সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন

বিরল প্রার্থী কুদ্দুস, সমর্থনে আ’লীগ বিএনপি জাতীয় পাটির নেতাকর্মীরা!
ঠাকুরগাঁও থেকে আনোয়ার হোসেন আকাশ / ২৫৪ Time View
Update : সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪

ঠাকুরগাঁওয়ে আগামী ২৬ ডিসেম্বরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণা জমে উঠেছে। পছন্দের প্রার্থীর সমর্থনে মাঠে নেমেছেন কর্মীরা-সমর্থকরা। চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় প্রার্থীর রাজনৈতিক অবস্থান প্রভাব ফেলেছে ভোটের মাঠে। তবে একজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে দেখা গেলো ভিন্নচিত্র।

দেশের প্রধান চার রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী একযোগে আনারসের প্রার্থীর জন্য কাজ করছে। যা দেশে বিরল ঘটনা। আনারসের সেই প্রার্থী হলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম এ কুদ্দুস। বিষয়টি নিয়ে এখন উপজেলায় আলোচনা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আ’লীগ নেতা জানান, চেয়ারম্যান প্রার্থী কুদ্দুস ঠাকুরগাঁও জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি এস এম মঈনের ভাই। এছাড়াও কুদ্দুসের ছেলে আলী নোমান জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ পরিবারের সদস্য হওয়ায় ইউনিয়ন আ’লীগের বড় অংশই কুদ্দুসের পক্ষে নির্বাচন করছে।

আ’লীগের কর্মীরা আনারসের হয়ে কাজ করার সত্যতা নিশ্চিত করে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের নৌকার প্রার্থী সোহাগ বলেন, ‘কুদ্দুসের ভাই ও ছেলের নির্দেশে অনেকে কুদ্দুসের পক্ষে কাজ করছেন। দলের নির্দেশ অমান্য করেছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে উচ্চমহলে কথা বলেছি আমি।’

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কথা হয় এস এম এ কুদ্দুসের সঙ্গে। তিনি বলেন,
‘আমি কোনো নির্দিষ্ট দলের সমর্থন চাইনি। জনগণের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমাকে ভালোবেসে দলমত নির্বিশেষে সবাই আমার পক্ষে কাজ করছে। আমি আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান বলে আ’লীগের সমর্থকরা আমার জন্যে কাজ করছে, এটা ভুল কথা। জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকরাও আমার সঙ্গে রয়েছে। সকলেই এলাকার উন্নয়নে একজন যোগ্য চেয়ারম্যান চায়।’

এক প্রকার আনুষ্ঠানিকভাবে কুদ্দুসকে সমর্থন দিয়েছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপি। মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপিকে জেলা কার্যালয়ে ডেকে এনে কুদ্দুসের পক্ষে নির্বাচন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ বলেন, ‘মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী নেই। এছাড়াও বর্তমান চেয়ারম্যান ও নৌকার প্রার্থী সোহাগ বিএনপির অনেক ক্ষতি করেছেন। তাই নৌকা প্রার্থীকে হারানোর জন্যেই আমরা কুদ্দুসকে সমর্থন দিয়েছি।’

ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল রাজী স্বপন বলেন, ‘যে সকল ইউনিয়নে আমাদের নিজস্ব প্রার্থী নেই, সেখানে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তাই চাইলে ইচ্ছেমতো যে কারো নির্বাচন করতে পারে জাতীয় পার্টির কর্মীরা।’

জেলার সামাজিক সংগঠন ঠাকুরগাঁও সুরক্ষা কমিটির সভাপতি ও প্রবীণ রাজনীতিক অ্যাডভোকেট ইন্দ্রনাথ রায় বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যক্তিগত ইমেজ নির্বাচনে গুরুত্ব পায়। একজন সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে এলাকায় উন্নয়ন হতে পারে। নিরক্ষরতা মুক্ত করা এবং বাল্যবিবাহের মতো সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করতে পারবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ