বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:৪৫ অপরাহ্ন

বিজিবি’র গুলিতে তিনজন নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি
ঠাকুরগাঁও থেকে আনোয়ার হোসেন আকাশ / ১৬১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ঠাকুরগাওয়ের পীরগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজিবি’র গুলিতে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী সহ ৩ জন নিহত পাঁচজন আহতের ঘটনার মুল রহস্য উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন সহ ৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি।

এ ঘটনায় শুক্রবার বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সহ উপজেলা ভুমিহীন সমন্বয় পরিষদের নেতারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।

পরে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় ঘিডোব জনসংগঠনের সভাপ্রধান অবিনাস চন্দ্র বলেন, ২৮ নভেম্বর রাতে উপজেলার খনগাঁও ইউনিয়নে ঘিডোব সরকারি প্রাথমিক স্কুল প্রাঙ্গনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিজিবি’র গুলিতে আমার ছেলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী আদিত্য বর্মন (২৩), হাবিবপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. সাহাবুলি (৩৬) ও ছিট ঘিডোব গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে মোজাহারুল ইসলাম (৩৭) নিহত হন।

আর আহত হয় ঘিডোব গ্রামের আবদুল বারীর স্ত্রী রহিমা বেগম (৬৪), খনগাঁও গ্রামের উজ্জ্বল ইসলামের ছেলে গোলাম রব্বানী (২৮) ও হাবিবপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাইফুর রহমান (১৮) খনগাঁও ইউনিয়নের ঘিডোব গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে সবুজ আলী (২২), খনগাঁও গ্রামের অভিনাথ চন্দ্র রায়ের ছেলে আদিত্ত রায় (২০)।

তিনি তার ছেলেকে নির্দোষ দাবি করে। নিরাপদ দুরত্বে থাকার পরও সেদিন কি কারণে তার ছেলে আদিত্য বর্মনের পায়ে এবং মাথায় গুলি করা হল। দায় কার এবং কি অপরাধ ছিল তার ছেলের আদিত্য বর্মনের?।

ছেলেকে হারিয়ে তিনি যে মানষিক ও অর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এর দায় কে নেবে? শুধু কি নিরিহ নাগরিকের উপর দায় চাপিয়ে রাষ্ট্র দায় মুক্ত থাকতে চায়। তার ছেলে সহ অন্যান্য হতাহতের ঘটনার মুল রহস্য উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন তিনি।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মানবাধিকার কর্মী বেলাল হোসেন, উপজেলা ভুমিহীন সমন্বয় পরিষদের সভাপ্রধান আনছারুল ইসলাম, নিহত আদিত্যের মা পার্বতী রানী, সলমন রায় প্রমুখ।

সভায় পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবে সভাপতি জয়নালা আবেদিন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক নসরতে খোদা রান, বিভিন্ন জন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ অন্যান্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া স্বারক লিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সংবিধানে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে এবং সরকার সার্বজনিন মানবাধিকার ঘোষনা সনদে স্বাক্ষর করলেও এখন অধিকার বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা বেশ পিছিয়ে আছি। যদিও সরকার চেষ্টা করছে। তারপরেও রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতা, দূনীতি, আইনের শাসন ব্যহত হবার কারণে প্রচেষ্ঠাগুলো অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছে।

এমতাবস্থায় পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ঘিডোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গোলাদদগুলির ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে দোষীদের বিচারের আওতায় এনে উপজেলা ভিত্তিক সামাজিক সম্প্রীতি সেল গঠন করে মানুষেরে জান ও মাল সহ চলাফেরায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভুমিহীনদের বাসস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা সহ বছরে কমপক্ষে ২০০ দিনের কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি সহ প্ররিবার প্রতি দুই একর খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে স্বারক লিপিতে

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ