শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:১০ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
দুরুদ শরিফ পড়ে উঠতে হয় যে সাঁকোতে
মোঃ- আরিফুর রহমান অরি, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ- / ১৩৩ Time View
Update : শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২

মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া – ধামরাই উপজেলার বাছট ও প্রত্যাশা গ্রামে গাজীখালী নদীর ওপর নির্মিত সাঁকোটি দোয়া দুরুদ পড়ে পাড় হতে হয়।

গাজিখালি নদীর ওপর নির্মিত গ্রামীণ বাঁশের  সাঁকোটি দায়সারা ভাবে নির্মিত হওয়ায় অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থী সহ গ্রামবাসীরা পাড় হয়।

একটি সেতু না থাকার  অভাবে দুর্ভোগ হচ্ছে, দুই উপজেলার  লক্ষাধিক মানুষের । স্বাধীনতার পর আজ প্রায় ৫০ বছর অতিবাহিত হলেও হয়নি একটি পারাপারের সেতু।

গাজিখালি নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে প্রায় ৫০ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দুটি উপজেলার প্রায় ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। একটি ৭০ মিটার সেতু পেতে আকুতির শেষ নেই ওই ইউনিয়নের জনগণের। তাই আজও ভরসা তাদের  বাঁশের সাঁকো ও খেয়া নৌকা।

স্বাধীনতার পর থেকে জনপ্রতিনিধিদের কাছে বাছট ও প্রত্যাশা  নামের  এলাকায় গাজীখালি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণে দাবি জানিয়ে আসছিল দুই পাড়ের লক্ষাধিক  মানুষ। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশ স্বাধীনের পর থেকে সংসদ সদস্য (এমপি), উপজেলা, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলেও সেতুর স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেছে।

ধামরাইয়ে বালিয়া, গাংগুটিয়া ও  সাটুরিয়ায়  সাটুরিয়া ইউনিয়নে লাখো মানুষের বসবাস। প্রতিদিনের কাজে দুই উপজেলার সদরসহ কাওয়ালীপাড়া বাজারে যেতে হয়। দুই উপজেলার অন্তর্গত ২০ গ্রামে   যাওয়া -আসার একমাত্র রাস্তায় ব্রিজ নির্মাণ হয়নি গত ৫০ বছরেও। গাজীখালী  নদীর এই স্থানে দুই পাশে পাকা রাস্তা থাকলেও নেই কোন স্থায়ী ব্রিজ। গ্রামের মানুষের একমাত্র রাস্তা হওয়ায় প্রতিনিয়ত নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। সকাল বিকেল এপার থেকে ওপারে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাই এটি। ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি  ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোয় পারাপার হচ্ছে  মানুষ।

এক পাড়ের মানুষ পারাপার হওয়ার সময় অন্যপাড়ের মানুষ অপেক্ষা করে ফলে কিছু কিছু সময় এক মিনিটের রাস্তা পার হতে ২০ থেকে ৩০ মিনিটও সময় লেগে যায়। বিকল্প রাস্তা না থাকার কারণে এখানেই দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় এসব এলাকাবাসীর। ঐ এলাকায় তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নদীর ওপারে বাছট বৈলতলা মোক্দমপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা, বছর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এপারে প্রত্যাশা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে।  ছাত্রছাত্রীরা এই রাস্তা দিয়ে পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন, কিছু কিছু অভিভাবক তাদের ছোট ছেলে-মেয়েদের সাঁকো পার হওয়ার ভয়ে স্কুলে পাঠান না।বর্ষার সময় যাতায়াত করে হাজারো স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী। তখন ভোগান্তি বিগত সময়ের চেয়ে হাজারগুন বেড়ে যায়।এতে করে লেখাপড়া ব্যহত হচ্ছে এই এলাকার অনেক শিক্ষার্থীর।

বাছট বৈলতলা  মোকদমপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও  এতিমখানার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল রহমান বলেন, এই গাজীখালী নদীর ওপর  দিয়ে এই এলাকার কৃষকেরা বিভিন্ন কৃষিপণ্য আনা-নেয়া করেন ,মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েসহ অনেক মানুষ  আসা-যাওয়া করে । এখানে একটি  ব্রিজ নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর আর কোনো দুর্দশা থাকবে না।

দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছরেও এই জেলায় কত এমপি মন্ত্রী হলো তবুও এখানে একটি সেতু নির্মাণ হলো না। আর কত বছরে আমাদের দুঃখ ঘুচবে? আমাদের বয়স ত শেষই। কিন্তু সেতু দেখে যেতে পারলাম না। নাতি পুতী যদি দেখে যেতে পারত তবুও কবরে গিয়ে শান্তি পেতাম।

একান ব্রিজ না হওয়াতে আমার কষ্টের শেষ নাই। ব্রিজ চাইতে চাইতে বাপ-দাদারা মারা গেছে, তাও  কোনো ব্যবস্থা করে নাই। নির্বাচন আসলে নেতারা বলে, তোমার নদীটা তো বড় সমস্যা। ভোট দেও, এবার ব্রিজ হয়ে যাবে। আমরা তাই তাকেই ভোট দেই। কিন্তু ব্রিজ আর হয় না।

নদী পারাপারের জন্য দীর্ঘ ৫০ বছরেও কাঙ্ক্ষিত সেতু নির্মাণ না হওয়ায় এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ক্ষুব্ধ বৃদ্ধ কৃষক পলাশ বাবু।

এই রাস্তায় চলাচলকারী পথচারী বাছট গ্রামের মো. আরিফ জানান, গ্রামের বেশি বয়সী লোকদের চলাচলের জন্য খুবই বিপজ্জনক এই বাঁশের সাঁকোটি।গাজিখালি নদীর উপর ৭০ মিটার একটি ব্রিজের দাবি জানাচ্ছি সরকারের কাছে।

অনেকেই কথা দেয় ভোটের সময়, কিন্তু ভোট শেষ হলে কারো দেখা পাই না, সবার ভাগ্যই পরিবর্তন হয়, ভাগ্য পরিবর্তন হয় না শুধু আমাদের মতো  অবহেলিত  গ্রামবাসীর। কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন গ্রামের  কিছু বাসিন্দা।

বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, প্রত্যাশা-বাছট নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ হলে দুই উপজেলাবাসীরই দুর্ভোগ লাঘব হবে। এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে তাগাদা দেয়া হবে।

ধামরাই উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক বলেন, গাজীখালী নদীর ওপর  সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রস্তাব করা হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ