সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০২:৪০ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
পটুয়াখালীতে পাল্টাপাল্টি মামলায় ধংস শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন
পটুয়াখালী থেকে মো. আরিফ হোসেন / ৪৮ Time View
Update : সোমবার, ১৬ মে ২০২২

পটুয়াখালীতে ছাগল তাড়ানোর তুচ্ছ ঘটনায় দুই পরিবারের পারিবারিক বিরোধের সহিংসতায় পাল্টা-পাল্টি মামলার বলি হয়েছে ১০ম শ্রেণীর স্কুলছাত্র মোঃ জাহিদুল ইসলাম (১৪)।

ঘটনা উপস্থিত না থাকলেও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে স্কুল শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলামকে আসামী এবং তাকে অভিযুক্ত করায় ওই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবন থমকে গেছে। মিথ্যে অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ওই স্কুল শিক্ষার্থী বর্তমানে যশোর শিশু সংশোধন কারাগারে হাজতবাস করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, গত বছরের ২৫ মার্চ পটুয়াখালী সদর উপজেলার কিসমত মৌকরণ গ্রামের নেছার হাওলাদারের স্ত্রী জাহানুরের একটি ছাগল প্রতিবেশী বশির হাওলাদারের ক্ষেতে ঢুকে ফসল নষ্ট করে। এনিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে তুমুল ঝগড়ার এক পর্যায়ে বশির হাওলাদার গংরা জাহানুরকে পিটিয়ে জখম করে। তাকে রক্ষা করতে গেলে জাহানুরের মেয়ে কলি (২০)কে ও মারধর শ্লীলতা হানী ঘটায়।

এব্যাপরে আহত জাহানুরের ভাই হাবিব হাওলাদার পটুয়াখালী সদর থানায় প্রতিপক্ষ বশির গংদের ৫ (পাঁচ)জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন সিআর মামলা নং ২৭৪/২১।

এ মামলার দায় এড়াতে বশির হাওলাদার নিজেদের ঘড়ের বেড়া ভাংচুর করে আহত জাহানুর , ছেলে স্কুলছাত্র জাহিদুল ইসলাম ও আহত ষোড়ষী কন্যা কলি বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মিথ্যে মামলা দায়ের করে। মামলা দু’টি চলমান আছে।

এ বিষয়ে হাবিব হাওলাদার বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন আমার বোন ও ভাগ্নীকে মারধর এবং জখম করে তার দায় এড়াতে উল্টো তারা বাড়িঘর নিজেরা পিটিয়ে ভেঙ্গেচুরে মিথ্যে মামলা করেছে। ঘটনার সময় আমার ভাগ্নে শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র মো. জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত না থাকলেও তারা মিথ্যে মামলায় আসামী করেছে।

অপর দিকে বশির হাওলাদারও একই ভাবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দায়েরের অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. সহিদুল ইসলাম খোকন বলেন, দু’পরিবারের বিরোধ নিস্পত্তির জন্য শালিস ব্যবস্থার চেষ্টা করা হলেও বশির গংদের অনিহায় তা আর হয়ে ওঠেনি। দু’পরিবারই কোর্টে আইনী প্রতিযোগিতায় গেছে।আর এর শিকার হচ্ছে স্কুলছাত্র জাহিদুল ইসলাম। তার ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন এখন অনিশ্চিৎ হয়ে পড়েছে। তিনি তার অভিজ্ঞা থেকে আরও বলেন, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য মামলা-মকর্দ্দমায় কয়েক বছর দৌড়ঝাপ,হয়রানি,আর্থিকভাবে দুর্বল হলে শেষ পর্যন্ত পক্ষদ্বয় স্থানীয় শালিসে মিমাংসা হবে যা দেখতে সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ