বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৭:২১ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিচারপতি প্রথম জানাজা নামাজ গ্রামের বাড়িতে সম্পন্ন
কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) থেকে হুমায়ুন কবির / ৩২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে প্রথম নামাজে জানাজা নেত্রকোনার কেন্দুয়া নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক সামাজিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।

নেত্রকোনার কেন্দুয়ার উপজেলার শেষ প্রান্ত পাইকুড়া ইউনিয়নের পেমই গ্রামের নিজ বাড়িতে গার্ড অফ আনার শেষে ৪ টা ২০ মিনিটের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পড়িয়েছেন সাবেক এ বিচারপতির ভাগিনা শহিদুল ইসলাম।

এরআগে দুপুর আড়াইটায় ঢাকা থেকে সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে মরদেহটি নিয়ে আসা হয় কেন্দুয়ায়। পরে এম্বুলেন্সে করে নিজ গ্রামের বাড়িতে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়।

এসময় জেলা প্রশাসন পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

পরে স্থানীয়দের একনজর দেখানো শেষে আবারও ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় লাশবাহী হেলিকপ্টার।

শনিবার সকাল ১০ টা ২৫ মিনিটে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন সাবেক এ রাষ্ট্রপতি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন যাবত বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।

এদিকে এমন গুণী জনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয়দের মাঝে। জীবনে সৎব্যক্তি হিসেবে দৃষ্টান্ত ছিলেন তিনি। নিজ বাড়িতে দুটি টিনের ঘর ছাড়া তেমন কিছুই করতে পারবেনি। সেগুলোর অবস্থা এখন জরাজীর্ণ।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালের ১৪ জানুয়ারি সাহাবুদ্দীন আহমদকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর এরশাদবিরোধী গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমদ পদত্যাগ করলে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ওইদিনই রাষ্ট্রপতি এরশাদ পদত্যাগ করে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ফলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সরকার প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন।

দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে আবারো তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে। ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর তিনি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবসর নেন।

সাহাবুদ্দীন আহমেদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার পেমই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম তালুকদার রিসাত আহমেদ। তিনি একজন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও এলাকায় জনহিতৈষী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

সাহাবুদ্দীনের শৈশব কাটে নান্দাইলে তার বোনের বাড়িতে, সেখানেই তিনি বড় হন। সাহাবুদ্দীন আহমদের তিন মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তান থাকলেও বড় ইতোমধ্যেই মৃত্যু বরণ করেছেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ