মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ১০:২৯ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
পটুয়াখালীতে পুলিশের চার্জশিটে হত্যা মামলার আসামিদের নির্দোষ দাবী
পটুয়াখালী থেকে মো. আরিফ হোসেন / ২২২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২

পটুয়াখালীর বাউফলে আলোচিত মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন (৮) নামের শিশুশিক্ষার্থী হত্যা মামলার প্রতিবেদন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ পটুয়াখালী আদালতে জমা দেন বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান। প্রতিবেদনে উলেখ্য করা হয়।

২২ আগস্ট ২০২১ বিকাল অনুমান ৫ ঘটিকায় আরফাত টোকরে মুড়ি,চিড়া,চানাচুর খেতে খেতে অসাবধানতা বসত মাদ্রাসার সিড়ি থেকে পরে আঘাত প্রাপ্ত হয়।মাদ্রাসার অধ্যাপক মোবাইল ফোনে বাহির থেকে এসে, পানি পড়া ঝাড়ফুক সেবা শুশ্রূষা করার পর আরাফাত তার বন্ধুদের সাথে রাতে খাওয়া দাওয়া ও করে।আঘাত গুলো সকলে দৃশ্যমান হলে ভোর ৬ টা অর্থাৎ ১২/১৩ ঘন্টা পর ২৩ আগস্ট ২০২১ তারিখ আরাফাত এর দাদাকে মাদ্রাসা কতৃপক্ষ মোবাইল ফোন দিয়ে জানায়।আরাফাত এর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আরাফাতকে বরিশাল পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে মাথায় অপারেশন করা হয় এবং আরাফাত মৃত্যু বরেন করেন।

সুরাত হাল ও পোস্ট মোর্ডাম শেষে আরাফাত কে দাফন করা হয়।মামলায় তথ্যগত ভুল ছিল আসামীরা নির্দোষ”।

অন্যদিকে স্থানীয় থানা পুলিশ হত্যা মামলাটি না নিলে আদালতে করা মামলার এজাহারে উলেখ্য করা হয়
আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাশিপুর আল ইয়াছিন শিশু সদন হাফিজিয়া মাদ্রাসার নজরানা বিভাগের ছাত্র ছিল আরাফাত।ঘটনার আট-নয় মাস আগে ওই মাদ্রাসায় আরাফাতকে ভর্তি করা হয়।

মৃত্যুর ঘটনায় আরাফাতের বাবা মো. হাসান প্যাদা বলেন,পড়া মুখস্থ না হওয়ায় ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ রোববার বেলা দুইটার দিকে তাঁর একমাত্র সন্তান আরাফাতকে ধরে দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা দিয়ে গুরুতর আহত করেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. জিকিরউল্লাহ (৪৫)।এতে আরাফাতের মাথার হাড় ভেঙে যায় এবং ডান চোখে গুরুতর জখম হয়।

কিন্তু বিষয়টি তাঁদের না জানিয়ে জিকিরউল্লাহ তাঁর আপন ছোট ভাই মো. কাওছারের (৪০) মাধ্যমে আরাফাতকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করেন।

অবস্থা ভালো না দেখে পরের দিন সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে তাঁদের মুঠোফোনে জানানো হয়, আরাফাত ডান চোখের ব্যথায় অসুস্থ।হাসান প্যাদা বলেন, তিনি মাদ্রাসায় গিয়ে আরাফাতকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।পরে তিনি আরাফাতকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ মঙ্গলবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সে মারা যায়। ময়নাতদন্ত শেষে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ বুধবার রাত ১১টার দিকে আরাফাতের লাশ বাউফলের গ্রামের বাড়িতে আনা হয়।পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়ে।

হাসান প্যাদা বলেন এ ঘটনায় ২৬ তারিখ শনিবার শিক্ষক জিকিরউল্লাহ ও তাঁর ভাই কাওছারের বিরুদ্ধে মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে।পরে রোববার পটুয়াখালী আদালতে তিনি হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।

হাসান প্যাদা বলেন পুলিশ আসামী পক্ষ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মামলার সঠিক তদন্ত না করে আসামীদের পক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। আমি পুলিশের এমন আচরণে হতাশ।

বাদীপক্ষের মামলার আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন,আসামীরা ১২/১৩ ঘন্টা ঝাড়ফুক,পানি পড়া চিকিৎসা,সিরি থেকে পড়া,শরীরের দৃশ্যমান আঘাত লুকিয়ে আলামত নষ্ট করে।এবং পরিবার পরিজনকে খবর না দেয়া বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসা না দিয়ে গাফেলতি করে।

এজাহার নামীয় আসামিকে থানা হেখাজতে গ্রেফতার করে অন্য ছোট মামলায় চালান দেয়া হয়।
ভিকটিম এর রক্তমাখা গেঞ্জি থাকার পরেও সেটি জব্দ ও উপস্থাপন না করা হয়নি।মামলায় ঘটনাস্থলের নিরাপক্ষ স্হানীয় স্বাক্ষীর জবান বন্দী গ্রহণ করা হয়নি।

সুরতহাল ও পোস্ট মের্ডাম এর বিষয়ে মন্তব্য পুঙ্গনা বিশ্লেষণ করা হয়নি। পুলিশি প্রতিবেদনে আসামি দের রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে যা দুঃখ জনক।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ