শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৩৭ অপরাহ্ন

রূপকথার গল্প থেকে কার্টুন
সাহিত্য ডেস্ক, AB71tv / ৪২ Time View
Update : শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

মনে পড়ে‌, একসময় মায়ের কাছে গল্প শোনার জন্য কি ভীষণ বায়নাই‌-না‌ করতাম। সেই গল্প, যেখানে উকি দিত ফুল পরী, এসে যেত পঙ্খিরাজ।
ছুটে আসত রাজপুত্তুর।
নাঃ-সেই গল্পগুলো শুধু রাতের ঘুমের জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং সেগুলি ছিল নিবিড় মনোবিদ এর ব্যবস্থাপত্রের মত। এমনকি বনবিধির মতও।
যার ছায়া তলে সুগম পথ, মা- ছেলের প্রায় সব দূরত্ব ম্লান করে দিত।

কিন্তু এখন?? চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে —– আধুনিক সভ্যতা তথা ডিজিটালাইজেশনের এই সন্ধিক্ষণে মা ছেলের সেই সুনিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠবে তো ? অর্থাৎ আমাদের ছেলেমেয়েরা যারা কিনা– সবেমাত্র ৪ অথবা ৫ বছরের কিনারায়— এরা সবাই সপ্রতিভ বেশ গুছিয়ে কথা বলে।
কিন্তু সমস্যা একটাই ওদের কল্পনার দুনিয়াজুড়ে শুধু কার্টুন আর কার্টুন। রূপকথার রাজ্য, ঘুম পাড়ানি গান, মিষ্টি মধুর ছড়া কিছুই এদের মনের ভিতরে কোন প্রভাব ফেলছে না। বরং এদের মনের রাজ্যে প্রাধান্য পাচ্ছে বিদেশি কার্টুনের গল্প। ঘুমোনোর আগে সদ্য দেখা কার্টুনের গল্পটা পুনরায় আরো একবার শুনতে চাই চাই। হ্যাঁ ৪/৫ বছরের ছেলে-মেয়েরা এই সমস্যায় জর্জরিত। হবেই না বা কেন?? মাত্র কয়েক দশক আগে যৌথ পরিবার ছিল।
দাদা-দাদী নানা-নানি ,কাকা- কাকি এবং আরো অনেক সদস। সবাই মিলে তৈরি হতো বাস্তবতার মিলবন্ধন।
এবং প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ হতো।
কিন্তু এখন?? বর্তমানে অনু‌ পরিবারে বেড়েছে ব্যস্ততা। তাল মিলিয়ে চলতে হচ্ছে আত্ম অগ্রগতির উজ্জ্বল রঙের সাথে। মনোগ্রাহী দৃশ্য আর সপ্ত আবহের সম্পূর্ণ মেলবন্ধন, প্রায় অস্তিত্ব হারিয়েছে।
পারিবারিক সময় থেকে ঘুম পাড়ানির গান– অবশ্য সবকিছু মুছে গেছে বললেও ঠিক হবে না। পিছু ফিরেও এসেছে কিন্তু, বিবর্তিত হয়ে।
যেমন রূপকথা ছড়া গান। যদিও তাদের প্রাণহীন আড়ম্বরে মৌলিকত্ব আদৌ ‌কতটুকু অবশিষ্ট আছে বিষয়টি নিয়ে মননশীল বহু মানুষই চিন্তিত।
অনেকেই মনে করছেন, শিশু মনকে পরিনত করে তোলার জন্য‌ যে সামাজিক পরিসরের প্রয়োজন। তা-যেন ক্রমশই সংকুচিত হচ্ছে। কিন্তু সমস্যাটা কি শুধুই শিশুদের নিয়ে??? তা বোধ হয় না।

অনেক করনে চিত্রটা আরও বৃহত্তর— এই রূপকথা, রাক্ষসের গল্প, ছেলেভুলানো ছড়া কিংবা ঘুম পাড়ানোর গান অনেকটা ‌জীবন্ত জীবাশ্মের মত। মা ঠাকুমার দিদার কন্ঠে, এগুলো যুগ যুগ ধরে প্রবর্তিত হয়ে আসছে। মজার কথা কার্টুনের ব্যবসা ইতিপূর্বেও ছিল। তাদের সঙ্গে চিরায়িত সংস্কৃতির সংঘাত কি সেই ভাবে চোখে পড়েছিল???

বাণিজ্যিকীকরণের অভিপ্রায়, এবং সামাজিক অবক্ষয়, কার্টুন গুলোকে অনেক বেশি ক্ষতিকর করে ফেলেছে। গুরুত্ব হারিয়েছে সেই অনাবিল আনন্দ পরিবর্তে –শিক্ষক হয়েছে কংসের অবতার। স্কুলের ছাত্র হাতে তুলে নিয়েছে অস্ত্র।। সূক্ষ্মরূপে স্থান পেয়েছে বর্ন- বৈষম্য। উন্নাসিক আঞ্চলিকতা উদাসীনতার অন্তরালে ধীরে ধীরে প্রশস্ত হয়েছে সংঘাতের প্রেক্ষাপট।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—-তবে কি উত্তরণের সব রাস্তায় বন্ধ?? নাঃ আশার আলো এখনো হয়তো আছে। যদিও তার অনেকটাই নির্ভর করছে, পরিনিতিবোধ ও সামাজিক মূল্যবোধের উপরে। তাই গুরুত্বটুকুন উপলদ্ধি করতেই হবে। ভুলে গেলে মুশকিল— এই যুগসন্ধিক্ষণে– শুধু শিশুদের ভবিষ্যৎ নয়। আমাদের অস্তিত্বও একই অনিশ্চয়তার সম্মুখীন।।

 

লেখক: কলিম উদ্দিন

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ