সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন

বাংলা নববর্ষের ইতিবৃত্ত ও কিছু কথা
ab71tv ডেক্স / ১৯ Time View
Update : সোমবার, ২০ মে ২০২৪

১৪৩১ এর পহেলা বৈশাখের সন্ধ্যার অনুষঙ্গে মনের মধ্যে ফিরে আসছে নববর্ষের আরম্ভের আরম্ভ।
(কইতেরিওআরণ্যক) হিন্দু শাস্ত্রের এক গ্রন্থের মতে বঙ্গ শব্দের প্রমাণ মিলে , যথা ভাগীরথী এবং পদ্মার মাঝখানে ত্রিভুজ আকারের যে অববাহিকা সেটাকেই বঙ্গ বলা হত। (কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রের মতে )গ্রীক পন্ডিতের মতেও মৌর্যযগুপ্ত কর্তৃক আলেকজান্ডারের সেনাপতি সেলুকাসকে বাংলার কোন এক স্থান থেকে বিতাড়িত করা হয়। তখন এই বঙ্গদেশের নাম ছিল (বঙ্গ হৃদয়)। প্রথমে কোল পরে দ্রাবিড় এবং তারপরে আর্য জাতির মিশ্রণে বাঙালি জাতি বা শংকর জাতি হিসাবে বিবেচিত।কোন কোন ইতিহাসবিদ বলেন রাজা শশাঙ্কের সময় বাংলা সনের প্রচলন হয়। কেউ কেউ বলে আকবর বাদশার শাসনামলে বাংলার কৃষকরা গুলায় ফসল উঠানোর পর তার মসুল আদায়ের নির্দিষ্ট সময়ের সূচি নির্ধারণের জন্য সৌরবর্ষের সঙ্গে ফসলি সন মিলিয়ে নতুন এক সালের সূচনা করেন। কারো মতে এই বঙ্গে বাংলা সাল চালু করেন বাংলার শাসনকর্তা মুর্শিদকুলি খান। উল্লেখ্য বছরের প্রথম দিনটি ধার্য করা হয়েছিল আনুষ্ঠানিক ভূমি কর আদায়ের সূচী তৈরি হিসাবে। মোদ্দাকথা বাঙালির এই নববর্ষ আদতে চালু হয়েছিল শাসকদের কর আদায়ের বর্ষ হিসাবে। হাল আমলে আমাদের এই ভূখণ্ডে আটের দশকে এক অদ্ভুত ব্যাপার চালু করেন কয়েকজন সাংবাদিক, তদানীন্তন সামরিক সরকারের শাসনামলে খবরের কাগজে নিষেধাজ্ঞা ।অথচ হাজিরা দিতে হয় প্রতিদিন। সে সময় নববর্ষ কিভাবে পালন করা যায় ভাবতে ভাবতে স্থির করা হলো ঢাকা রমনার বটমূলে (আমরা বাঙালি) সংগঠনের নামে পান্তা ভাত আর ইলিশ ভাজার দোকান দেওয়া হবে সেই শুরু এখন যা নববর্ষে বিজ্ঞাপনের ভাষায় কায়িককঠিন প্রচলন। ঐদিন পাড়ায় পাড়ায় পান্তা ইলিশ এবং তৎসহ নানান মুখরোচক ভর্তার রেসিপি ছিল। আজ পাঁচতারা হোটেলেও আকাশ ছোঁয়া দামে বিক্রি হয় এই আহার্য বস্তু। বহুদিন না পড়া বইয়ের ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে চোখ পড়ল আজ বছরের শেষ দিন। জীবনের একটি বছর চলে গেল দেখে যুবক-যুবতীরা বিষন্ন হলেন। হতভাগ্য কয়েদির নির্দিষ্ট কালের এক বছর কেটে গেল দেখে আহ্লাদে ফেটে পড়লেন। কালের অতল গহ্বরে চলে গেল আরো একটি বছর। উপলব্ধি করি উনিশ শতকের অনবদ্য এই বর্ণনা, যেন আজকে মধ্যবিত্ত ও বাঙালির কথা জীবন যন্ত্রণা কে ভুলতে উৎসবের জন্য ধার করা ক্রেডিট কার্ডের টাকায় ফুর্তি করা আমরা বাঙালি। ইদানিং ফেসবুকে বাংলা বানান ভুল লিখছি দুঃখ লাগে। কষ্ট লাগে। বাংলার অসংখ্য গরিব মানুষের নিরুপায় প্রাত্যহিক আহার সামান্য পান্তার সম্বল টুকু আমরা তা বর্তমান কালচার হিসেবে জনপ্রিয় করার প্রয়াস পেয়েছি । কিন্তু দু লাইন বাংলা বলতে গিয়ে ইংরেজি মিশিয়ে দেই।বারো মাসে তেরো পার্বণে কথিত বাঙালি এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। হাড়ে হাড়ে বুঝছে জৌলুসের আড়ালে আসলে এবারে পহেলা বৈশাখ সবাইকে বলে গেল আপনার মুখ আপনি দেখো।।
পৃথিবীর ইতিহাস যুদ্ধ-বিগ্রের‌ ইতিহাস। মানুষের ইতিহাস খন্ডিত চেতনার ইতিহাস। মানুষ পরের স্বার্থে কাজ করে ভাববাদী কথা। প্রত্যেকটা মানুষই নিজের কল্যাণ চায়।মানুষ আত্ম কল্যাণ করতে গিয়ে প্রতিবেশীর অকল্যান করে। তথাপিও বাংলা নববর্ষ আমাদের জীবনে বয়ে আনুক সুখ শান্তি ও অনাবিল ‌আনন্দ। বিশ্ব মানবতায় ফিরে আসুক শান্তির ধারা ও সুখের স্পন্দন। মুছে যাক গ্লানি। ঘুচে যাক জরা ।অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।

 

লেখক- কলিম উদ্দিন

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ