সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন

বসন্ত এবং বিশ্ব ভালোবাসা দিবস
বিনোদন ডেক্স: / ২০৯ Time View
Update : সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪

আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ বছর পূর্বে । তৎকালীন দজলা এবং ফোরাত নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মেসোপটেনিয়া সভ্যতা।।
ক্যালিডিও বা নব্য ব্যাবিলিয়ন সভ্যতায়——
রাজা নেবুচাঁদ নেজার। তৈরি করেছিলেন ব্যাবিলনীয় ঝুলন্ত উদ্যান বা ফুলের বাগান একমাত্র স্ত্রীর মনোরঞ্জনের জন্য ।
যার মালি ছিল ২০৫০ টা। পক্ষান্তরে ১৬০০ শতাব্দীতে সম্রাট শাহজাহান তৈরি করেছিলাম তাজমহল এই ঘটনা সবারই জানা।।
যার নির্মাণ কাজের ব্যাপ্তি ছিল দীর্ঘ সময়।
পাঠক উত্তর- আধুনিক যুগে ১৮ এবং ৬৫ বছরের যথাক্রমে কিশোরী এবং প্রবীণের মেলবন্ধন বা ভালোবাসা মাত্র দেড় মাসে । দয়া করে একটু মিলিয়ে দেখবেন?? এটা কি প্রকৃতই ভালোবাসা???
না অর্থবিত্তের লালসা??? যা ভালোবাসার নামে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে??? আজকে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে। সবার কাছে আমার প্রশ্ন??

এই বসন্তে অনেক বছর আগে, তোমায় প্রথম দেখেছিলেম আমি’ গানের ঠিক এই জায়গায় মন কেমন করে ওঠে। বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস দুটো যেন একসঙ্গে জড়িয়ে এবারের পহেলা ফাল্গুন। বিশ্বে-প্রায় প্রতিটি সভ্যতারই বসন্তবরণের ইতিহাস রয়েছে। প্রাচীন গ্রিস ও রোমে বসন্ত উৎসব বেশ জোরে সোরে পালিত হতো। বলা হতো এ সময় পাখিরা জুটি বাঁধে।
তরুণ তরুণীরা – পরষ্পরকে একান্তই ভালোবাসার কথা জানাতো। ষাটের দশকে বাঙালী জাতীর স্বাধীনতার চেতনা- বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে আবহমান কালের বসন্ত উৎসবকে নতুনভাবে নগর জীবনেও পালনের রীতি শুরু হয়। পহেলা ফাল্গুনে হলুদ বা বাসন্তী রংয়ের শাড়ি পরার প্রচলন হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে বসন্ত বরণ- বাঙালির জাতীয় ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে ধীরে ধীরে। পহেলা ফাল্গুনে বাসন্তী পোশাক পরে বইমেলায় যাওয়ার রীতি নব্বই দশক থেকেই চলছে। আর চারুকলার বকুলতলায় বসন্ত বরণের উৎসবও বেশ ঐতিহ্যবাহী।

সেন্ট ভ্যালেনটাইনস ডে- পাশ্চাত্যে প্রচলিত ছিল অনেক কাল ধরেই। যখন বাংলাদেশে সেন্ট ভ্যালেনটাইন’স ডের প্রচলন হয় নব্বইয়ের দশকে তখন বাঙালির কাছে এদিনটিকে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস নাম দিয়ে পরিচিত করানো হয়।
ভ্যালেনটাইনস ডে-এর ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন পণ্ডিতের ভিন্ন ভিন্ন অভিমত। তবে অধিকাংশ পণ্ডিতের মতে রোমের সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে এই দিবসের নামকরণ হয়েছে। প্রচলিত মত অনুসারে ২৬৯ সালে রোমে ভ্যালেনটাইন নামে একজন সাধু ছিলেন। সেটি ছিল রোমান সম্রাট ক্রাডিয়াসের শাসনকাল। তখন খ্রিস্টধর্মের প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। রোম সম্রাট তার সৈন্যদের বিয়ে করতে নিষেধ করেন কারণ তাহলে তারা মন দিয়ে যুদ্ধ করতে পারবে না। সম্রাটের কাছে এই অমানবিক আদেশকে মেনে নেননি সাধু ভ্যালেনটাইন। তিনি গোপনে প্রেমিক প্রেমিকাদের বিয়েতে পৌরহিত্য করতেন মতান্তরে তাদের খ্রিস্ট ধর্মেও দীক্ষিত করতেন। সম্রাট ভ্যালেনটাইনকে কারাবন্দী করেন। বন্দী ভ্যালেনটাইন কারাপ্রধানের দৃষ্টিহীন কন্যা জুলিয়াকে আরোগ্য করেন। দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায় জুলিয়া। এদিকে ভ্যালেনটাইনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হয়। মৃত্যুর আগে সেন্ট ভ্যালেনটাইন জুলিয়ার উদ্দেশ্যে চিঠি লিখে যান।
চিঠির শেষে তিনি লেখেন—
( ‘ফ্রম ইয়োর ভ্যালেনটাইন’।)
পরবর্তি কালে রোমে খ্রিস্ট ধর্মের প্রসারের পর সেন্ট ভ্যালেনটাইনের শহীদ হওয়ার দিনটি পালিত হতে থাকে ১৪ ফেব্রুয়ারিতে।

১৪শ’ শতকে ইংরেজ সাহিত্যিক চসারের লেখায় ভ্যালেনটাইনস ডে’র সঙ্গে রোমান্টিক আবহ যুক্ত হয় এবং এটি প্রেমিক-প্রেমিকার দিবস হিসেবে পালিত হওয়া শুরু হয়। অনেক পণ্ডিতের মতে ফেব্রুয়ারি মাসে উদযাপিত প্রাচীন গ্রেকো-রোমান ঐতিহ্যের প্রেম-প্রস্তাব দিবস লুপার সালিয়ার রীতি রেওয়াজ- এই দিবসে অঙ্গীভূত হযেছে। তবে এই দাবির কোন বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মধ্যযুগে ঊনবিংশ শতকে ইউরোপে ভ্যালেনটাইন দিবসে প্রিয়জনকে চিঠি, কার্ড, উপহার এবং মিষ্টিজাতীয় সামগ্রী প্রদানের রেওয়াজ চালু হয়।
প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য দিনটি প্রসিদ্ধি লাভ করে।

ভ্যালেনটাইনস ডে’র প্রতীক হলো এমেথিস্ট পাথর, হৃদয়আকৃতি, লাল গোলাপ, কিউপিড ইত্যাদি। কথিত আছে সেন্ট ভ্যালেনটাইনের হাতে অ্যামেথিস্ট পাথর বসানো একটি আংটি ছিল এবং এই পাথর ভালোবাসা লাভে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশক থেকে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস নামে ১৪ ফেব্রুয়ারির দিনটি উদযাপিত হতে থাকে। পহেলা ফাল্গুনের বসন্ত বরণ এবং ১৪ ফেব্রুয়ারিতে ভালোবাসা দিবস পালনের রীতি চলে আসছে প্রায় ২৫ বছর ধরে। দুটি দিনেই এই দিবসে প্রচুর সংখ্যক গোলাপ ও ফুলের মুকুট বিক্রি হতে দেখা গেছে। এই বছরের বিশেষ তাৎপর্য পহেলা ফাল্গুন ও ভ্যালেন্টাইন- ১৪ ফেব্রুয়ারিতে পড়েছে।
ফলে দুটি দিনই উদযাপিত হচ্ছে একই সঙ্গে। বসন্তবরণ বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্য আর ভ্যালেনটাইন’স ডে বিশ্ব সংস্কৃতির অংশ।
হলুদ, লাল পোশাক সঙ্গে ফুলের মালা ও মুকুট দিনটিকে একই সঙ্গে উদযাপন করার অনুষঙ্গ হয়েছে- সহজেই। বসন্ত মূলত তারুণ্য ও প্রেমেরই জয়গান গায়। তাই দুটি দিন একসঙ্গে উদযাপনে কোনো বাধা নেই মোটেই। সকলের জীবন বসন্তে সজীব ও ভালোবাসায় ঋদ্ধ হোক এমন শুভ কামনা।
তৎসঙ্গে প্রতিটা মানুষ আমিত্বের আঙ্গিনা ছেড়ে সর্বজন বিধিত একে অপরের মঙ্গল, ভালোবাসা এবং শুভ কামনায় সিক্ত হই। এবং ভবিষ্যতেও অটুট থাকুক সমাজের সর্বস্তরে ‌ ভালোবাসার বন্ধন।

লেখক-কলিম উদ্দিন

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ