বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
সংস্কার না করায় ঐতিহ্যবাহী মুন্সিবাড়ী ধ্বংসের মুখে
কুড়িগ্রাম থেকে সুভাষ চন্দ্র / ৪৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নে ৩৯ একর জমির উপর মুন্সিবাড়ী নির্মান করা হয়। সঠিক দিনক্ষন জানা না থাকলেও এ অঞ্চলের জমিদার বিনোদ লাল মুন্সির তত্ত্বাবধানে বাড়ীটি নির্মান করা হয়।
জমিদার বিনোদ লাল মুন্সি নিঃসন্তান হওয়ার কারণে তার মৃত্যুর পর দত্তক পূত্র ব্রজেন্দ্র লাল মুন্সি জমিদারীর দায়িত্ব পান। কিন্তু নিয়তি বড় নিষ্ঠুর। স্ত্রী শ্রীমতি আশালতা মুন্সিও জন্ম দিতে পারেননি কোন সন্তান।
এ অবস্থায় ব্রজেন্দ্র লাল মুন্সি মারা গেলে তার স্ত্রীর নিকট আত্মীয় বিহারী লাল মুন্সি জমিদারীর দায়িত্ব পান। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর কোন এক সময়ে রাজশাহীর সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির নামে সম্পতিসহ বাড়ীটি বিক্রি করে দিয়ে চলে যান বলে এলাকায় জনশ্রুতি আছে।
সাইফুল ইসলাম বাড়ীটির দখল নিতে গেলে এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে তা ব্যর্থ হয়। আদালতের আশ্রয় নেন সাইফুল ইসলাম। দীর্ঘ আইনী প্রক্রিয়া শেষে আদালত মুন্সিবাড়ী সহ ৩৯ একর জমি সরকারী সম্পদ হিসেবে ঘোষনা করেন।
শুরু হয় অযন্ত আর অবহেলার পরিক্রমা। পরে ৭ একর ৮২ শতক জমির উপর নির্মিত হয় ইসলামিক মিশন কার্যক্রম। মূল ভবনসহ অবশিষ্ট জমির দায়ভার পরে ধরনীবাড়ী তহশিল অফিসের উপর।
সরেজমিন মুন্সিবাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, মনোরম সৌন্দযর্য নির্মান করা এ বাড়ীটির নষ্ট হওয়া অবকাঠামো।  দেখলেই মনে হবে কোন শিল্পীর হাতে আঁকা এক চিলতে ছবি। একটি রুমে রক্ষিত ব্রজেন্দ্র লাল মুন্সির প্রতিকৃতি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক-হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের অভয়স্থল ভেবে বাড়ীটি আক্রমন করে। আর পাক হানাদার বাহিনী রুমে রক্ষিত ছবিটি ব্যানট দিয়ে ফাঁড়িয়ে দেয়। যা আজও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে দৃশ্যমান।
প্রয়োজনীয় সংস্কার করা না হলে ঐতিহ্যবাহী মুন্সিবাড়ীটি স্মৃতির অন্তরালে চলে যাবে। দরজা জানালা থেকে শুরু করে বাড়ীর মূল্যবান জিনিষপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে দূর্বৃত্তরা। ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে স্মৃতিবিজরীত এ বাড়ীটির সৌন্দর্য্য। এক সময় দুর-দুরান্ত থেকে দর্শনার্থী এসে এর সৌন্দর্য্য অবলোকন করতো। বর্তমানে এর জীর্নশীর্ণ বেহাল দশা দেখতে তেমন কেউ আসেনা। পথচারীরা শুধু যেতে যেতে বলেন, এটাই ছিল মুন্সিবাড়ী। অথচ স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক-হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পায়নি এ বাড়ীটিও।
ঐতিহ্যের ভারে ন্যুহে পড়া মুন্সিবাড়ীর প্রতিটি দেয়ালের আকুতি আমাকে রক্ষা করুন। কিন্তু কেউ শোনেনি সে কথা, হয়নি এর সংস্কার। কবে হবে তাও জানেনা কেউ। অবিলম্বে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে সংস্কার করলে এর কারুকার্য খচিত নিদর্শন রক্ষা করা সম্ভব হবে। তা না হলে মুন্সিবাড়ীটি শুধুই স্মৃতি হয়ে থাকবে এ অঞ্চলের মানুষের কাছে।
আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ