ইবরাহিম (আ.) রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

হজরত ইসমাঈল (আ.) রাজমিস্ত্রির জোগালি ছিলেন। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ছাগল চড়িয়েছেন। সাহাবায়ে কেরামও নবীজি (সা.)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। হজরত আবু বকর (রা.) ব্যবসা করেছেন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র-সংক্রান্ত কাজের জন্য বাধ্য হয়ে ব্যবসা ছেড়েছেন। হজরত ওমর (রা.)ও ব্যবসা করেছেন।

তিনি মুসলমানদের হালাল রিজিক অনুসন্ধানের জন্য কাজ করতে খুব উৎসাহ দিতেন। হজরত ওসমান (রা.) জাহেলিয়াত ও ইসলাম উভয় সময়কালে কাপড়ের ব্যবসা করেছেন। আলী (রা.) তো বিনিময় হিসেবে কিছু খেজুর পাওয়ার জন্য কূপ থেকে পানি ওঠানোর কাজ করতেন। খাব্বাব (রা.) কর্মকার ছিলেন; এটা অনেকেই জানেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) মেষ-বকরি চরাতেন। সাহাবায়ে কেরাম মূলত বিভিন্ন পেশার ছিলেন। আনসাররা সাধারণত কৃষিকাজ করতেন। আর মুহাজিররা সাধারণত ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন।

পক্ষান্তরে অবৈধ উপায়ে উপার্জিত সম্পদ পুরাই ধ্বংস। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে বান্দা হারাম সম্পদ অর্জন করে, যদি তা সদকা করে দেয় তবে তাও কবুল হবে না। আর যদি খরচ করে তাহলে তাতে বরকত নেই। মৃত্যুর পর রেখে গেলে তবে জাহান্নামে যাওয়ার উপকরণ।’ (মুসনাদে আহমদ)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘সেই আল্লাহই তোমাদের জন্য জমিনকে নম্র-মসৃণ, বিনীত করেছেন। অতএব, তোমরা ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করো এবং আল্লাহর রিজিক আহরণ করো।’ (সূরা মুলক-১৫)।

সুতরাং, মুমিন মুসলমানের উচিত বৈধ পন্থায় জীবিকা ও সম্পদ উপার্জন করা। হারাম তথা অবৈধ পন্থা ত্যাগ করা। কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশ মেনে বৈধ জীবিকা অর্জনের পথ অবলম্বন করা। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বৈধ উপায়ে উপার্জন করার তাওফিক দান করুন। এবং হারাম থেকেও বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। (আমীন)

সংকলন:
মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম, এম.এ ফার্স্ট ক্লাস (হাদীস)।
সম্পাদক, ইসলামিক জার্নাল বিভাগ, নেত্রকোণা জার্নাল ডটকম পত্রিকা।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category