শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০২:০৬ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
রাণীশংকৈলে একমন রসুনের দামে ১কেজি গরুর মাংস!
ঠাকুরগাঁও থেকে আনোয়ার হোসেন আকাশ / ২৯ Time View
Update : শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২

চলতি মৌসুমে রসুন রোপণের সময় শুরু হওয়ায় হাট বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ রসুন আসা শুরু হয়েছে। গত মৌসুমে পর্যাপ্ত রসুন উৎপাদন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এবার কৃষকরা রসুন চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এদিকে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, বিদেশ থেকে অতিরিক্ত রসুন আমদানির ফলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বাজার। এখানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়। আর এখানকার কৃষকরা প্রতি মণ রসুন বিক্রি করেছেন ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় রসুন উৎপাদন করেও উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা

চলতি মৌসুমে রসুনের ভালো ফলন পেলেও ন্যায্য দাম পাননি উপজেলার রসুন চাষিরা। অনেক পরিশ্রমের ফসল রসুন বিক্রি করে খরচের টাকাই উঠছে না কৃষকদের। দাম না থাকায় তাই এককেজি গরুর মাংস কিনতে একমণ রসুন বেঁচতে হচ্ছে ।

রসুনের দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে কৃষকরা বলেছেন, এবার রসুনের খুব দাম কম। গৃহস্থ সবার লোকসান হচ্ছে। আগে রসুন বিক্রি করেছি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়, তবে বর্তমানে তা ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

অপরদিকে বিদেশ থেকে রসুন আমদানির ফলে উপজেলায় দেশীয় রসুনের চাহিদা কমেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এর ফলে দাম কমে আসায় রসুন কম কিনছেন তারা। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বিভিন্ন দেশের রসুন আসায়, বর্তমানে বাজার কম।

উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের ভরনিয়া গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে রসুনের দাম একেবারেই কম। ভালো মানের রসুন ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও অধিকাংশ রসুন ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচই উঠছে না। অথচ চায়না থেকে আমদানি করা রসুন চার হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থা হলে কৃষক বাঁচবে না।

ভবানন্দপুর গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন, একসময় প্রতি মণ রসুন আট/নয় হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছি। তখন প্রতি হাটেই রসুন বেঁচে মাংস মাছ কিনে মনের আনন্দে বাড়ি ফিরতাম। তখন দুই-তিন কেজি রসুনের দামেই এক কেজি গরুর মাংস কেনা যেত। অথচ এখন এক কেজি মাংস কিনতে এক মণ রসুন বেচতে হচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে কৃষক সর্বস্বান্ত হয়ে যাবে।

উপজেলার রাতোর গ্রামের রসুন চাষি রওশন আলী বলেন, ‘বাজার ব্যবস্থাপনায় কৃষকের কোনো ভূমিকা না থাকায় কৃষকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত পণ্যের মূল্য পাচ্ছে না। এছাড়া কৃষকের ঘরে কৃষি পণ্য মজুতের সুযোগ না থাকায় এবং সরকারিভাবে কোনো সংরক্ষণাগার গড়ে না ওঠায় এ অঞ্চলের রসুন চাষিরা পাইকারদের হাতে জিম্মি হয়ে আছেন।’

দেড় মণ রসুন নিয়ে রবিবার নেকমরদ হাটে এসেছেন আবু সালেক নামে এক কৃষক। শীতের মৌসুমে বাড়িতে মেয়ে আর নাতিরা এসেছে। রসুন বিক্রি করে মাংস মাছ কিনে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু বাজারে রসুনের দাম দেখে তিনি হতাশ। কেননা এক মণ রসুনের দাম এক কেজি মাংসের সমান

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, কৃষকদের স্বার্থে সরকারিভাবে কৃষি পণ্যের সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে কৃষকরা রসুন সংরক্ষণ করে কাঙ্ক্ষিত দাম পেলে ভালো দামে বিক্রি করার সুযোগ হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category