শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:৪৩ অপরাহ্ন

  • বাংলা বাংলা English English
পাখা এখনো ঘুরছে
AB71tv / ৭৮ Time View
Update : শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২

মা, বেরোচ্ছি,

কোথায় যাবি?
এই পাড়ার প্যান্ডেলে?

প্রথমে ফুলঝুরি পুড়াবো।
তারপর পালা গান শুনবো।

সোয়েটার পরে-নে।

দুর মা।

না, না একটু একটু ঠান্ডা লাগছে অসুখ হবে।

অগত্যা বছরের প্রথম গরম জামা পরা। সত্যিই বাইরে বেশ একটা ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব। অন্ধকারটা যেন আমাবস্যার চাইতেও গভীর। হয়তোবা মনের ভুল।

পালাগানের প্যান্ডেল আলোয় ঝকঝক করছে। অফুরন্ত শ্যামাপোকার ভিড়। কত বছর আগে‌রই বা কথা? ঢের কুড়ি পঁচিশ হবে। অথচ মনে হয় ভিন্ন গ্রহের ভিন্ন জগতের স্মৃতি রোমন্থন করছি।
কার্তিক মাস আসা মানেই শীতের আগমন মনে হয়। ভয়ানক আদ্রতা এবং অস্বস্তিতে শিরশির করতো গা।
মালুম হতো আশ্বিনের শেষ থেকেই। প্রকৃতির এই চিরন্তন চক্রকে আমরাই পরিকল্পিতভাবে বদলে ফেলেছি।
অথচ সব জেনেও তা নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা কারো দেখিনা।

অক্টোবর মাসেও প্রখর রৌদ্রে প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়া। ডিসেম্বরেও শীতের দেখা না পেয়ে সামান্য হা হোতাশ করে আবার অভ্যাসবশত অবক্ষয়ের দিকে নিমজ্জিত হই।
এসি গাড়ি-ঘোড়া বীর বিক্রমে চলছে। হচ্ছে জঙ্গল পরিষ্কার উঠছে বসত বাড়ি। চেষ্টা সত্ত্বেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কার্বন কমছে না। বিশ্ব উষ্ণায়ন ক্লাইমেট চেঞ্জ দুটি শব্দ আমাদের জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। ঋতু পরিবর্তনের ছন্দপতন।

শিল্প বিপ্লবের শুরু থেকেই জানা যায় মানুষ্য বাসযোগ্য ধরিত্রীতে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা এক দশমিক দুই ডিগ্রি বেড়ে গেছে। বাতাসে মিশছে বিষ। বদলে গেছি অনেক অনেক শিশু জীবন। তবে এসব তথ্য আপনারা ভূগোল বয়েই পাবেন। অনেকে ভাবতে পারেন এগুলো তো হবেই ভাবনার কিছু নেই। আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাপনের লড়াই। পৃথিবীর কার্বন নিঃসরণ কমানোর পক্ষে জলবায়ু পরিবর্তন। ভবিষ্যতের ছন্দপতন অনিশ্চিত জীবন। আমাদের চেনা পৃথিবী বদলে যাচ্ছে। ২০১০ থেকে ২০২০ পৃথিবীর ইতিহাসে উষ্ণতম দশক ছিল। একদিকে সুমেরু বৃত্তের সবুজায়ন– ঘনঘন সামুদ্রিক ঝড়। অন্যদিকে তাপ প্রবাহ।

বাঁধভাঙ্গা বৃষ্টি। সবকিছুর পিছনে রয়েছে আমাদের খোদার উপর ‌পোদ্দারী করার ফসল। পৃথিবীতে ২ লক্ষের উর্ধ্বে প্রাণী বাস করে বস্তুত,পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোন প্রাণী সৃষ্টির সঙ্গে এইরকম অসংবেদনশীল ব্যবহার করেনি। মানুষ বিবর্তনের ইতিহাসে সবচাইতে সভ্য ও উন্নত প্রাণী কিন্তু এটাও ঠিক মানুষই একমাত্র প্রাণী যে প্রকৃতির সঙ্গে মেলবন্ধনের আবহ রাখতে পারেনি।

আমরাই জঙ্গল সাফ করছি এভাবে। সবকিছু জেনেও আমরা প্রকৃত জ্ঞানপাপীর এর মত জীবনটা কাটিয়ে দিচ্ছি। চোখে আঙ্গুল দিয়ে প্রকৃতি দেখিয়ে দিচ্ছে, তাকে আমরা পাল্টে ফেলেছি আমাদেরই কর্মকান্ডের মাধ্যমে। আমার ছেলেবেলার পালা গানের উপলব্ধির সঙ্গে আমি আপোষ করে নিচ্ছি। আমাদের সার্বিক প্রচেষ্টায় যদি কার্বন নিঃসরণ হার না কমায়। একবার ভাবুন তো। পরবর্তী প্রজন্ম তারা কোথায় দাঁড়াবে?? দর্শক একটু ভাববেন???

 

লেখক- কলিম উদ্দিন
বাঘা, রাজশাহী

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ