সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০১:৪৩ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
টাকা না দেওয়ায় ছাড়পত্র বাতিলে হুমকি বিএডিসি প্রকৌশলীর
কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) থেকে হুমায়ুন কবির / ৪৬ Time View
Update : সোমবার, ১৬ মে ২০২২

নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের পাচহার গ্রামের কৃষক সাইকুল ইসলাম। তিনি সেচের ছাড়পত্রের জন্য উপজেলা সেচ কমিটি বরাবর ২০২০ সালে একটি আবেদন করেন।

আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর একটি ছাড় পত্র অনুমোদন দেয়া হয়। যার লাইসেন্স নং ২৯/২০২০-২৯ শ্রেণি । দাগনং ১৬৪৯, খতিয়ান নং- ২৫৭, জেএল নং- ৯৮৮। কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বরাবর গত ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে সেচ সংযোগের জন্য আবেদন করেন।

কৃষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাইন নির্মানের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গত ২০২১ সালের ২০ ডিসেম্বর ৪লাখ ৮৪ হাজার ৮০০ টাকা জমা দেয়ার জন্য একটি চিঠি দেন কুষক সাইকুল ইসলামকে।যার কাজ বর্তমান চলমান অবস্থায় আছে।

কিন্তু কৃষক সাইকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তার অনুমোদনকৃত ছাড়পত্র স্ক্রিমের আওতার ভিতর ৪শ ফুটের মধ্যে আরো একটি ছাড়পত্র অনুমোদন হয়। গত ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট। যার নাম নাজমুল খান, পিতা খানে আলম খান, গ্রাম পাচার বড়বাড়ি, শ্রেণি অগভীর, দাগনং ১২৫০, খতিয়ান নং- ২৫৮, জেএল নং ২৮৮, লাইসেন্স নং ৩৭/২১-২২।

সাইকুল ইসলাম জানান, উক্ত নাজমুল হকের ছাড় পত্রের আবেদন যখন তদন্ত হয়। তখন তদন্তকারী কর্মকর্তা বি.এ.ডিসির উপ সহকারি প্রকৌশলী মোঃ নূরুন্নবি সাহেবকে অবগত করা হয় অনুমোদনকৃত আমার একটি ছাড়পত্র রয়েছে। যার কাজ পল্লী বিদ্যুতে চলমান অবস্থায় আছে।

তখন উপসহকারি প্রকৌশলী নূরুন্নবি সাইকুল ইসলামকে বলেন, যদি ১ লক্ষ টাকা দেন, তাহলে নাজমুল খানের ছাড় পত্রের আবেদনটি বাতিল হবে। অন্যথায় নাজমুল খানের ছাড়পত্রের আবেদন অনুমোদনের জন্য রিপোর্ট দেব।

এই কথা বলে হুমকি দিয়ে নূরুন্নবি আরো বলেন, এ বিষয়টি অফিসের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে আপনার অনুমোদন পাওয়া ছাড়পত্রটি বাতিল করে দেয়া হবে।

গত ০২ মার্চ মোঃ সাইকুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সেচ কমিটির সভাপতি বরারব বিস্তারিত লিখে একটি আবেদন করে।

এ বিষয়ে এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, বেশ কয়েক বছর যাবত উক্ত স্থান থেকে সাইকুল ইসলাম সেচ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।

এর মধ্যে কয়েক মাস আগে সাইকুল ইসলামের সেচ কার্যক্রমের ৪শত ফিটের ভিতরে আর একটি নতুন সেচ স্থাপন করে সেচ কমিটির বরাবর অবেদন জমা দিয়েছে একই গ্রামের নাজমুল হক।

পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা বি.এ.ডিসির উপ সহকারি প্রকৌশলী মোঃ নূরুন্নবি তদন্তে এসে সাইকুল ইসলামের কাছে টাকা দাবী করে এবং তাও বলে টাকা না দিলে সাইকুলের ছাড়পত্র বাতিল করে পাশের নাজমুল হককে ছাড়পত্র দিয়ে দিবে।

এ বিষয়ে জানতে উপসহকারি প্রকৌশলী নূরুন্নবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন টাকা চাননি বলে অস্বিকার করেন। উল্টো তিনি বলেন, সাইকুল ইসলাম আমাকে তদন্তের সময় সঠিক জায়গাটি দেখায়নি। এর বেশি আমি আর কিছু জানিনা।

তবে এলাকার কৃষক জানান, প্রকৌশলী নূরুন্নবি টাকা দাবী করেছিল, সাইকুল ইসলাম দেননি বলে তার জায়গায় নাজমুল হককে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ