শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:০১ পূর্বাহ্ন

অনুপস্থিত শিক্ষকদের প্রতি মাউশির কড়া বার্তা
এবি ডেস্ক রিপোর্ট / ৭৮ Time View
Update : শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

জাতীয়করণের দাবিতে চারদিন ধরে জাতীয় প্রেসক্লাসের সামনে আন্দোলন করছেন বেসরকারি শিক্ষকরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসেও রাস্তা অবরোধ আন্দোলন থেকে সরে আসেননি তারা। এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত শিক্ষকদের ব্যাপারে কড়া বার্তা পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

কোন প্রতিষ্ঠানে কতজন শিক্ষক অনুপস্থিত তা তদারকি করতে গভর্নিং বডি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে ৫টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর শাহেদুল খবির চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। যদিও চিঠিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ব্যাপারে স্পষ্ট করে নির্দেশনা দেওয়া না হলেও যারা ক্লাসরুমে অনুপস্থিত থাকছেন তাদের বিষয়ে তদারকি করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২২ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ২০২৩ সাল থেকে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে নতুন টিচিং-লার্নিং অ্যাপ্রোচে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন নির্ভর করছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন যেমন- প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবস্থাপনা কমিটি/গভর্নিং বডি, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সকলের কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটি/গভর্নিং বডি।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দৈনন্দিন শিখন-শেখানো ও মূল্যায়ন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিতে শিক্ষকের ও তা পর্যবেক্ষণে প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিয়মিত উপস্থিতি অপরিহার্য। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে- কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও কোনো কোনো শিক্ষক নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করছেন। পাশাপাশি এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডিরও কোনোরূপ নজরদারি না থাকায় নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এছাড়া কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়নি। ফলে এখন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাসসহ গভীর নজর দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টদের নিম্নরূপ নির্দেশনা প্রতিপালন নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো-

১. প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি সক্রিয় তদারকি করবে;

২. শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠান প্রধান কার্যকর ভূমিকা নেবেন;

৩. কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে গৃহীত বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর রাখা;

৪. সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে কোনরূপ মিথ্যা ও উসকানিমূলক প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করা;

৫. শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা;

এসব নির্দেশনা পালনে কোনোরূপ ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) পর্যন্ত টানা আট দিন আন্দোলন চলমান রেখেছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। আজ সকাল থেকেও প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। সকাল ৮টা থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষকরা। সকাল ১০টার মধ্যে পল্টন মোড় থেকে হাইকোর্ট মোড়গামী রাস্তা অবরোধ করেন তারা। তবে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয় প্রেস ক্লাবের অপরপ্রান্তের সড়ক। এরপর ওই সড়কও বন্ধ করে দেয় আন্দোলকারীরা।

প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে গত সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) ব্যানারে আন্দোলনে সরব রয়েছেন শিক্ষকরা। সারাদেশ থেকে কয়েক হাজার শিক্ষক-কর্মচারী এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ