মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
নিজের জন্য অর্থ উপার্জন করতে বিদ্যালয় ব্যবহার করেন প্রধান শিক্ষক
Reporter Name / ৫৬২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২

মুরাদুল ইসলাম, রাজীবপুর অনিয়ম, দূর্নীতির অভিযোগের বোঝা মাথায় নিয়ে বহাল তবিয়তে রাজিবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট জালিয়াতি, নিয়োগ বাণিজ্য, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির তথ্য গোপন, বিদ্যালয়ের দোকান পজিশন ও পুকুর লিজ, অর্থ, আদালত অবমাননা, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে বিল উত্তোলন ও তদন্ত টিম গঠনসহ ব্যাপক আত্মসাৎ অনিয়ম দূনীতির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি আদায়ের প্রতিবাদে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেও কোন ফল পায়নি শিক্ষার্থীরা।

সার্টিফিকেট জালিয়াতি ও নিয়োগ: জানা গেছে ১৯৯৩ সালের ১১ জানুয়ারী জাউনিয়ারচর জুনিয়ার হাই স্কুলের (আই,এসসি) জুনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপত্র গ্রহন করেন। একই সালের ১২ জানুয়ারী যোগদান করেন আজিম উদ্দিন। তিনি তখন রাজীবপুর কলেজে দ্বাদশ শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্র হিসেবে অধ্যায়নরত। পরে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন ১৯৯৩ সালে জুলাই মাসে। ওই পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয় ৬ অক্টোবর ১৯৯৩ সালে। অভিযোগ রয়েছে ফল প্রকাশের আগেই জুনিয়র সহকারি শিক্ষক পদে জাউনিয়ারচর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৯৫ সালে এমপিও ভুক্ত হন। একইভাবে সেখানকার ইনডেক্স (২৫৯৫৯৫) নম্বর ব্যবহার করে, রাজীবপুর সরকারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারী এ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে নিয়োগপত্র গ্রহণ ও যোগদান করেন এবং রাজীবপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এমপিও ভুক্ত হন তিনি, নিয়মিত ছাত্র হিসেবে জামালপুর জেলাধীন ইসলামপুর বেসরকারী ডিগ্রী কলেজ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নভেম্বর/১৯৯৫ইং থেকে ফেব্রুয়ারী/১৯৯৬ ইং সালে চাকুরীরত অবস্থায় নিয়মিত ছাত্র হিসেবে পরীক্ষা দিয়ে বি,এ পাসের এ অর্জন সনদ অবৈধ। এবিষয়ে রাজীবপুর উপজেলার শিবেরডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার জিহাদী ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা ভবন, ঢাকা- মহা পরিচালক বরাবর অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারী প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরেজমিনে তদন্তের জন্য একটি তদন্ত টিম গঠন করেন। ২০২২ সালের ২৪ মার্চ অভিযুক্ত আজিম উদ্দিনের সাক্ষাতকার গ্রহন করেন উপ-পরিচালক . মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রংপুর অঞ্চল। বর্তমানে ওই তদন্তের প্রতিবেদনটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মহাপরিচালকের কার্যালয় রয়েছে।

পুকুর ও পজিশন লিজ: ২০১০ সালে বর্তমান প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ৩.৫০ একর জমির পুকুরটির সংলগ্ন পজিশন ৬০ টি দোকানের মধ্যে ৪০টি দোকান প্রতিটি ৪০ হাজার করে মোট ১৬ লাখ টাকায় লিজ প্রদান করেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা না করে নয় ছয় করেন। বলাবাহুল্য ২০১৭ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের নিমিত্তে যখন বিদ্যালয়ের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ’ডিড অব গিফ্ট’ এর মাধ্যমে লিখে দেওয়া হয় তখন অত্যান্ত চাতুরতার সহিত প্রধান শিক্ষক উক্ত ৬০ টি দোকান ও পুকুরটির তথ্য গোপন করে রেখেছেন। এমনকি প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন নিজের পছন্দমত ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়ে গোপনে পুকুর লিজ দিত এবং ওই অর্থ নিজেই আত্মসাৎ করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ্য রয়েছে পুকুরটির লিজমূল্য ছিল প্রতি বছরের জন্য ২ লক্ষ টাকা হিসাবে ১৩ বছরে মোট ২৬ লক্ষ টাকা । এই অর্থের কোনো হিসেব নেই তার কাছে। বিদ্যালয়ের মার্কেটের ভাড়া ও পুকুর লিজের টাকা স্কুল ফান্ডে না দিয়ে প্রধান শিক্ষক আত্মসাৎ করেন।

৪ জন কর্মচারিকে ভুয়া নিয়োগ: রাজীবপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন দীর্ঘদিন (২০১৫ সাল থেকে আজ অবধি) যাবৎ নিয়োগবিহীন পাঁচ ব্যক্তি মোঃ যুবরাজ, মোঃ মনোয়ারুল ইসলাম, মোঃ নাহিদ হাসান, মোঃ মিজানুর রহমান এবং মোছাঃ বিদ্যা বেগম এর নামে বেতনের জন্য ভুয়া বিল তৈরী করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরে উত্তোলন পূর্বক আত্মসাৎ করে আসছেন অপর দিকে অত্র বিদ্যালয়ে পাঁচজন মধ্যে মনোয়ারুল ইসলাম ব্যাতিত বাকী চার ব্যক্তির একজনেরও নিয়োগের অনুকুলে নিয়োগবিজ্ঞপ্তি, কমিটির রেজুলেশন , নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল, নিয়োগপত্র কিংবা যোগদানপত্র কোনো কিছুই হাতে নেই। অথচ বছরের পর বছর ধরে এভাবে ভুয়া বিল বানিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন আরও উল্লেখ্য যে, খন্ডকালীন শিক্ষক-কর্মচারিদের জুন/২০২১ এর বেতন ভাতার টপসীটে উল্লেখিত ১নং ক্রমিকে বর্ণিত ব্যক্তি মোঃ যুবরাজকে ‘কম্পিউটার শিক্ষক’ পদ দেখিয়ে বেতন করা হয়েছে; অথচ ওই পদে এক জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক জেসমিন জাহান কর্মরত আছেন। ২নং ক্রমিকে বর্ণিত সহকারি শিক্ষক মোঃ মনোয়ারুল ইসলাম (সামাজিক বিজ্ঞান, বিধি সম্মতভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত, সরকারিকরণে তার পদ সৃজন হয়েছে) তাকে অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার পদ দেখিয়ে ভুয়া বিল করা হয়েছে, ওই পদে আঃ সাত্তার নামে একজন এমপিওভুক্ত কর্মচারি কর্মরত আছেন। এই ব্যাপারে অত্র বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক বৃন্দ তৎকালীন ইউএনও বরাবর ১০/০৭/২০২১ইং তারিখে একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। এর প্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিকভাবে ইউএনও মহোদয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টীম গঠন করেন এবং কমিটিকে তাদের দায়-দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব এর যৌথ ষড়যন্ত্রে ওই তদন্ত কার্য অগ্রসর হতে পারেনি এবং দীর্ঘ নয় মাস পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক সাংবাদিককে বলেন, নিয়োগবিহীন চার কর্মচারিকে প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন তার পারিবারিক কাজে ব্যবহার করে থাকেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজীবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব বলেন, তৎকালীন ইউএনও স্যার রাজীবপুর সরকারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়োগবিহীন পাঁচ ব্যক্তির নামে ভুয়া বিল উত্তোলন ও টাকা আত্মসাৎ।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category