মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ১০:৫৮ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
 ৯ বছরেও মেলেনি রানা প্লাজা ভবন ধ্বসে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ: প্রতিবাদ সমাবেশ
শফিকুল ইসলাম শামীম,  গাজীপুর প্রতিনিধি / ৩৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২
শনিবার, ধ্বসে পড়া রানা প্লাজার সামনে, শহীদ বেদীতে নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং  প্রতিবাদ সমাবেশ  করেছে, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন।
সাভারের রানা প্লাজা ধ্বসে এক হাজার ১৩৮জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় নয় বছর পূর্ণ হচ্ছে রবিবার (২৪ এপ্রিল)। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার বিচার এগোয়নি। এতগুলো প্রাণহানির ঘটনায় সোহেল রানারও বিচার হয়নি। আজও পর্যন্ত নিহত, আহত ও নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হয়নি পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ।  এ নিয়ে রবিবার সকালে ধ্বসে পড়া রানা প্লাজার সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, রানা প্লাজার আহত ও নিহতদের স্বজনরা।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয়, সভাপতি,শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা ইসমাইল হোসেন ঠান্ডু,শফিউল আলম,পারভীন আক্তার,খাদিজা আক্তার,লালন মিয়া,ফাতেমা  আক্তার,নুরুজ্জামান, ইব্রাহিম,এস কে শুভ সহ বিভিন্ন ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ ও রানা প্লাজার  আহত শ্রমিকরা ।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘নয় বছর পার হল আজ অথচ এই ঘটনার মূলহোতা সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত, হতাহত শ্রমিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং পূর্নবাসন,পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা,রানা প্লাজার জায়গা অধিগ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও পরিবারের পুনর্বাসন এবং ২৪ এপ্রিলকে শোক দিবস ঘোষণা,স্থায়ীভাবে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, সকল সেক্টরে নিরাপদ কর্মস্থল সহ বিভিন্ন দাবিতে নয় বছর ধরে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু বিজিএমই এবং সরকার কোনো কর্ণপাত করছেন না বিধায় প্রতিবাদ সমাবেশ করতে হচ্ছে আমাদেরকে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘শুধুমাত্র রানা প্লাজা নয়, তাজরীন ফ্যাশন অগ্নিকাণ্ড, স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ভবন ধস রূপগঞ্জে জুস কারখানা আশুলিয়ায় জুতার কারখানা সহ এ পর্যন্ত দেশের যেসব গার্মেন্টেসে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি। বিচার না হওয়ার কারণে একের পর এক ঘটছে হত্যাকান্ড। তাই সোহেল রানাসহ সব অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাই।’
বক্তারা বলেন যখনই ২৪ এপ্রিল আসে বিচার নিয়ে কথা ওঠে। কিন্তু বছরের বাকি ১১ মাস এ নিয়ে কোনও কথা হয় না। শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে কারখানাগুলো নিরাপদ করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল। এরপর অ্যাকোর্ড, অ্যালায়েন্স এসেছে। কিন্তু কারখানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। এখনও বিভিন্ন কারখানায় ঘটছে দুর্ঘটনা। শ্রমিকরা জীবন দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এখনও রানা প্লাজার যেসব শ্রমিক জীবিত আছেন তারা এই দিনে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আসতে চাইলে কারখানার মালিকরা ছুটি দেন না। সরকার ও কারখানার মালিকরা এই দিন ভুলিয়ে দিতে চায়। কিন্তু আমরা এ ঘটনার বিচার চাই এবং চাইবো।
রানা প্লাজার আহত শ্রমিক নিলুফা আক্তার বলেন, ‘আমি ক্ষতিপূরণ চাই। আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। পাশাপাশি রানার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩৮ জন  শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়। আহত হন আরও কয়েক হাজার শ্রমিক। শ্রমিক নেতারা আরও বলেন ঈদের পুর্বে বেতন-বোনাস পরিশোধ,মহাসড়কে যানজট এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণে বিজিএমইএ এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
শ্রমিকরা জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে অবস্থিত রানা প্লাজায় তিনটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতো ওই দিন সকাল ৮টায় হাজির হন কর্মস্থলে। উৎপাদনও শুরু করেন নির্ধারিত সময়ে। হঠাৎ সাড়ে ৯টার দিকে বিকট শব্দ। আশপাশে উড়তে থাকে ধুলাবালু। ধসে পড়ে রানা প্লাজা। শুরু হয় আহত শ্রমিকদের আহাজারি। উদ্ধারে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, আনসার, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। চলে বিরতিহীন উদ্ধার অভিযান।
আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ